বিশেষ প্রতিবেদন :
১। সকল সেনানিবাস ও জাতিসংঘ মিশনে মোতায়েন সেনা অফিসারদের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান,প্রথম অংশে অফিসারদের উদ্দেশ্যে প্রায় ৩৮ মিনিট বক্তব্য রাখেন এবং এরপর প্রায় ০১ ঘণ্টা অফিসারদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
২। এটি সেনা অফিসারদের সাথে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের একটি নিয়মিত মতবিনিময় সভা ছিল।
৩। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান,প্রাথমিক বক্তব্যে তিনি নিরলস ভাবে কাজ করে দেশের প্রতি দায়িত্ব পালনের জন্য সেনাবাহিনীর সকল সদস্যকে অভিনন্দন জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের মানুষ সেনাবাহিনী ও এর প্রত্যেক সদস্যের প্রতি সবসময়ই কৃতজ্ঞ থাকবে।
৪। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার
তার অন্যান্য বক্তব্যের পাশাপাশি নিম্নোক্ত বিষয় সমূহ নির্দিষ্ট ভাবে আলোচনা করেন:
ক ) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ কর্তৃক বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ হেন অপরাধের মাধ্যমে আমরা একদিকে যেমন আমাদের জীবনসঙ্গীদের সাথে প্রতারণা করি, অন্যদিকে আমাদের সন্তানদের জীবনকেও অযাচিতভাবে হুমকির মুখে ফেলি। তাই তিনি সকলকে সতর্কতার সাথে এরূপ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে এবং অধীনস্থদের কে ও বিরত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা দেন।
খ ) সেনা সদস্য কর্তৃক সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ মূলক কার্যক্রম নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অযাচিত প্রচারণা চলমান রয়েছে। প্রচলিত সেনা আইন ও প্রথা অনুযায়ী সেনা সদস্যবৃন্দ কর্তৃক সংঘটিত সকল অন্যায়েরই বিচার হয়ে থাকে। তবে সকলকে মনে রাখতে হবে যে, অপ্রতুল প্রমাণ এর ভিত্তিতে অপ্রয়োজনীয় দ্রুততার সাথে বিচার করলে তা ভুল হবার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রয়োজনীয় সময় নিয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ সংগ্রহ করত: চলমান সকল অভিযোগের বিষয়েই যথাযথ বিচারিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গ) সামাজিক মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও এর সদস্যদের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচারের বিষয়ে তিনি সকলকে ধৈর্য্য ধারণ করতে বলেন। তিনি বলেন যে, বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের বিভিন্ন স্বার্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে এমন কাজ করছে। এসবের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে পেশাদারী আচরণ করাই শ্রেয়। তবে এই সকল অপরাধ যথাযথভাবেই লিপিবদ্ধ থাকছে এবং উপযুক্ত সময়ে এই সকল দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘ) ইতোমধ্যে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হয়েছে এবং সরকার তা অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তিনি সকল সেনা সদস্যকে আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত হতে বলেন।
ঙ) বিভিন্ন দেশি-বিদেশি মহল বিভিন্ন হীন স্বার্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে misinformation ও disinformation ছড়াচ্ছে। তবে আমাদের unity ও পেশাদারী আচরণের কারণে তাদের হীন উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারেনি বলে জেনারেল ওয়াকার উল্লেখ করেন।
৫। এছাড়া জেনারেল ওয়াকারনিম্নোক্ত নিয়মিত বিষয় সমূহে আলোকপাত করেন:
ক ) সেনা প্রথা ও আইন অনুযায়ী সেনা সদস্যদের কে রাজনৈতিক বিষয়গুলি হতে দূরে থাকা।
খ ) মাদক হতে দূরে থাকা।
গ) ইন এইট টু সিভিল পাওয়ার কর্তব্য পালনের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করবার সময়ে কোন জীবনহানি বা আহত হবার ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে সতর্ক থাকা।
ঘ) যানবাহন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
ঙ) সেনা সদস্যদের মাঝে আত্মহত্যা করবার প্রবণতার বৃদ্ধি এবং এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
চ) পরিবারের প্রতি অধিক যত্নশীল হওয়া এবং সন্তানদের যথাযথভাবে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সহকারে গড়ে তোলা। বিশেষ করে সন্তানদের মাঝে আচরণ মুলক সমস্যা ও মাদকে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা।
৬। বিভিন্ন সেনা কর্মকর্তাদের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে নিম্নোক্ত বিষয়াদি আলোচিত হয়:
ক ) সেনা কর্মকর্তাদের বহিঃ দেশ ছুটি। এ বিষয়ে কেবিনেট এ বাহিনী প্রধান গন প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সেনা কর্মকর্তাদের বৈদেশিক ছুটিতে প্রেরণ করতে পারবে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে পিএসও এএফডি উল্লেখ করেন।
খ) জেএজি, আরভিএফসি ও এএমসি কোরের অফিসারদের পদোন্নতির জন্য ভ্যাকেন্সি বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচিত হয়।
গ) স্টাফ কলেজ প্রবেশিকা পরীক্ষার বয়স সীমার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়েছে বলে মাননীয় সেনাপ্রধান উল্লেখ করেন।
ঘ ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি কর্তৃক সেনাবাহিনী ও সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে করা কটুক্তির বিষয়টি একজন কর্মকর্তা উল্লেখ করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ জানান। এই প্রেক্ষিতে মাননীয় সেনা প্রধান পুনরায় সকলকে ধৈর্য্য ধারণ এবং উপযুক্ত সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে প্রেষণা প্রদান করেন।
৭।সবশেষে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
সকলকে united থাকতে নির্দেশনা প্রদান করেন এবং সবার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করে বক্তব্য শেষ করেন।