বিশেষ প্রতিবেদন :
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সোনাইমুড়ী উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ৩১ দফা লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিপূর্ব এক প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখেন দলের পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জনাব জয়নুল আবদিন ফারুক।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “সম্প্রতি দেশকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। অগ্নিকাণ্ডসহ একের পর এক নাশকতামূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে যে-ই থাকুক না কেন, জনগণ তাদের চিনে ফেলেছে। পতিত স্বৈরাচার কিংবা তাদের প্রেতাত্মাদের নেতৃত্বে যারা দেশবিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সর্বস্তরে সজাগ থাকতে হবে। বিএনপি সবসময়ই বিশ্বাস করে- দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করে, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে কিংবা নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে কখনোই রাজনীতি করা যায় না। যারা এখনো এই ভ্রান্ত চিন্তা করছে, তারা ভুল করছে।”
তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের সময় আমরা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ থেকে স্বৈরাচারকে পরাজিত করেছিলাম, সেই ঐক্য ও মনোবল আমাদের আজও ধরে রাখতে হবে। দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামে আমাদের ঐক্যই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি। মনে রাখতে রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্নতা থাকলেও, ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যে আমরা সবাই এক। আমরা নিজেদের ঐক্য বিনষ্ট করলে তাতে পতিত স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পাবে, যার প্রমাণ সাম্প্রতিক নানা ঘটনায় আমরা দেখেছি।”
ঐকমত্য কমিশন প্রসঙ্গে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন,
“এই কমিশন মূলত একধরনের গণপরিষদের মতোই কাজ করছে। এখানে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নিয়েছে, যুক্তি ও আলোচনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ছিল দীর্ঘ আলোচনা-প্রক্রিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল। বিভিন্ন মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে আমরা সবাই যে একই অবস্থানে, সেটাই এই সনদে আবারও প্রমাণিত হয়েছে।”
তবে তিনি এনসিপির অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের সামনের সারিতে থাকা তরুণদের নিয়ে গঠিত দল এনসিপি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল না, এটা আমাকে কিছুটা কষ্ট দিয়েছে। তবে আশার কথা হলো, ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে স্বাক্ষর না করা দলগুলো এখনো জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করতে পারবে। আমি বিশ্বাস করি, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এনসিপিও শিগগিরই এই ঐক্যমতের সনদে স্বাক্ষর করবে।”
সভায় নাটেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনসচেতনতা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।