বিশেষ প্রতিবেদন :
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, অতিবৃষ্টিতে বোরো ফসল নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও এ সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হবে।
আজ (মঙ্গলবার) সকালে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, হাওরাঞ্চলের উর্বর জমিতে উৎপাদিত ধান দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই অঞ্চলের কৃষকদের সহায়তা করা সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি সঠিক তালিকা প্রণয়ন ও দ্রুত সহায়তা পৌঁছানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের পরামর্শ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশীদ (ইয়াছিন)। তিনি জানান, হাওরাঞ্চলের কৃষি রক্ষায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি নেওয়া হবে। এর মধ্যে পরিকল্পিত খনন, স্লুইসগেট নির্মাণ, পানিতে ধান কাটার উপযোগী হারভেস্টার সরবরাহ, চারা ও সার বিতরণ এবং কৃষিঋণের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল তিতুমীর হাওর অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার ওপর জোর দিয়ে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এবিএম আবদুস সাত্তার জানান, হাওরাঞ্চলের কৃষক উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।
সিলেট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার আশরাফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ প্রশাসকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা অংশ নেন।
মতবিনিময় শেষে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত তিন মাসের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ত্রাণমন্ত্রী।
Leave a Reply