বিশেষ সংবাদ :
নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ প্রতিনিধি :
সাধারণত বর্ষাকালে ফোটে কদম ফুল। এজন্য কদম ফুলকে বর্ষাদূত বলা হয়। কদম বহুবর্ষজীবী গাছ।এ গাছের ˆবজ্ঞানিক নাম অ্যান্থোসেফালাস ইন্ডিকাস।কদম ফুল অন্যান্য ফুল থেকে ব্যতিক্রম বলে এ ফুলের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেশি। কদম শুধু প্রকৃতির শোভাবর্ধনই করে না। এর রয়েছে নানা ঔষধি গুণ।
বর্ষার আগেই গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে কদম ফুল। ছয় ঋতুর এই দেশ এখন আর নির্ধারিত সময় কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রাকৃতিক ঋতুবৈচিত্র্েযর সীমাবদ্ধতার নিয়ম ভেঙে দেশের অনেক জায়গায় গ্রীষ্মেই ফুটেছে বর্ষার আগমনী বার্তা বহনকারী ফুল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাধারণত বর্ষা এলেই কদম ফুল প্রকৃতিকে ভিন্ন এক রূপ দিত। এর সৌন্দর্য মনকে প্রশান্তি দিত, যা বছরের অন্য সময় চোখে পড়ত না।তবে এখন ঋতুর প্রকৃতি পাল্টে যাচ্ছে। এমনকি বর্ষা আসার আগেই এই ফুল ফুটছে।
প্রকৃতিপ্রেমী আওলাদ ভুইয়া বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কদমসহ দেশি গাছ লাগানোর উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন| দেশি গাছপালা সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে|’
ষড়ঋতুর এদেশে প্রতিটি ঋতুতেই কোনো না কোনো ফুল ফোটে| কোনো কোনো ফুল কোনো কোনো ঋতুর জন্য বিখ্যাত হয়ে ওঠে| এমনই এক ফুল কদম বর্ষা ঋতুর জন্য বিখ্যাত| কদম ফুলকে বর্ষার রানিও বলা হয়| তবে এ ফুল আষাঢ় মাসে ফোটার কথা থাকলেও ফুটেছে ˆজ্যষ্ঠের শুরুতেই| প্রকৃতির নিয়মের ছন্দপতনে বর্ষার আগেই গ্রীষ্মের প্রখর রোদের মাঝে ফুটতে দেখা গেছে স্নিগ্ধ কদম ফুল| বর্ষার আগমনী বার্তা হিসেবে পরিচিত এই ফুল প্রকৃতি ও ফুলপ্রেমীদের জন্য এক আনন্দদায়ক বিস্ময়| যা উষ্ণতার মাঝেও স্নিগ্ধতার ছোঁয়া ছড়ায়|উপজেলায় গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে কদম ফুল|
ঋতু হিসেবে বর্ষা আসতে কয়েক দিন বাকি| অথচ এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কদমের ডালে ডালে শোভা পাচ্ছে ফুলটি|
এদিকে, গাছে গাছে কদম ফুল ফুটতে দেখে অনেকে দৃশ্যগুলোকে বর্ষার আগমনী বার্তা হিসেবে গ্রহণ করছে| তবে কেউ কেউ রসিকতা করে এটাও বলছে, এপ্রিলে শুরু হওয়া ঘন ঘন বৃষ্টি হওয়ায় গ্রীষ্মকে বর্ষা ভেবে ভুল করে ডালে ডালে হাজির হয়েছে কদম ফুল|
তবে যা-ই হোক, ফুলটি বর্ষাকালে ফোটে—এটি সবাই জানে| এজন্য এ ফুলকে বর্ষাদূতও বলা হয়| তাইতো শিল্পীও গেয়ে ওঠে, ‘আমি ফুল কদম ডালে ফুটেছি বর্ষাকালে’| কিন্তু গান-কবিতার এইসব কথা এখন আর পুরোপুরি মিলছে না|
রূপগঞ্জের বেশকিছু এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কদম গাছ ছেয়ে গেছে ফুলে ফুলে| গোল, পুষ্পাধারে সরু ফুলের বিকীর্ণ বিন্যাস| তার সাদা-হলুদে মেশা মঞ্জরির সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে শিশুরা গাছ থেকে সংগ্রহ করছে ফুল|
উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও গ্রামীণ সড়ক, খাল-বিলের তীর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চত্বরে কদম গাছের উপস্থিতি রয়েছে| সেসব গাছের ডালে ফুটে থাকা ফুলের সমাবেশ দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে| কোনো কোনো স্থানে ভোরের আবহে ফুলগুলো আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে| এর সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের| তাই তা উপভোগ করতে অনেকে গাছের নিচে ভিড় করছে, স্মৃতিবন্দি করতে তুলছে ছবিও|
প্রাকৃতিক ঋতুবৈচিত্র্েযর সীমাবদ্ধতার নিয়ম ভেঙে প্রকৃতি রাঙিয়ে গ্রীষ্মেই ফুটেছে বর্ষার আগমনি বার্তা বহনকারী কদমফুল| আবহমানকাল থেকে কদম ফুল বর্ষাকালে ফুটতে দেখা গেলেও জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে গ্রীষ্মকালেই কদমফুল ফুটেছে| গাঢ় সবুজ পাতার ফাঁকে সাদা-হলুদ রঙের এ ফুলের অপরূপ শোভায় প্রকৃতি মনোমুগ্ধকর সাজে সেজে উঠেছে| অসময়ে ফোটা এ ফুলের ˆনসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন ছোট-বড় সবাই|
সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি অবাকও হচ্ছেন অনেকে| ভিন্ন সৌন্দর্যের এ ফুল গ্রামীণ প্রকৃতিকে অলংকৃত করেছে| এ ফুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে বিমোহিত হচ্ছেন ফুলপ্রেমীসহ সব বয়সী মানুষ| বিশেষ করে উঠতি বয়সী কিশোরী ও তরুণীদের খোপায় শোভা পাচ্ছে এ ফুল|
কৃষি কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানা জানান, কদম ফুল বাঙালি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ| প্রাচীনকাল থেকেই এ ফুলের প্রতি মানুষের একটা আবেগের জায়গা রয়েছে| কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাসেও কদম এসেছে বিভিন্নভাবে| তিনি বলেন, কদম সাধারণত বর্ষা মৌসুমে ফোটে। তবে পরিবেশ দূষণের কারণে জলবায়ুর পরিবর্তনে কদম ফুলকে গ্রীষ্মেও ফুটতে দেখা যায়।