বিশেষ প্রতিবেদন :
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় পরিবহনের পথে কাভার্ড ভ্যান থেকে ১৫ লাখ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় গ্রেফতারকৃত আসামির হেফাজত থেকে চুরি হওয়া ১৩ লাখ টাকা মূল্যের ২৪ কার্টুন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ০৪ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে চীন থেকে আমদানিকৃত ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী যার মধ্যে মাইক্রোফোন, মাইক্রোফোন স্ট্যান্ড, টেলিপ্রম্পটার, সফট বক্স, মোবাইল ফোন হোল্ডারসহ মোট ১,২৬০ (এক হাজার দুইশত ষাট) কার্টুন মালামাল রয়েছে বলে জানা যায়। উক্ত মামলার মালামালগুলো চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তিনটি কাভার্ড ভ্যানে করে ঢাকায় মেসার্স আবেদিন এন্টারপ্রাইজের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। ফিউচার প্লাস লজিস্টিকস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির মাধ্যমে পরিবহন করা এসব মালামালের আনুমানিক মোট মূল্য ছিল ৭০ লাখ টাকা।
পরদিন ০৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রাত ২টা ৩৫ মিনিটে কাভার্ড ভ্যানগুলো মেসার্স আবেদিন এন্টারপ্রাইজের গোডাউন, ৫, পুরানা পল্টন, থানা-পল্টন, ডিএমপি, ঢাকায় পৌঁছায়। এ সময় দুটি কাভার্ড ভ্যানের মালামাল যথাযথভাবে পাওয়া গেলেও মোঃ রাবিউল নামের চালকের মাধ্যমে পাঠানো চট্টগ্রাম মেট্রো-ট-১১-৯২৯৭ নম্বরের কাভার্ড ভ্যানে থাকা ৪১০ কার্টুন মালামালের মধ্যে ৩৪৩ কার্টুন পাওয়া যায়। অবশিষ্ট ৬৭ কার্টুন মালামাল, যার আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ টাকা, পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় মেসার্স আবেদিন এন্টারপ্রাইজের মালিকের পক্ষ থেকে মো. কুতুব উদ্দিন মজুমদার পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১১৯, তারিখ: ০২/১১/২০২৬ খ্রি.) করেন। জিডির তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডির একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরবর্তীতে আভিযানিক দলটি পল্টন থানা পুলিশের সহযোগিতায় গত ০২ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে মিরপুর থানাধীন দারুসসালাম রোডের পূর্ব পার্শে মিসকো সুপার মার্কেটের ৪০ নম্বর দোকান হাসান এন্টারপ্রাইজের সামনে পাকা রাস্তার ওপর অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মোঃ সুজন হোসেন (২১),পিতা: মো. গোলাম মোস্তফা, মাতা: সুমি বেগম, গ্রাম: রণগোপালদী, থানা: দশমিনা, জেলা: পটুয়াখালীকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার হেফাজত থেকে চুরি হওয়া ২৪ কার্টুন মালামাল, যার আনুমানিক মূল্য ১৩ লাখ টাকা, উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি ও উদ্ধারকৃত মালামাল পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পল্টন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় মো. কুতুব উদ্দিন মজুমদারের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে পল্টন থানার মামলা নং-০২, তারিখ: ০৩/১১/২০২৬ খ্রি., ধারা- ৪০৭/৩৭৯/৪১১ পেনাল কোডে মামলা রুজু হয়েছে।
চুরি হওয়া অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধার এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।