বিশেষ প্রতিবেদন :
হাতিরঝিল থানার বহুল আলোচিত তামিম হত্যা মামলার পলাতক আসামি মো. রায়হান শুভ (২৩)-কে ঘটনার প্রায় ৬ বছর পর গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মো. রায়হান শুভ (২৩), পিতা- মো. শহিদুল ইসলাম খোকন, মাতা- জেসমিন আক্তার, স্থায়ী সাং- দক্ষিণ নাজিরপুর, থানা- বানারীপাড়া, জেলা- বরিশাল।
৩০/০৪/২০২৬ খ্রি. তারিখ দিবাগত রাত আনুমানিক ০১:৪৫ ঘটিকার সময় সিআইডি ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ ও এলআইসি’র একটি যৌথ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলাবাগান থানাধীন ৮৬ নং সেন্ট্রাল রোডের একটি বাসায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে।
সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১২:৩০ ঘটিকার সময় হাতিরঝিল থানাধীন প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে মেইন রোডের ফুটপাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভিকটিম মো. তামিমের উপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এ সময় এজাহারনামীয় আসামি মো. সাব্বির ও মো. শাওনসহ অন্যান্য সহযোগীদের সাথে উপস্থিত থেকে গ্রেফতারকৃত আসামি রায়হান শুভ ভিকটিমকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে এবং এক পর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় ধারালো অস্ত্র দ্বারা আঘাত করে ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ভিকটিমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ক্রমে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬/১২/২০২০ খ্রি. তারিখ দুপুর আনুমানিক ০১:২৫ ঘটিকার সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২৭, তারিখ-১৬/১২/২০২০ খ্রি.)।
তদন্ত কার্যক্রম চলাকালে পূর্বে গ্রেফতারকৃত ২ জন আসামিদের দেওয়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রায়হান শুভ’র প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে। তারা জবানবন্দিতে উল্লেখ করে যে, ঘটনার সময় রায়হান শুভ অপরাধস্থলে উপস্থিত থেকে হত্যাকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।
উপর্যুক্ত তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা আসামিকে শনাক্তপূর্বক গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিআইডি গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে। একপর্যায়ে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার পরবর্তী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সাথে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেছে। উক্ত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং মামলার রহস্য উদঘাটন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের সনাক্ত ও গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply