বিশেষ প্রতিবেদন :
‘একাত্তরের পরাজিত শক্তি আর ৭ নভেম্বরের পরাজিত শক্তি দেশে ও বিদেশে বসে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বানচাল করার পাঁয়তারা করছে’, মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার বিকেলে কুমিল্লায় আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সরকার নির্বাচন দিতে চায় যথাসময়ে। আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচন কমিশন নির্বাচন দিতে চায় যথাসময়ে। তাদের আন্তরিকতা নিয়ে আমার প্রশ্ন নেই, কিন্তু তাদের আন্তরিকতা যথেষ্ট নয়। পরশু ভিপি নুরের ওপরে যে ঘটনা ঘটেছে, আজকে আদালত কর্তৃক ডাকসু নির্বাচন স্থগিত করা—আমাদের মনে হয়, আমরা আরেকটি যুদ্ধের সম্মুখীন হচ্ছি। একাত্তরের পরাজিত শক্তি আর আর ৭ নভেম্বরের পরাজিত শক্তি দেশে ও বিদেশে বসে তারা নির্বাচনকে বানচাল করার পাঁয়তারা করছে।’
গয়েশ্বর রায় আরও বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করেছি সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচনের জন্য। কিন্তু আমরা পিআর-এর (সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন) জন্য আন্দোলন করিনি। এই পিআর কি খায়, না মাথা দেয়—আমি জানি না। আমি ৬৪ বছর রাজনীতি করি, কিন্তু আজও বুঝলাম না পিআর কী জিনিস। তাহলে সাধারণ মানুষ বুঝবে কীভাবে? তার মানে এরা একটু বেশিই মাথায় উঠে গেছে। তারা ভাবছে যে ক্ষমতায় এসে পড়েছে। নির্বাচন না হলে তাদের লাভ।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে। সুতরাং কে প্রার্থী হবেন কে হবেন না, কে কত ফেস্টুন বানালেন কে বানালেন না, কে কত লোক নিয়ে আসছেন, কার কার নামে স্লোগান দেওয়ার জন্য—এটা কিন্তু যথেষ্ট নয়। বিএনপির বয়স ৪৭, বিএনপি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়াসহ ক্ষমতা ছিল প্রায় ১৪ বছর, বাকি সময়টা কিন্তু বিরোধী দলে ছিল বিএনপি। সুতরাং বিরোধী দলে থাকার অভিজ্ঞতাও বিএনপির অনেক। বড় বড় সুবিধাবাদী নেতারা অনেক সময় দল ত্যাগ করেছেন, কিন্তু তৃণমূলের কর্মীরা কখনো বিএনপির বিরুদ্ধে যায়নি, খালেদা জিয়াকে ছেড়ে যায়নি, তারেক রহমানকেও ছেড়ে যায়নি।’