বিশেষ প্রতিবেদন :
চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই থানাধীন পশ্চিম মায়ানী এলাকায় নিজ বাড়ির উঠানে বাবার হাতে ছেলে হত্যা মামলার প্রধান আসামী ঘাতক বাবা মোঃ নুরের জামান‘কে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম ও র্যাব-৯, সিলেট এর যৌথ আভিযানিক দল কর্তৃক গ্রেফতার।
১। বিবাদী মোঃ নুরের জাহান চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই থানাধীন ১৩নং মায়ানী ইউপির ০৮নং ওয়ার্ডস্থ পশ্চিম মায়ানী এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিগত ৩০/৩৫ বছর যাবৎ সৌদি আরব প্রবাসী। বিবাদীর পরিবার তার স্ত্রী কামরুল জাহান প্রকাশ কামরুজ জাহান তার দুই মেয়ে ও ভিকটিক ছেলে মোঃ শাহেদ‘কে নিয়ে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্থানে ০৭/০৮ বছর যাবৎ বসবাস করিয়া আসিতেছে। বাদী জানতে পারে যে গত ০৬/০৭ বছর যাবৎ তার স্বামী বিবাদী মোঃ নুরের জামান সৌদি আরবে অন্য এক মহিলাকে নিয়ে বসবাস করিতেছে। সৌদি আরবে মহিলাকে নিয়ে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বিবাদী উক্ত বিষকে নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ে কারনে অকারনে বাদীর উপর রাগ দেখিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতো এবং সন্তাদের ভরনপোষন দিতো না। সর্বশেষ বিবাদী গত ১৮ মে ২০২৫ দেশে আসে এবং বাদীর ভাড়া বাসায় উঠেন। গত ১১ আগষ্ট ২০২৫ ২য় মেয়ের বিয়েতে বিবাদী এক অজ্ঞাতনামা মহিলাকে নিয়ে আসে এবং মহিলাকে বন্ধুর স্ত্রীর পরিচয় দেয়। বিষয়টি নিয়ে বাদী এবং বিবাদীর মধ্যে বেশ কথা কাটাকাটি হয় এবং বিবাহ অনুষ্ঠান শেষে মহিলা চলে যায়। পরবর্তীতে গত ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বিয়েতে আসা ঐ অজ্ঞাতনামা মহিলাকে স্ত্রীর পরিচয়ে বিবাদীর স্বায়ী ঠিকানা মীরসরাই গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসছে বাদী জানতে পেরে গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ বাদী ও তার দুই মেয়ে এবং ভিকটিম ছেলে কে নিয়ে সন্ধ্যা আনুমানিক ০৬৪৫ ঘটিকায় গ্রামের বাড়িতে পৌছায়। বাদী এবং সন্তানেরা বাড়ির উঠানে যাওয়া মাত্রই বিবাদী ও অজ্ঞাতনামা মহিলা বাদীকে মারার জন্য হাতে ছুরি দিয়ে আঘাত করতে গেলে ভিকটিম তার মা বাদীকে বাচানোর জন্য ছুটে গেলে ছুরি দিয়ে ভিকটিমের শরীরের আঘাত করে বিবাদী দ্রুত পালিয়ে যায় এবং ভিকটিম গুরুত্বর রক্তাক্ত যখম হলে তাকে দ্রুত মীরসরাই উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার ভিকটিমকে মৃত ঘোষনা করে। উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনায় ভিকটিমের মা কামরুল জাহান প্রকাশ কামরুজ জাহান বাদী হয়ে চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই থানায় ঘাতক ভিকটিমের পিতা মোঃ নুরের জাহান ও একজন অজ্ঞাতনামাসহ উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৫, তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং, ধারাঃ-৩০২/১১৪ পেনাল কোড ১৮৬০।
২। এই হত্যাকান্ডের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হলে ব্যাপক আলোচিত হয়। উক্ত হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র্যাব গোয়েন্দা নজদারী বৃদ্ধি করে। পরবর্তীতে র্যাবের গোয়েন্দা নগজদারীতে জানা যায় বিবাদী সিলেট মহানগরীর দক্ষিন সুরমা থানাধীন হুমায়ুন রশিদ চত্তর এলাকায় অবস্থান করছে।
৩। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ সে্প্টেম্বর ২০২৫ তারিখে আনুমানক ১৭১০ ঘটিকায় র্যাব-৭, চট্টগ্রাম ও র্যাব-০৯, সিলেট এর যৌথ আভিযানিক দল সিলেট মহানগরীর দক্ষিন সুরমা থানাধীন হুমায়ুন রশিদ চত্তর সংলগ্ন ইউনিক বাস কাউন্টারের সামানে থেকে উক্ত হত্যাকান্ডের মূল আসামী মোঃ নুরের জামান (৫৫), পিতা-মৃত শামছুল আলম, সাং-পশ্চিম মায়ানী, থানা-মীরসরাই, জেলা-চট্টগ্রাম এবং আনুমানিক ১৮২০ ঘটিকায় সিলেট মহানগরীর দক্ষিন সুরমা থানাধীন হুমায়ুন রশিদ চত্তর সংলগ্ন হোটেল ঢাকা প্যালেস (আবাসিক) থেকে তদন্তে সন্দিগ্ধ পলাতক আসামী আনোয়ারা বেগম (৪০), পিতা-মৃত আরজু মিয়া সাং-হাজারী ভাইটগ্রাম, থানা-জৈন্তাপুর, জেলা-সিলেটদ্বয়‘কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
৪। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।