বিশেষ প্রতিবেদন :
👉 অভিযান ০১:
পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা প্রদানে হয়রানি ও নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পিরোজপুর কর্তৃক অপর একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা প্রদান সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হয়।
অভিযানকালে দেখা যায়, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য সরবরাহকৃত খাবারের মান নিম্নমানের এবং পরিমাণেও অপর্যাপ্ত। এ প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয় এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীকে লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়। এছাড়া হাসপাতালের প্যাথলজি পরীক্ষার রেজিস্টার পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, প্রয়োজনীয় রিএজেন্টের অপ্রতুলতার কারণে অদ্যাবধি মাত্র ০৩ (তিন)টি প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা প্রদানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। অভিযানকালে হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা অবস্থায় পাওয়া যায়। অভিযানকালে প্রাপ্ত তথ্যাবলির প্রেক্ষিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত টিম কর্তৃক কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
👉 অভিযান ০২:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ -এর একটি এনফোর্সমেন্ট টিম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে প্রাথমিকভাবে সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, বিগত প্রায় ১৫ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিয়োগ প্রদানসহ পদোন্নতি ও স্থায়ীকরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লিখিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় ৯টি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে প্রভাষক পদে ফিন্যান্স বিভাগে প্রো-ভিসি (একাডেমিক) এর কন্যা, ক্রিমিনোলজি বিভাগে প্রো-ভিসি (প্রশাসন) এর ভাগ্নে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ পদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের ভাইয়ের নিয়োগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ এবং ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে বিভাগীয় প্লানিং কমিটির সুপারিশ ব্যতিরেকে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন রেকর্ডপত্র খতিয়ে দেখা হয়েছে। বিভাগীয় প্লানিং কমিটির অনুমোদন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের অনুমোদন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, বিজ্ঞাপিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ, বিভাগীয় প্লানিং কমিটির সুপারিশ প্রদান, গঠিত সিলেকশন বোর্ডের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া (যোগ্য প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার উত্তরপত্র, নম্বরপত্র, প্রেজেন্টেশনসহ প্রযোজ্য অন্যান্য ধাপ) এবং চূড়ান্ত নিয়োগের প্রতিটি পর্যায়ে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি সংঘটিত হয়েছে কিনা—তা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। সংগৃহীত রেকর্ডপত্রের আলোকে অভিযোগসমূহ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।