বিশেষ প্রতিবেদন :
👉 অভিযান ০১:
নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা প্রদানে হয়রানি এবং বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল-ভাউচার প্রস্তুতের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতসহ নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ময়মনসিংহ হতে গতকাল একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে এনফোর্সমেন্ট টিম বর্ণিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা প্রদানের সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করে। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রোগীদের জন্য প্রদত্ত পথ্যে নির্ধারিত ডায়েট চার্টে উল্লেখিত পরিমাণের তুলনায় কম খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়াও, অভিযানকালে বিভিন্ন খাতে বিল-ভাউচার সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত তথ্যাদি পর্যালোচনাপূর্বক টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
👉 অভিযান ০২:
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি সনাক্তকরণ কার্যক্রমে স্থবিরতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয় হতে অপর একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে টিম পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করে। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদে বিপুল পরিমাণে জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। প্রাপ্ত তথ্য ও নথিপত্র বিশ্লেষণপূর্বক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
👉 অভিযান ০৩:
রাজা গিরিশচন্দ্র মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজ, সিলেট -এ নানাবিধ দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, সিলেট হতে গতকাল একটি এনফোর্সমেন্ট টিম কর্তৃক একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ মোট ১৬ জন শিক্ষক এবং ৫ জন কর্মচারীর বেতন বিবরণী পর্যালোচনা করা হয়। বেতন বিবরণী পর্যালোচনাকালে দেখা যায় যে, এমপিও অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল মুমিতের মূল (বেসিক) বেতন ৪২,৮৯০/- টাকা। সরকার কর্তৃক বাড়িভাড়া বাবদ ১,০০০/- টাকা প্রদান করা হলেও বিদ্যালয়ের রেজুলেশন অনুযায়ী বিদ্যালয় হতে মূল বেসিকের সর্বোচ্চ ৪৫% হারে বাড়িভাড়া প্রদানযোগ্য। অথচ প্রধান শিক্ষক সরকার প্রদত্ত বাড়িভাড়াসহ মূল বেসিকের ৪৫% অর্থকে একত্রিত করে নতুনভাবে বেসিক ৬১,৯৭০/- টাকা নির্ধারণ করে উক্ত টাকার ভিত্তিতে বেতন ও অন্যান্য ভাতাদি উত্তোলন করেছেন। একইভাবে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও বিদ্যালয় প্রদত্ত সম্মানী ভাতাকে এমপিওভুক্ত মূল বেসিকের সাথে সংযুক্ত করে নতুন বেসিক নির্ধারণপূর্বক বেতন ও ভাতাদি উত্তোলন করা হয়েছে। যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধি-বিধানের পরিপন্থি মর্মে প্রতীয়মান হয়। অভিযানকালে প্রাপ্ত ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের তথ্য-প্রমাণের প্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের টিম কর্তৃক কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।