বিশেষ প্রতিবেদন :
সংসদে চট্টগ্রামের ভয়াবহ জলাবদ্ধতা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে এ সমস্যা নিরসনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সংবাদ মাধ্যমে আমিও দেখেছি অতিবর্ষণের কারণে বিভিন্নভাবে চট্টগ্রাম শহরের বেশ একটি বড় অংশ তলিয়ে গিয়েছে, মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। এই সমস্যাটি শুধু চট্টগ্রামে নয়, এই সমস্যাটি বলা যায় সারাদেশেই ছড়িয়ে আছে। এটির সাথে আমাদের অনেক কিছু নির্ভর করছে। ঢাকা শহরে এরকম অনেকগুলো বিষয় আছে যেখানে একটু বৃষ্টিতেই পানি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আটকে যাচ্ছে, জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, এটি অনেক দিনের সমস্যা আমাদের। এই বিষয়ে একজন রাজনীতিবিদ, একজন বিশেষজ্ঞ ছিলেন উনি হচ্ছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। যিনি যিনি সমগ্র বাংলাদেশে খাল খননের মাধ্যমে যেমন পানির রিজার্ভার তৈরি করেছিলেন একইভাবে বন্যা বা জলবদ্ধতাও দূর করেছিলেন। আমাদেরকে ঠিক একই কাজে আবার ফিরে যেতে হবে। বর্তমান সরকার কর্মসূচিটি নিয়েছে খাল খনন কর্মসূচি সারাদেশে এটি করা সম্ভব। সারাদেশে আমরা এই কাজটিও শুরু করেছি। শহর অঞ্চলগুলোতে যে লেক,ড্রেন, বড় নালা, খালগুলো আছে। এগুলো আমরা বিভিন্ন জিনিস যেমন প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন দিয়ে ভরাট করে ফেলি। বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে পরিষ্কার করছে আবার মানুষজন অসচেতন ভাবে এগুলোতে বিভিন্ন ময়লা ফেলে জিনিসগুলোকে ব্লক করে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমি অন্যান্য এলাকায়ও যারা সংসদ সদস্য আছেন তাদের সাথে আলাপ করেছি। এটি একটি বিরাট সমস্যা। আমি মনে করি সরকার উদ্যোগ নিবে, অবশ্যই নিচ্ছে, আরো নেবে। একই সাথে আপনার সকলের কাছে আমার একটি বিনীত অনুরোধ থাকবে আসুন আমরা জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করি, সচেতনতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে কিন্তু এই সমস্যাটা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। জনমত তৈরি করার মাধ্যমে, সচেতনতা তৈরি করার মাধ্যমে অনেকাংশে এই সমস্যাটার সমাধান করতে পারব। প্লাস্টিক বোতল বা পলিথিন বা আরো এই ধরনের যে দ্রব্য আছে, যেগুলো দিয়ে ড্রেন, নালা, খালগুলো ব্লক হয়ে যায়, এগুলো কিভাবে আমরা ব্যবহার কমাতে পারি অথবা ব্যবহার করার পরে এগুলোকে প্রপারলি কিভাবে ডিসপোজ করতে পারি এই বিষয়ে জনসচেতনা বৃদ্ধি করতে হবে। আমাদের একটি নৈতিক দায়িত্ব আছে। এই বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের যে প্রশাসক আছে উনার সাথে আমার কথা হয়েছে। উনি এর মধ্যেই চেষ্টা করছেন। কিন্তু এখন তো এটা অনেক বড় একটা ওয়াটার লক হয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে একটু সময় লাগবে। এই কষ্টের জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে, চট্টগ্রাম শহরে বসবাসকারী সকল নাগরিকের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যাটা থেকে মানুষকে মুক্ত করতে।
Leave a Reply