বিশেষ প্রতিবেদন :
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘SZHMT শ্রেষ্ঠ সুফি গবেষক পুরস্কার ২০২৬’ (SZHMT Best Sufi Researcher Award Ceremony 2026) শীর্ষক অনুষ্ঠান আজ সোমবার (২৯ জুন ২০২৬) সকাল ১০টায় চবি ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (ক.) ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় এই পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ও মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সুফিবাদের উদার, মানবিক ও আধ্যাত্মিক দর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সমাজে শান্তি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের গবেষণামূলক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। মাননীয় উপাচার্য বলেন, আমি মনে করি, সুফিবাদ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয় নয়; বরং এটি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ ও পরমতসহিষ্ণুতা সৃষ্টির একটি আদর্শিক দর্শন। দলমত ও ধর্মবিশ্বাস নির্বিশেষে মানুষ যেভাবে মাইজভান্ডার শরীফে গমন করে, তা এক ঐতিহাসিক সত্য। এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সৃষ্টিতে গাউসুল আজম হযরত মাওলানা শাহসূফী সৈয়দ আহমদুল্লাহ (কঃ) এবং শাহেনশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (কঃ)-এর অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আজকের এই ‘সুফি রিসার্চার বেস্ট অ্যাওয়ার্ড’ ও গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও সৌভাগ্যবান মনে করছি। আজ যে ১১ জন গবেষক তাদের গবেষণার জন্য এই অনুদান পাচ্ছেন, তাদের মনে রাখা দরকার—এই ফান্ডটি সাধারণ কোনো অর্থ নয়। এটি আপামর ধনী-দরিদ্র মানুষের ভক্তি ও দানের টাকায় গঠিত। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ অনেক সময় জীবন ধারণের প্রয়োজনে মন্দের সাথে আপস করে (Accommodation); কিন্তু একজন প্রকৃত সুফি বা আদর্শ গবেষকের নীতি হওয়া উচিত ‘থিওরি অফ নেগেশন’। অর্থাৎ, যা কিছু মন্দ, যা কিছু অসত্য ও কলুষিত—তাকে শক্তভাবে বর্জন করা। আমি আশা করব, এই ট্রাস্টের ফান্ড ব্যবহার করে আপনারা আপনাদের গবেষণায় এই বর্জন নীতি ও সততা বজায় রাখবেন। সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপ-উপাচার্য) প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সুফিজম বা আধ্যাত্মিকতা মানুষের আত্মশুদ্ধি ঘটায়। যার ভেতর আধ্যাত্মিক চেতনা থাকে, সে কখনো অন্যায়, দুর্নীতি বা বিশৃঙ্খল কাজের সাথে যুক্ত হতে পারে না। আমরা শান্তিতে দুই ভাগে ভাগ করি—একটি হলো ‘নেতিবাচক শান্তি’ যা শক্তির জোরে প্রতিষ্ঠা করা হয়; অন্যটি হলো ‘ইতিবাচক শান্তি’, যা সামাজিক ও মানব উন্নয়নের মাধ্যমে অর্জিত হয়। শাহেনশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী ট্রাস্ট শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজে সেই ‘ইতিবাচক শান্তি’ প্রতিষ্ঠার কাজটিই করে যাচ্ছে।
SZHM ট্রাস্টের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ট্রাস্টের সচিব অধ্যাপক এ ওয়াই এমডি জাফর। মাইজভান্ডারি দর্শন ও সুফি মতবাদের বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাফর উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে ১১ জন গবেষক তাদের গবেষণা সম্পর্কে সংক্ষেপে তুলে ধরেন এবং অনুষ্ঠানে তাদের সম্মাননা পুরস্কার ও সনদ প্রদান করা হয়। ১১ জন গবেষক হলেন, চবি ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রফেসর ড. মো. নুরে আলম, চবি রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ.জি.এম নিয়াজ উদ্দিন, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের মো. জাহেদুল ইসলাম; পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মো. জোনেয়েত সাজ্জাদ; চবি ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সুমাইয়া ইশরাত রাফি; চবি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মো. মোজাম্মেল হোসেন; যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়স্থ নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রিজওয়ানুল ইসলাম; চবি সঙ্গীত বিভাগের প্রেমা চৌধুরী; বরিশালের সরকারি ফজলুল হক কলেজের প্রভাষক মো. গোলাম রাব্বী; প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মোহাম্মদ সাজিবুল হাসান চৌধুরী এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ডিসিপ্লিনের মো. সেফাতুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে চবির বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (ক.) ট্রাস্টের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত গবেষকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন চবি রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. বখতেয়ার উদ্দীন ও চবি ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট এর সহকারী অধ্যাপক কিশোয়ার জাহান চৌধুরী।