বিশেষ প্রতিবেদন :
“স্মৃতির পাতায় প্রাণের স্পন্দন, পঁচিশের গৌরবে বায়োকেমিস্টদের মেলবন্ধন” প্রতিপাদ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ এবং চিটাগং ইউনিভার্সিটি বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (CBMA)-এর যৌথ উদ্যোগে বিভাগের পঁচিশ বছর পূর্তি রজতজয়ন্তী উৎসব উপলক্ষে আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১০টায় জীববিজ্ঞান অনুষদ প্রাঙ্গণে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে রজতজয়ন্তী উৎসব উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। এরপর মাননীয় উপাচার্য অতিথিদের নিয়ে রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানের কেক কাটেন। এরপর শুরু হয় আলোচনাপর্ব। আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চবি মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সবাইকে স্বাগত জানান। উপাচার্য নিজের শিক্ষকতা জীবনের প্রথমদিকের দিনগুলো স্মৃতিচারণ করেন এবং তাঁর শিক্ষকদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি ও বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের নানা চড়াই উৎরাই পাড়ি আজকের গৌরবান্বিত জায়গায় আসার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন উপাচার্য। উপাচার্য বলেন, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। গবেষণা ও উচ্চ শিক্ষায় এ বিভাগের বিশেষ অবদান রয়েছে। সাবেক শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন চবি উপাচার্য। উপাচার্য প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান মাননীয় উপাচার্য।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ বিভাগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। এ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীরা ভালো জায়গায় রয়েছে। সাবেকদেরও বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসার উৎসাহ প্রদান করেন তিনি। মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. গোলাম কিবরিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের বর্তমান সভাপতি ও রজতজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. কাঞ্চন চাকমা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, চবি মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. মো. নুরল আনোয়ার, বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. দ্বৈপায়ন সিকদার, প্রফেসর ড. মু. গোলাম কবীর, প্রফেসর ড. চৌধুরী মোহাম্মদ মনিরুল হাসান, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন ও রজতজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব আবু ছৈয়দ মোহাম্মাদ মুজিব।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এবং সাবেক শিক্ষার্থী ও সিনিয়র সহকারী সচিব মুনতাসির জাহান সুমি। ধর্মগ্রন্থ থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর জাতীয় পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং সম্মননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। আলোচনা সভা শেষে বর্ণাঢ়্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। রজতজয়ন্তী উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ বিভাগের শিক্ষা, গবেষণা এবং জাতীয় পর্যায়ে অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিভাগের বর্তমান ও প্রাক্তন স্নাতক, স্নাতকোত্তর (এমফিল-পিইচডি) শিক্ষার্থী, শিক্ষক-গবেষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বিভাগের ২৫ বছরের গৌরবময় অর্জন স্মরণ করে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে অ্যালামনাই সদস্যদের অংশগ্রহণে স্মৃতিচারণ পর্ব অনুষ্ঠানকে আরও সুন্দর এবং প্রাণবন্ত করে তোলে। উৎসবের অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে ছিল স্মৃতিচারণ, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রীতি সম্মিলন, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।
Leave a Reply