বিশেষ প্রতিবেদন :
পুলিশে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- (০১) মো. শাফায়েত হোসেন শেখ (৫৫), পিতা- মৃত আবু বক্কর শেখ, সাং- গ্রাম রাতইল, থানা- কাশিয়ানী, জেলা- গোপালগঞ্জ এবং (০২) এনামুল হক আকবর (৬৩), পিতা- মৃত সিরাজউদ্দিন মোল্লা, সাং- পারচন্দ্র, থানা- দিঘলিয়া, জেলা- গোপালগঞ্জ। এদের মধ্যে শাফায়েত হোসেন নিজেকে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে সিআইডির ঢাকা মেট্রো-পশ্চিম বিভাগের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার ড. রুহুল আমিন সরকারের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল রাজারবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানা যয়, গ্রেফতারকৃতরা বাংলাদেশ পুলিশের চলমান নিয়োগ কার্যক্রমে বিভিন্ন ধাপে বাদ পড়া প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করত। পরবর্তীতে তারা ওই প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের প্রভাবশালী ব্যক্তি বা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করত এবং পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তকরে পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তার মিথ্যা আশ্বাস দিত। চাকরি নিশ্চিত করার প্রলোভন দেখিয়ে তারা প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করত।
তদন্তে আরও জানা যায়, চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা অর্জনের জন্য চক্রটি বিশেষ কৌশল অবলম্বন করত। তারা অগ্রিম অর্থ গ্রহণের পূর্বে নিজেদের ব্যাংক চেক জামানতের নিরাপত্তা হিসেবে প্রদান করত, যাতে ভুক্তভোগীরা প্রতারণার বিষয়টি সহজে বুঝতে না পারে। এরই ধারাবাহিকতায় এক চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা গ্রহণের উদ্দেশ্যে তারা যোগাযোগ করে এবং চাকরি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেয়। প্রার্থীর বিশ্বাস অর্জনের জন্য অভিযুক্ত শাফায়েত হোসেন নিজের স্বাক্ষর করা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ৫ লক্ষ টাকার একটি চেক তার নিকট প্রদান করেন। একই সঙ্গে চাকরির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার কথা বলে তাকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য নিয়ে আসা হয়।
পূর্ব তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডির মেট্রো-পশ্চিম বিভাগের একটি চৌকস দল রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল এলাকায় নজরদারি স্থাপন করে। একপর্যায়ে প্রতারক চক্রটি চাকরিপ্রার্থীকে নিয়ে তথাকথিত মেডিকেল পরীক্ষার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে এলে সিআইডি সদস্যরা তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৪.৫ লাখ টাকা এবং চাকরিপ্রার্থীকে দেওয়া ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ৫ লক্ষ টাকার স্বাক্ষরিত চেকটি জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায় গ্রেফতারকৃত মো. শাফায়েত হোসেন শেখ এর বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি, প্রতারণা এবং খুনের ঘটনায় মোট ৩টি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত শাফায়েতের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট দাবির বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না এবং আরও কোনো ভুক্তভোগী রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।