বিশেষ সংবাদ :
(মনজুরুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি)
“উন্নয়ন মানে শুধু ইট-কাঠের অবকাঠামো নয়, মানুষের জীবনমানের প্রকৃত পরিবর্তন”—এই বিশ্বাসকে পাথেয় করে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ৪ নম্বর দৌলতপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও অনুকরণীয় ইউনিয়নে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখছেন মো. রাজিব হোসেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
ছাত্রদল থেকে শুরু হওয়া রাজিব হোসেনের রাজনৈতিক জীবন আজ পৌঁছেছে এক পরিণত পর্যায়ে। তিনি দৌলতপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি, বেলকুচি সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি এবং বেলকুচি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক গণশিক্ষা সম্পাদক হিসেবে কাজ করা এই নেতা বর্তমানে বেলকুচি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে আছেন।
তাঁর ভাষ্যে, “রাজনীতি আমার কাছে কেবল একটি পরিচয় নয়; এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও এলাকার কল্যাণে ভূমিকা রাখার একটি মাধ্যম।”
নির্বাচিত হলে যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার
চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন ও পরবর্তীতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে দৌলতপুর ইউনিয়নের সার্বিক কল্যাণে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন রাজিব হোসেন—
মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গঠন: তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় প্রতিটি ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা এবং শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করা।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ: বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও ভিজিডি কার্ডসহ সরকারি সকল সুবিধা প্রকৃত ও যোগ্য উপকারভোগীদের কাছে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করা।
শিক্ষার মানোন্নয়ন: ইউনিয়নের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি ও সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ।
স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্যকরণ: কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে নিয়মিত সেবা নিশ্চিতকরণসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ।
রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়ন: ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট মেরামত ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন।
কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পাশে থাকা: ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ শর্তে সহায়তার ব্যবস্থা।
নারীর ক্ষমতায়ন: নারীদের স্বনির্ভর করে তুলতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।
স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন: পরিষদের প্রতিটি সিদ্ধান্তে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা।
রাজিব হোসেন বলেন, “দৌলতপুর আমার নিজের এলাকা। এই মাটির মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে আছি। জনগণ যদি আমার ওপর আস্থা রাখেন, তাহলে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন, মাদকমুক্ত ও আধুনিক দৌলতপুর গড়ে তোলাই হবে আমার একমাত্র লক্ষ্য।”
স্থানীয় জনসাধারণেরও মনে রাজিব হোসেন চেয়ারম্যান হলে দৌলতপুর ইউনিয়নের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে এবং আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটবে।