1. abdullahharun2014@gmail.com : dailysarabela24 :
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
দৈনিক সারাবেলা ২৪ , সত্য সংবাদ প্রকাশে আপোষহীন visit . www.dailysarabela24.com অনলাইন ভিত্তিক নিউজ পোর্টাল সংবাদ পড়ুন ও মন্তব্য করুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের এড দিন , সংবাদ প্রকাশের জন্য যোগাযোগ করুন - ০১৯৭১-৮৪১৬৪২,০১৩২২-১৭৫০৫২
সংবাদ শিরোনাম:
বিএনপির সঙ্গে আইআরআই প্রতিনিধি দলের বৈঠক বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরেরা জুলাই দিবস মানে না, বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জুলাই শহিদ দিবস পালিত হয়নি ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবি সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান অভিযান চালিয়ে ১ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকার মাদক আটক রূপগঞ্জে সাহাপুর-মুশরী-তেলিপাড়া খাল সংস্কার কাজের উদ্বোধন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম মাতারবাড়িতে অবস্থিত ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মাতারবাড়ি আলট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বড় সাজ্জাদের ফুফাতো ভাই ও সহযোগী সন্ত্রাসী গোলাম সারোয়ার খানকে ঢাকার ডিবি পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার রূপগঞ্জে ৮৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার দৌলতপুর ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন স্বপ্ন বুনছেন রাজিব হোসেন জুলাই যোদ্ধাদের সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৭ বার ভিউ

বিশেষ প্রতিবেদন :

তারিখ: ৯ জুলাই ২০২৬

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
বিপ্লব, ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক রাহবার ও উলামায়ে কেরামের স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রাম জেলার ঐতিহাসিক জনপদ ফটিকছড়ির বাবুনগর পুণ্যভূমিতে আপনার শুভ আগমন উপলক্ষে উলামায়ে কেরাম এবং জনগণের পক্ষ থেকে আপনাকে জানাই আমাদের প্রাণঢালা মহব্বত ও আন্তরিক মোবারকবাদ।

শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ., আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী রহ. এবং ইসলাম ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রামে আত্মত্যাগী সকল শহীদদের।

ফটিকছড়ি কেবল ভৌগোলিক সমন্বয়ে গঠিত কোনো এলাকা নয়; এটি এদেশের দ্বীনি শিক্ষা, ইসলামী সংস্কার ও আধ্যাত্মিক সাধনার এক ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রস্থল। বাবুনগর মাদরাসা ও আশপাশের দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ দীর্ঘকাল ধরে দ্বীনের রাহবার আলেম গঠন , বিশুদ্ধ আকিদা চর্চা ও সমাজ সংস্কারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক আমির শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহ. এবং বর্তমান দেশের শীর্ষ আলেমে দ্বীন, আমিরে হেফাজত আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী দা.বা.-এর মতো প্রবীণ ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে এই অঞ্চলটি সমকালীন ইসলামী অন্যতম প্রধান মারকাজ হিসেবে স্বীকৃত। আজ আপনার এই শুভ আগমন এই অঞ্চলের ইতিহাস ও রাজনৈতিক পরিক্রমায় এক নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, জুলাই বিপ্লব, ২০১৩ সালের নান্তিক্যবাদ বিরোধী লড়াই,
বাঙালি মুসলিম সমাজের ধর্মীয় চেতনা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে আলেম সমাজের ভূমিকা সর্বদাই ছিল সুদৃঢ় ও অবিচল। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, আপনার শ্রদ্ধেয় পিতা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (রহ.) সংবিধানের শুরুতে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাআলার ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস
সংযোজন করে এবং জাতীয় রাজনৈতিক ধারায় ইসলামী মূল্যবোধকে সম্মানের স্থানে বসিয়ে এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী স্থান করে নিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে আপনার মহীয়সী মাতা, দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া সর্বদা এদেশের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক সমমর্মিতা প্রদর্শন করেছেন। জাতীয় সংকটকালে, বিশেষ করে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহমর্মিতা আলেম সমাজ আজও গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে। শহীদ জিয়া পরিবারের সাথে এদেশের আলেমসমাজ ও তৌহিদী জনতার এই যে আত্মিক ও নৈতিক বন্ধন, তা কেবল রাজনীতির সমীকরণে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক সুদৃঢ় প্রাচীর।

আজ আপনি যখন জাতীয় নেতৃত্বের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হয়ে এদেশের আলেম সমাজের প্রধান মুরুব্বি আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী দা.বা.-এর সঙ্গে সাক্ষাত করতে জামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরের এই দ্বীনি আঙিনায় উপস্থিত হয়েছেন, তখন আমরা অনুধাবন করতে পারছি যে, ঐতিহ্যগত সেই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আরও জোরদার ও সুসংহত হচ্ছে। আপনার এই সফর প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণে নৈতিকতা, ন্যায়বিচার এবং উলামায়ে কেরামের সৎ পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার গুরুত্ব অপরিহার্য।

হে জননেতা,
বর্তমান বাংলাদেশ এক নতুন সম্ভাবনার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। দেশের এই পরিবর্তনশীল সময়ে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কোনো দেশ তার নিজস্ব ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও আলেম সমাজকে দূরে ঠেলে অগ্রগতি অর্জন করতে পারে না। রাষ্ট্র পরিচালনায় আলেম-ওলামার প্রজ্ঞা ও দিকনির্দেশনা যুক্ত হলে দেশে ইনসাফ, সাম্য, শান্তি ও সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ থাকে।

আজকের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আপনার কাছে হেফাজতের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি পেশ করেছি:

১. মহান আল্লাহ, রাসূল সা., পবিত্র কুরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা।

২. কুরআন সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক কোন আইন পাস না করা।

৩. ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে রাতের আঁধারে নৃশংস গণহত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা। ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের নারকীয় হত্যাযজ্ঞে জড়িত, হুকুমের আসামী ও খুনিদের বিচার নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার কায়েম করা।

৪. দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করার মাধ্যমে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য দেশ-বিদেশের সর্বত্রে কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচন করা। বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে সরকারি চাকুরির বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে সরকারি মাদরাসার ডিগ্রির পাশাপাশি কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্সের সমমান) ডিগ্রির উল্লেখ করা।

৫. শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।

৬. চরম দ্বীন বিকৃতিকারী কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা ও হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা।

৭. পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশি-বিদেশি মিশনারিগুলোর ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধ করা।

৮. আলেমদের বিরুদ্ধে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ের মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে এদেশের আলেম-ওলামাকে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করা।

৯.বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের কার্যক্রম ও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা উলামায়ে কেরামের তত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে।
ভারতের বিতর্কিত মাওলানা সা’দ সাহেবের বাংলাদেশে আগমনে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা। টঙ্গী ময়দানে সাদ পন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়া।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনার ফটিকছড়ি সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সফর নয়; এটি দ্বীন ও রাষ্ট্রের মেলবন্ধনের এক অনন্য স্মারক। আপনার এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও আলেম সমাজের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এদেশের তৌহিদী জনতাকে একতাবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করবে।

আমরা মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, তিনি যেন আপনার এই সফরকে কামিয়াব, ফলপ্রসূ এবং নিরাপদ করেন। পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা আপনাকে নেক হায়াত দান করুন, সহিহ সালামাতে রাখুন, আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তৌফিক দান করুন এবং আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি স্বাবলম্বী, ন্যায়ভিত্তিক ও নৈতিক শক্তিতে বলীয়ান রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার হিম্মত দান করুন। দেশীয়- আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রকারীদের দুশমনি থেকে আল্লাহ আপনাকে হিফাজত করুন আমীন।

অভিনন্দনে,

মুহাম্মাদ সাজেদুর রহমান
মহাসচিব
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ©2024 -2026-ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Desing & Developed BY ThemeNeed.com