বিশেষ সংবাদ :
(প্রতিবেদক এম এ হান্নান )
ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকা থেকে চাঁদপুর, বরিশাল হয়ে মোড়লগঞ্জ ও মংলা পর্যন্ত চলাচল করতো ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল স্টিমার বা ‘রকেট’ সার্ভিস (যেমন— পি এস মাহসুদ, পি এস লেপচা, পি এস অস্ট্রিচ ও গাজী ইত্যাদি)। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত এবং পর্যটকদের কাছে এই জলযানগুলোর একটি অন্যরকম সোনালী ইতিহাস রয়েছে।
বর্তমান অবস্থা ও পুনরায় চালুর সম্ভাবনা
রুট সংকুচিত হওয়া: নদীগুলোতে নাব্য সংকট, মাত্রাতিরিক্ত লোকসান, এবং আধুনিক দ্রুতগতির নৌযানের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারায় ক্রমান্বয়ে এই রকেট সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। একসময় মোংলা ও মোড়লগঞ্জ পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করলেও দীর্ঘদিন ধরে এই রুটে প্যাডেল স্টিমার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
বর্তমান কার্যক্রম: বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) তাদের ঐতিহ্যবাহী জলযানগুলোর মধ্যে কেবল ‘পি এস মাহসুদ’ কে আধুনিক রূপে সংস্কার করে সীমিত পরিসરે বর্তমানে শুধু ঢাকা-বরিশাল রুটে চালু রেখেছে।
মংলা বা খুলনায় চালুর ভবিষ্যৎ: বর্তমানে মংলা বা খুলনা পর্যন্ত সরাসরি এই ঐতিহ্যবাহী রকেট স্টিমার পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা পরিকল্পনা নেই। মূলত নাব্য সংকট এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক না হওয়ায় রুটটি শুধু বরিশাল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
তবে সাধারণ মানুষ ও নদীপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং সরকারের সদিচ্ছা থাকলে ভবিষ্যতে নাব্য উন্নয়ন সাপেক্ষে এই ঐতিহ্যবাহী রকেট সার্ভিস পুনরায় দক্ষিণাঞ্চলের দূরবর্তী রুটগুলোতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের কোনো বিশেষ পদক্ষেপ বা পরিকল্পনা সম্পর্কে আপনার আর কোনো তথ্য জানার আগ্রহ আছে কি?