বিশেষ সংবাদ :
(নজরুল ইসলাম লিখন)
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জমি ও বাথরুম সংস্কার নিয়ে বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক সংগ্রামের সোনারগাঁ সংবাদদাতা ও ব্যারিস্টার রাবিয়া ভূঁইয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক জয়নাল আবেদীন। এ ঘটনায় তার ছয় স্বজনও আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় হামলার অভিযোগে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বারদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিক জয়নাল আবেদীনের অভিযোগ, তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে প্রতিবেশী নবীর হোসেনের বাথরুম সংস্কারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে নবীর হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও থানায় একাধিক অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জয়নাল আবেদীন বলেন, বুধবার সকালে তার বড় ভাই একজন রাজমিস্ত্রি নিয়ে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত বাথরুমটি সংস্কারের কাজ শুরু করতে গেলে নবীর হোসেন ও তার লোকজন সেখানে এসে হামলা চালায়। খবর পেয়ে দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসা করতে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই লাঠিসোঁটা ও লোহার রড দিয়ে তার ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, হামলায় তার মাথা ও কপালে গুরুতর জখম হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ভাই ও স্বজনদেরও মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়।
জয়নাল আবেদীন আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও নবীর হোসেন তার ভাই ও পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছেন এবং বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকি দিয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এদিকে সাংবাদিক জয়নাল আবেদীনের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ও বাংলা টিভির অনলাইন ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন। তিনি বলেন, সাংবাদিক ও শিক্ষক জয়নাল আবেদীনের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত তদন্ত করে হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
অভিযুক্ত নবীর হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, “আপনি অভিযোগ দিয়ে যান। তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।