বিশেষ সংবাদ :
(মনজুরুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি)
‘সম্প্রীতির ঐকতানে গাহি সাম্যের গান’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে জেলা পুলিশের আয়োজনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সর্বধর্মীয় সম্প্রীতি সমাবেশ’। রবিবার (৫ জুলাই) বেলকুচি থানা চত্বরে আয়োজিত এই সমাবেশে সর্বস্তরের মানুষ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার এক অনন্য বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলিম। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আবহমান কাল ধরে এই ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। আমাদের এই ঐতিহ্যের ঐক্য যেকোনো মূল্যে বজায় রাখতে হবে। জেলা পুলিশের এই মহতী আয়োজন সমাজকে আরও সংহত করবে।”
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু (বিপিএম-বার)-এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। পুলিশ সুপার বলেন, “শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য থাকলে সমাজে অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা কমে আসে। সিরাজগঞ্জকে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতেই আমাদের এই প্রচেষ্টা।”
অনুষ্ঠানে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের পক্ষ থেকে অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, “ইসলাম শান্তির ধর্ম। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে সকল ধর্মের মানুষের সাথে সদাচরণ ও সম্প্রীতি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে আমরা প্রশাসনের পাশে আছি।”
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বেলকুচি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশরাত জাহান, বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইমাম জাফর, বেলকুচি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক মোঃ নূরুল ইসলাম গোলাম, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, বেলকুচি উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মোঃ বনি আমিন, বেলকুচি পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক হাজী আলতাফ হোসেন প্রামানিক, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি জয়শংকর, বেলকুচি উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার মোঃ ওবায়দুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
বেলকুচি থানা চত্বরে আয়োজিত এই সমাবেশ স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থার জায়গাটিকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং সামাজিক ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।