বিশেষ সংবাদ :
(নজরুল ইসলাম লিখন,রূপগঞ্জ প্রতিনিধি)
দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার রূপগঞ্জের ভুলতা গাউছিয়া মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা হাজার হাজার ক্রেতাকে বাসি ও পচা খাবার খাইয়ে প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছে ‘রাঁধুনী রেস্টুরেন্ট’-এর বিরুদ্ধে। মার্কেটের দোতলায় অবস্থিত এই রেস্তোরাঁটির তীব্র অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নিম্নমানের খাবার পরিবেশন নিয়ে ক্রেতা ও স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অসাধু উপায়ে ক্রেতাদের পকেটের টাকা কেটে নিয়ে তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন গাউছিয়া মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসেন অসংখ্য খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী। দূর-দূরান্ত থেকে আসা এসব মানুষের অজ্ঞতা ও বাধ্যবাধকতার সুযোগ নিয়ে রাঁধুনী রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে পচা-বাসি খাবার পরিবেশন করে আসছে। সম্প্রতি এই বাসি খাবার কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন এক স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীও।
ভুক্তভোগী ও গণমাধ্যমকর্মী মোঃ নূর আলম বলেন, গত ২৮ জুলাই রাঁধুনী রেস্তোরাঁ থেকে পার্সেল হিসেবে খাবার কেনা হয়েছিল। কিন্তু প্যাকেট খোলার পর দেখা যায় খাবারটি পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত, যা কোনোভাবেই খাওয়ার উপযোগী ছিল না। বাধ্য হয়ে পুরো খাবারটি ফেলে দিতে হয়।
ভুক্তভোগী জান্নাতী আক্তার জিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জীবনে কখনো এমন অখাদ্য-বাসি খাবার খাইনি। এই বিষাক্ত খাবার খেয়ে আমার সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হওয়ার উপক্রম হয়েছি। জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তার স্বার্থে এই অসাধু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে রাঁধুনী রেস্তোরাঁর মেনেজার সাজু বলেন,ভাই আল্লাহর ওয়াস্তে বিশ্বাস করেন সবগুলা খাবার আজকের। ভাই আপনি অন্য সময় পোলাপানদের পাঠায়েন অথবা আমার নাম্বারে ফোন দিয়েন। আপনারা যতটুকু নিয়েছেন, সেটা আমি অ্যাডজাস্ট করে দেব সমস্যা নেই। এইজন্যই বলছি, আপনার কাছে খারাপ লেগে থাকলে আপনি আমাকে ফোন করে বলতেন। নেক্সট টাইমে আপনি যখনই আসবেন, আমাকে বইলেন, আমি তা সার্ভ করে দেব। এছাড়া ভাই এখন তো আমার করার কিছু নেই, আই অ্যাম সরি।
এ বিষয়ে রাঁধুনী রেস্তোরাঁর মালিক শুভ বলেন,আমরা সাধারণত বাসি খাবার বিক্রি করি না। গ্রাহকদের বাসি খাবার দেওয়া আমাদের প্রতিষ্ঠানের নীতির পরিপন্থী। দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার ও কর্মীদের শনাক্ত করে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক নূরুল ইসলাম বলেন,যেকোনো রেস্তোরাঁয় বাসি-পচা খাবার পরিবেশন করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি ও জরিমানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। রাধুনী রেস্তোরাঁর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি দ্রুতই সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন এবং সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।