বিশেষ প্রতিবেদন :
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের অভয়ারণ্য ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সমূলে গুঁড়িয়ে দিতে শুরু হয়েছে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় সমন্বিত সাঁড়াশি অভিযান। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)-এর মাঠ পর্যায়ের সুনির্দিষ্ট তথ্য ও ড্রোনের মাধ্যমে সংগৃহীত ফুটেজের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক নেতৃত্বে আজ সোমবার (৯ মার্চ) ভোর থেকে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কঠোর নির্দেশনায় ও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে শুরু হওয়া এই মেগা অপারেশনে অংশ নিচ্ছেন সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও এপিবিএন-এর প্রায় ৪ হাজার সদস্য। দুর্গম ও পাহাড়বেষ্টিত এই এলাকার আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের ধরতে এবং মাটির নিচে বা ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে এপিসি (সাঁজোয়া যান), হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াডের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুরের প্রবেশ ও বাইরের সব পথ বন্ধ করে দিয়ে চারপাশ থেকে এলাকাটি ঘেরাও করে ব্লক রেইড স্টাইলে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো গত কয়েক দশক ধরে পাহাড় দখল করে গড়ে ওঠা সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্রের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া এবং ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করে রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি এই জঙ্গল সলিমপুরেই অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব-৭ এর এক কর্মকর্তা নিহত হন এবং কয়েকজন সদস্য অপহৃত হন, যাদের পরে সেনাবাহিনী উদ্ধার করে। সেই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর থেকেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আঘাত হানার ছক কষে প্রশাসন, যার বাস্তব রূপ আজকের এই সমন্বিত অভিযান। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাষ্ট্রের ভেতরের কোনো ভূখণ্ড যে অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানা হতে পারে না, এই অভিযান তারই একটি সর্বোচ্চ ও কঠোর বার্তা।
Leave a Reply