1. abdullahharun2014@gmail.com : dailysarabela24 :
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ন
নোটিশ :
দৈনিক সারাবেলা ২৪ , সত্য সংবাদ প্রকাশে আপোষহীন visit . www.dailysarabela24.com অনলাইন ভিত্তিক নিউজ পোর্টাল সংবাদ পড়ুন ও মন্তব্য করুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের এড দিন , সংবাদ প্রকাশের জন্য যোগাযোগ করুন - ০১৯৭১-৮৪১৬৪২,০১৩২২-১৭৫০৫২
সংবাদ শিরোনাম:
হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা স্বচ্ছতার সঙ্গে তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নিকার বৈঠকে অনুমোদন: মোকামতলা উপজেলা গঠনে উচ্ছ্বসিত জনপদ নিকার বৈঠকে অনুমোদন: বগুড়া সিটি কর্পোরেশন গঠনে আনন্দের জোয়ার শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে খাল খনন হারানো এডমিট কার্ড উদ্ধার করে এসএসসি পরীক্ষার্থীর স্বপ্ন বাঁচালো সিএমপির ট্রাফিক উত্তর বিভাগ সংবেদনশীল কল ডিটেইলস ও এনআইডি তথ্য বিক্রির অভিযোগে অ্যাপ ডেভেলপারকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি উত্তরাঞ্চলের আকাশে নতুন স্বপ্ন: বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও অত্যাধুনিক বিমানঘাঁটির কার্যক্রম শুরু উজবেকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় বাংলাদেশ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনকারী ও ‘গেস্টরুম-গণরুম’ কালচারের সাথে জড়িতদের বিচার এর দাবি করেছে ছাত্রদল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

জ্বালানি সংকট, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩১ বার ভিউ

বিশেষ প্রতিবেদন :

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ আজ আর কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়; এটি পরিণত হয়েছে বৈশ্বিক শক্তির রাজনীতির এক নির্মম খেলায়, যার বলি হচ্ছে বিশ্বের স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো। জ্বালানি তেলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করবার মাধ্যমে বিশ্ব রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের যে পুরোনো কৌশল, সেটিই নতুন করে সামনে এসেছে। আর এই স্বেচ্ছাচারিতার চড়া মূল্য দিচ্ছে সেইসব দেশ– যাদের অর্থনীতি জ্বালানি আমদানিনির্ভর, যাদের শিল্পায়ন, পরিবহন এবং জনগণের দৈনন্দিন জীবন আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল ।

আজ যখন মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে, তখন শুধু জ্বালানি তেলের দামই বাড়ছে না– একটি পুরো জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, শিল্প কারখানার চাকায় গতিতে ভাটা পড়ছে এবং খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে চলছে। অর্থাৎ একটি যুদ্ধ হাজার মাইল দূরে হলেও তার ধাক্কা এসে লাগছে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে, কর্মস্থলে এবং জীবনের প্রতিটি স্তরে।অবধারিতভাবে এই বাস্তবতা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

এটি কোনো স্বাভাবিক সংকট নয়; এটি একটি কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিরতা। ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে জ্বালানি তেলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, আর সেই অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে উন্নয়নশীল বিশ্ব। যারা তেল উৎপাদন করে, যারা যুদ্ধ করে, যারা নিষেধাজ্ঞা দেয়– তারা হয়তো নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করছে; কিন্তু তার বোঝা বইতে হচ্ছে আমাদের মতো দেশগুলোকে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার কাছে– আমরা কী করবো? আমরা কি শুধু বসে বসে এই বৈশ্বিক শক্তির খেলায় পিষ্ট হবো, নাকি নিজেদের অবস্থান থেকে সংকট মোকাবিলায় স্বল্প মেয়াদি ও দীর্ঘ মেয়াদি উত্তরণের উপায় খুঁজে বের করবো ?

বাংলাদেশের জন্য এই সংকট নিঃসন্দেহে একটি কঠিন বাস্তবতা। আমাদের জ্বালানি তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি– সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠছে।

কিন্তু এই জটিলতার মধ্যেই অমিত সম্ভাবনার বীজ লুকিয়ে আছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে– জ্বালানি সাশ্রয়ী নীতি, বিকল্প উৎসের সন্ধান, আমদানির বহুমুখীকরণ। কিন্তু বাস্তবতা হলো– শুধু সরকারি পদক্ষেপ দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। রাষ্ট্র যখন সংকটে পড়ে, তখন সেটি আর শুধু সরকারের সমস্যা থাকে না; এটি হয়ে যায় একটি জাতীয় দায়িত্ব। এই দায়িত্ব থেকে কেউই অব্যাহতি পেতে পারে না।

প্রথমত, সরকারের দায়িত্ব হলো কঠোর ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। জনপ্রিয়তার রাজনীতি দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা করা যাবে না। জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ, অপচয় রোধ, ভর্তুকির সঠিক ব্যবহার এবং বিকল্প শক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ– এসব বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। কূটনৈতিকভাবে নতুন জ্বালানি উৎস নিশ্চিত করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্বার্থকে জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বেসরকারি খাত ও শিল্পখাতকে বুঝতে হবে- এই সংকট শুধুমাত্র সরকারের নয়, তাদের নিজেদের অস্তিত্বের সঙ্গেও জড়িত। উৎপাদনে জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে হবে, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হবে এবং বিকল্প শক্তির দিকে ঝুঁকতে হবে। যারা আজও অপচয়ের সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত, তাদের বুঝতে হবে- এই সংকটে অপচয় মানেই আত্মঘাতী প্রবণতা।

তৃতীয়ত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছাত্রসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাস সাক্ষী, সংকটের সময়ে দেশের ছাত্রসমাজই জাতির দিকনির্দেশনা দিয়েছে। আজও তাদের সেই ভূমিকা পালন করতে হবে– সচেতনতা তৈরি করতে হবে, দায়িত্বশীল আচরণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সাধারণ জনগণের ভূমিকা। এই সংকটের মোকাবিলা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে জনগণের আচরণের ওপর। অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ করা, ব্যক্তিগত যানবাহনের পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার করা, অপচয় কমানো– এসব ছোট ছোট পদক্ষেপই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। কিন্তু আমাদের সমাজে এখনো একটি প্রবণতা রয়েছে– রাষ্ট্রের সমস্যাকে নিজের সমস্যা হিসেবে অনুধাবন না করা । এই মানসিকতা পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি।

বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো ইতোমধ্যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ইউরোপে জ্বালানি কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত মুনাফার ওপর কর আরোপ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত তেল মজুদ ব্যবহার করছে, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জ্বালানি রেশনিং চালু হয়েছে, কর্মঘণ্টা কমানো হয়েছে। অর্থাৎ সবাই বুঝে গেছে–:এই সংকট মোকাবিলায় ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে।

আমাদেরকেও সেই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। আরাম-আয়েশের রাজনীতি, অযৌক্তিক প্রত্যাশা এবং দায়িত্বহীন আচরণ দিয়ে এই সংকট পার হওয়া যাবে না। আজ সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো জাতীয় ঐক্য। রাজনৈতিক বিভাজন, দলীয় স্বার্থ, ব্যক্তিগত লোভ ও মুনাফা– এসবের ঊর্ধ্বে উঠে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে আমাদের চিন্তা করতে হবে। এই সংকট যদি আমাদের কিছু শিখিয়ে থাকে, তবে সেটি হলো– একটি জাতির শক্তি তার ঐক্যে, তার সম্মিলিত চেষ্টায়।

ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী– সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। এটি কোনো একক গোষ্ঠীর লড়াই নয়; এটি পুরো জাতির লড়াই।
আমাদের মনে রাখতে হবে, এই সংকট চিরস্থায়ী নয়। কিন্তু আমরা এই সংকটকে কীভাবে মোকাবিলা করি, সেটিই নির্ধারণ করবে আমাদের ভবিষ্যৎ। আমরা যদি দায়িত্বশীল হই, সংযমী হই, এবং ঐক্যবদ্ধ হই– তবে এই সংকটই আমাদের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

অন্যথায়, আমরা যদি বিভক্ত থাকি, দায়িত্ব এড়িয়ে চলি এবং বাস্তবতা অস্বীকার করি– তবে এই সংকট আমাদের জন্য এক দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে।

এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব আমাদের– আমরা কি বৈশ্বিক শক্তি সমূহের খেলায় পুতুল হয়ে থাকবো, নাকি নিজেদের ভবিষ্যৎ আমরা নিজেরাই নির্ধারণ করবো।▫️

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ©2024 -2026-ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Desing & Developed BY ThemeNeed.com