বিশেষ প্রতিবেদন :
“Climate Action” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে “আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬ (চট্টগ্রাম অঞ্চল)” সোমবার (১১ মে ২০২৬) চবি মেরিন সায়েন্সস এন্ড ফিশারিজ অনুষদের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ সচেতনতা, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলের চারটি বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক সংগঠন, এনএসটিইউডিএস, সিওউডিএস, সিইউডিএস এবং চুয়েটডিএস।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, সিইউডিএস এর মডারেটর ও চবি আইন বিভাগের প্রফেসর এ.বি.এম আবু নোমান, মাননীয় মডারেটর, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক জনাব জমির উদ্দিন, উপ-পরিচালক সেলিনা আকতার এবং চবি ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও এসোসিয়েট মডারেটর নওরিন মনির প্রমা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, আজকের এই চমৎকার রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে আপনাদের সবার মাঝে উপস্থিত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আজকে আমাদের ক্যাম্পাসে অনেকগুলো প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এমন সরব ক্যাম্পাসই আমরা দেখতে চেয়েছিলাম। “আঞ্চলিক আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ বিতর্ক প্রতিযোগিতা” কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি মূলত আগামীর সবুজ পৃথিবী গড়ার একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন। আজকের এই আয়োজনের জন্য আমি আয়োজক কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
মাননীয় উপাচার্য বলেন, বর্তমান পরিবেশ নানাভাবে নষ্ট হচ্ছে। এর জন্য দায়ী আমরা নিজেরাই। আমাদের নদ-নদী, বনভূমি এবং সমুদ্র উপকূল আজ হুমকির মুখে। এই সংকট মোকাবিলায় নীতি নির্ধারণের পাশাপাশি প্রয়োজন জনসচেতনতা, যা আপনাদের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্ষুরধার যুক্তির মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।
প্রতিযোগিতাটি দুইটি প্রাথমিক রাউন্ড শেষে জমজমাট ফাইনালের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। যুক্তি, তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণ এবং পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় কার্যকর করণীয় উপস্থাপনার মাধ্যমে ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় বিতর্ক সংগঠন সিইউডিএস।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি, নীতিনির্ধারণে তরুণদের অংশগ্রহণ এবং পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও তরুণদের পরিবেশ বিষয়ক চিন্তা ও কার্যক্রমে আরও উৎসাহিত করবে।