1. abdullahharun2014@gmail.com : dailysarabela24 :
শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ০৫:০৫ অপরাহ্ন
নোটিশ :
দৈনিক সারাবেলা ২৪ , সত্য সংবাদ প্রকাশে আপোষহীন visit . www.dailysarabela24.com অনলাইন ভিত্তিক নিউজ পোর্টাল সংবাদ পড়ুন ও মন্তব্য করুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের এড দিন , সংবাদ প্রকাশের জন্য যোগাযোগ করুন - ০১৯৭১-৮৪১৬৪২,০১৩২২-১৭৫০৫২
সংবাদ শিরোনাম:
হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা স্বচ্ছতার সঙ্গে তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নিকার বৈঠকে অনুমোদন: মোকামতলা উপজেলা গঠনে উচ্ছ্বসিত জনপদ নিকার বৈঠকে অনুমোদন: বগুড়া সিটি কর্পোরেশন গঠনে আনন্দের জোয়ার শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে খাল খনন হারানো এডমিট কার্ড উদ্ধার করে এসএসসি পরীক্ষার্থীর স্বপ্ন বাঁচালো সিএমপির ট্রাফিক উত্তর বিভাগ সংবেদনশীল কল ডিটেইলস ও এনআইডি তথ্য বিক্রির অভিযোগে অ্যাপ ডেভেলপারকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি উত্তরাঞ্চলের আকাশে নতুন স্বপ্ন: বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও অত্যাধুনিক বিমানঘাঁটির কার্যক্রম শুরু উজবেকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় বাংলাদেশ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনকারী ও ‘গেস্টরুম-গণরুম’ কালচারের সাথে জড়িতদের বিচার এর দাবি করেছে ছাত্রদল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নদ-নদীর পানি কমলেও এখনো স্বাভাবিক হয়নি সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২ জুন, ২০২৪
  • ৩৩৩ বার ভিউ

বিশেষ সংবাদ:

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় এ বিভাগের নদনদীগুলোর পানি কিছুটা কমেছে। উজানের ঢল থামায় সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতেও বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে গ্রামাঞ্চলের পানি কমলেও– সিলেট শহরে পানি বাড়ছে।

ঢলের পানি সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোর দিক থেকে আসায় নগরের পানি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিস্টরা।

গ্রামাঞ্চলে পানি কমতে শুরু করায় ভেসে উঠছে বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। বিশেষত বন্যার পানিতে গ্রামীণ সড়কগুলো ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে। এছাড়া কৃষিতেও বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে এই বন্যা।

উজান থেকে থেমে আসা ঢলের কারণে মঙ্গলবার থেকে সিলেটে পানি বাড়তে শুরু করে। বুধবার এক রাতেই তলিয়ে যায় জকিগঞ্জ, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও কানাইঘাট – এই পাঁচ উপজেলা। বৃহস্পতিবার রাতে বিয়ানীবাজার এবং জকিগঞ্জ উপজেলাও পানি প্লাবিত হয়ে পড়ে। শুক্রবার সকাল থেকে ডুবতে শুরু করে সিলেট নগরীর অনেক এলাকা। শনিবার দুপুর পর্যন্ত শহরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সিলেট শহরের অনন্ত ১৫টি এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে।

এখনো পানিতে তলিয়ে আছে জৈন্তাপুর উপজেলার জৈন্তাপুর-ফিতেহপুর সড়ক। ছবি: সিলেট প্রতিনিধি/ টিবিএস
সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের ১৩ উপজেলার মধ্যে ৭টি বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ৭ উপজেলার ৪২টি ইউনিয়ন। বন্যা মোকাবেলায় এপর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৫৪৭টি। আর আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন ৩ হাজার ৩৪২ জন।

এদিকে, পানি বাড়ায় সিলেট নগরীর ১৫নং ওয়ার্ডের কিশোরী মোহন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও পাশ্ববর্তী একটি পাঁচতলা খালি ভবন ও একটি কলোনীতে শুক্রবার বিকেলে আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে সিটি করপোরেশন। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এপর্যন্ত ৪০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়াও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হচ্ছে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর জানান, “নগরীতে বন্যায় এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার পরিবার। সিলেট শহরের ১৫, ২২ ও ২৪ নং ওয়ার্ডের প্রায় ১৫টি এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে।”

সিলেট নগরের তেররতন এলাকার বাসাবাড়িতে উঠে গেছে পানি। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। ছবি: সিলেট প্রতিনিধি/ টিবিএস
সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মখলিছুর রহমান কামরান বলেন, “বন্যার পানি শহরের দিকে ধেয়ে আসছে। বন্যা মোকাবেলায় সকল প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি আমরা।”

গত ২৪ ঘন্টায় নদনদীর পানি কিছুটা কমেছে জানিয়ে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, “বৃষ্টি ও ঢল কমায় নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢল নাহলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে। এ রকম আবহাওয়া থাকলে আগামী ৭/৮ দিনের মধ্যে পানি পুরোপুরি নেমে যাবে।”

বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর একটি গোয়াইনঘাট। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের লাগোয় এ উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ তলিয়া যায় পানিতে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে পানি কমতে শুরু করে। ইতোমধ্যে গোয়াইনঘাটে তিনটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ নেমে এসেছে। তবে পানি কমার সাথেসাথে স্পষ্ট হচ্ছে বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র।

বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল গোয়াইনঘাট-জাফলং ও সারি-গোয়াইনঘাট সড়ক। এই দুই সড়কের পানি নেমেছে। তবে ঢলে একেবারে চৌচির করে দিয়েছে পুরো সড়ক। অনেক জায়গায় সড়ক ভেঙে বড় বড় গর্তেরও সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া গ্রামীণ সবগুলো সড়কই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যাবে। তবে যেসব সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে– তা দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নিতে এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দিয়েছি।”

সীমান্তবর্তী আরেক উপজেলা কানাইঘাটের পানিও শুক্রবার থেকে কমতে শুরু করে। যেসব এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে সেসব এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পানি কমার সাথে সাথে ভেঙে পড়ছে কাঁচা ঘর-বাড়ি।

কানাইঘাটের দিঘীরবাক এলাকার দিনমজুর কামাল আহমদের ঘর ভেঙে পড়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তিনদিন ঘরের ভেতরে পানি ছিল। পানির মধ্যেই পরিবার নিয়ে ছিলাম। এই কষ্ট সহ্য করেছি- ঘরটা রক্ষা করার জন্য। কিন্তু কাল পানি নামার পর ঘরের বেড়াও ভেঙে পড়েছে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “বানের লাগি এখন কোন কাম (কাজ) নাই। এখন খাইতাম কিলা আর ঘর বানাইতাম কিলা?”

জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান বলেন, “আপাতত পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধার ও তাদের খাদ্য সহায়তা প্রদানেই আমরা মনোযোগ দিচ্ছি। পানি পুরো নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।”

তিনি বলেন, বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে উজান থেকে ভাটির দিকে পানি নামতে থাকায়- সিলেট নগর ও সদর উপজেলায় পানি বাড়ছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ©2024 -2026-ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Desing & Developed BY ThemeNeed.com