বিশেষ প্রতিবেদন :
০৫ বছর পর অপহরণ ও ছিনতাই মামলার পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তর নাম মো. শাহাদাত হোসেন (৩৮), পিতা- মো. হাবিবুর রহমান, মাতা- মোসা. মুকুল বেগম, সাং-চন্দ্রপাড়া, ডাকঘর-দেহেরগাতি, থানা-বিমানবন্দর, জেলা- বরিশাল।
অপহরণ ও ছিনতাই সংক্রান্ত কাফরুল থানার মামলা নং- ১০, তাং- ১০/১২/২০২১ খ্রি. ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৩০ তৎসহ ৩২৩/৩২৫/৩৮৪/৫০৬ পেনাল কোড মামলার পলাতক আসামি মো. শাহাদাত হোসেন (৩৮)-কে অদ্য ১৬/০৪/২০২৬ খ্রি. রাজধানীর মিরপুরের কাফরুল এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো-পশ্চিম ইউনিটের একটি আভিযানিক দল।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ০৬/১২/২০২১ তারিখে রাজধানী ঢাকার মহাখালী এলাকার ইউসুফ লাইন পার্কের সামনে থেকে ভুক্তভোগী নারীকে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন একটি প্রাইভেট কারে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে অপহরণ করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে মারধর করে এবং ভুক্তভোগীর নিকট থেকে ল্যাপটপ ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। সিলেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালীন এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীকে ফার্মগেট এলাকায় নামিয়ে দেয় অপহরণকারীরা।
ঘটনার পর দায়েরকৃত মামলায় প্রাথমিকভাবে একজন অভিযুক্তর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলেও অপর দুইজন অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে অজ্ঞাতনামা আসামিদের সনাক্তকরণ ও পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করা হয় সিআইডিকে। ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটির চালক ছিল গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত মো. শাহাদাত হোসেন (৩৮)। ঘটনার পরপর সে আত্মগোপনে চলে যায় এবং দীর্ঘ ০৫ বছর নিজের পরিচয় সুকৌশলে লুকিয়ে রেখে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়।
মামলাটি তদন্তকালে মামলার ডকেটে সংযুক্ত তথ্যাদির পাশাপাশি সংগৃহীত অন্যান্য তথ্য প্রাযুক্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মামলার ঘটনার দিন এজাহারভুক্ত ও পূর্বে অভিযোগপত্রে দাখিলকৃত আসামীর সাথে গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত মো. শাহাদাত হোসেন (৩৮) নিয়মিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখছিল এবং ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটির চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিল। এ সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে তার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়ায় ঘটনার ০৫ বছর পর মিরপুরের কাফরুল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত মো. শাহাদাত হোসেন (৩৮) অপহরণ ও ছিনতাই সংক্রান্ত ঘটনার সাথে নিজের সম্পৃক্ততা থাকার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃতকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে ঢাকা মেট্রো-পশ্চিম ইউনিট। অপহরণ ও ছিনতাই ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
Leave a Reply