বিশেষ সংবাদ :
(বিশেষ প্রতিনিধি সাতক্ষীরা)
আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড জরিপের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, প্রভাব বিস্তার এবং ব্যক্তিগত আচরণসংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
অভিযোগ অনুযায়ী, তথ্য সংগ্রহকারীদের তালিকায় একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। তালিকার ৪ ও ৫ নম্বর সিরিয়ালে থাকা দুই ব্যক্তি আপন দুই ভাই। অথচ একজনকে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এবং অন্যজনকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিসেবে দেখানো হয়েছে। এছাড়া ৭ নম্বর সিরিয়ালের প্রার্থী প্রবীর কুমারের বাড়ি বুড়িয়া গ্রামে ৪নং ওয়াডে হলেও আবেদন তালিকা ও ফলাফল শিটে তাকে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, স্থায়ী ঠিকানা ও ওয়ার্ডভিত্তিক যোগ্যতা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না। যদি তথ্যে অসঙ্গতি থেকে থাকে, তবে তা কীভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গ্রহণযোগ্য হলো?
এদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড়দল ইউনিয়ন বি এন পির এক প্রভাবশালী নেতার প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তালিকায় থাকা কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টির সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আরও একটি গুরুতর অভিযোগ হলো, অপেক্ষমাণ তালিকার ১৪ নম্বর সিরিয়ালে থাকা মো. ফজর আলী লিখিতভাবে দাবি করেছেন যে, যিনি ভাইভা পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন না, তাকেই অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে। অভিযোগটি সত্য হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে পারে।
সুপারভাইজার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত বিজয় কুমারের নিয়োগ নিয়েও স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা চলছে একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে এ কথাও প্রচলিত রয়েছে যে, তিনি পূর্বে ইউনিয়ন যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারের উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে মাঠপর্যায়ের নিয়োগ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর। যদি প্রভাব, পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা সরকারের ভাবমূর্তি ও প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই, প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।