বিশেষ সংবাদ :
(নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ)
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘ফাহাদ ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক সোহাগ মুন্সির বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভিসা না দেওয়া এবং পরে অফিস বন্ধ করে গা-ঢাকা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
জানা যায় সোহাগ মুন্সী গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর থানার গোয়ালা ইউনিয়ন প্রোসন্নপুর এলাকার বাসিন্দা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সোহাগ মুন্সির নিজের প্রতিষ্ঠান রাজধানীর তেজগাঁও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ার ১৫৫/১৫৬ নম্বর ঠিকানায় ফাহাদ ইন্টারন্যাশনালের কার্যালয়ে চাকরির আশায় যোগাযোগ করেন তারা।
ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে প্রথমে তাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। এর প্রায় ১৫ দিন পর ভিসার প্রক্রিয়ার কথা বলে আরো ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী দীপ্ত চন্দ্র ও নাঈম আহমেদ বলেন, ইউরোপের সার্বিয়া যেতে ৮ লক্ষ টাকা খরচ হবে বলে দাবি করে সোহাগ মুন্সি। পাসপোর্ট এর সাথে ৫০ হাজার টাকা করে জমা দিবে রিসিট এর মাধ্যমে। ভিসা লাগার পরে চার লক্ষ টাকা দিতে হবে। বাকি টাকা সার্বিয়াতে গিয়ে কাজে যোগদানের পর বেতন থেকে মাসে মাসে পরিশোধ করতে হবে। এবং এখন যে ৫০ হাজার টাকা নেয়া হবে ভিসা না হলে জমাকৃত টাকা ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে।
তার এ কথার পরে বিশ্বাস করেই আমরা তাকে কোম্পানি ভিজিটের মাধ্যমে পঞ্চাশ হাজার করে টাকা জমা দেই।
‘প্রথমে আমাদের কাছ থেকে ০৪৬, নাম্বার মানি রিসিট দিয়ে ৫০ হাজার ও ০৪৭ নাম্বার মানি রিসিট দিয়ে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
১৫ দিন পর ভিসার ফি জমা দেওয়ার কথা বলে আরও ০৫৪ নাম্বার মানি রিসিটে ৫০ হাজার টাকা ও ০৫৫ নাম্বার মানি রিসিট দিয়ে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। সর্বমোট দুইজনের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা মানি রিসিট এর মাধ্যমে গ্রহণ করে চার মাস অপেক্ষা করতে বলা হয়। চার মাস পর একদিন ফোন করে জানানো হয়, ভিসা হয়নি।
এরপর আমরা অফিসে গিয়ে দেখি, অফিসে তালা ঝুলছে।’ মোবাইলে তার সাথে কথা বলা পরে তিনি বলেন আমি এই টাকা ফেরত দিয়ে দিব। কিন্তু তারপরে যোগাযোগ করা হলে সে আর আমাদের ফোন ধরে না। সে টাকা আমাদের কাছ থেকে গ্রহণ করে নাই এভাবেই সে কথা বলা শুরু করে।
এরপরে তার অফিসে গিয়ে দেখা যায় অনেকেই টাকার জন্য এসে সোহাগ মুন্সীকে খোঁজা করছেন। অফিসে গিয়ে জানা যায় বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে শুধু তাদের কাছ থেকেই নয়, আরও অনেক চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে। টাকা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে ভিসা না পাওয়ায় তারা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু একপর্যায়ে কার্যালয় বন্ধ পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তারা।
এদিকে, সোহাগ মুন্সীকে বারবার মোবাইলে পাওয়া যায়নি পরে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি টাকা নেইনি টাকা নিয়েছে আমার ম্যানেজার নিয়েছে। আপনারা ম্যানেজারকে ধরেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে এভাবে অর্থ নেওয়া হলে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়তে পারে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রতারিতদের টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।