বিশেষ সংবাদ :
(আনারুজ্জামান বিশেষ প্রতিনিধি)
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বেউলা গ্রামে এক তরুণীকে উত্যক্ত ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করার প্রতিবাদ করায় মো. রবিউল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে জখম, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ২ আসামিকে গ্রেফতার করে আজ (বুধবার) বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছে।
এর আগে আশাশুনি থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করে লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়। মামলার নামীয় অন্য আসামিরা হলেন— ১. মো: আবদুল মাজেদ সরদার (৫৫), ২. মো: আকিব হোসেন (১৯), ৩. মো: আবদুল ওয়াজেদ আলী সরদার (৫০), ৪. মো: রায়হান হোসেন (২৫), ৫. মো: শাহিন হোসেন (২৩) ও ৬. সাজেদ আলী সরদার (৪৮)। তারা সকলেই বুধহাটা ইউনিয়নের বেউলা গ্রামের বাসিন্দা।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মে বিকেলে বুধহাটা ইউনিয়নের চিলেডাঙ্গা মাঠের পাকা সড়কের ওপর স্থানীয় এক তরুণীকে নিয়ে আকিব হোসেনসহ কয়েকজন উত্যক্ত ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করছিল। স্থানীয় সাইমুন সরদার ও রফিকুল ইসলাম এর প্রতিবাদ করলে আসামিদের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। এরই জেরে পরদিন ২৯ মে বিকেলে আকিব হোসেন কৌশলে সাইমুনকে চিলেডাঙ্গা ব্রিজের ওপর ডেকে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির জন্য ওই দিন রাতে বেউলা বাজারে বুধহাটা ইউনিয়ন জামায়াত কার্যালয়ে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বাদী রবিউল ইসলাম সালিশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বেউলা এলাকার রাস্তার ওপর পৌঁছালে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে তাঁর গতিরোধ করে।
সালিশ মিমাংসায় না যাওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসামিরা তাকে গালিগালাজ করে এবং ১ নং আসামির হুকুমে অন্যান্য আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তাত্ব জখম করে। মারধরের সময় বাদীর পকেটে থাকা মাছ বিক্রির নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় ৪ নং আসামি এবং ২৩ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে ২ নং আসামি। এছাড়া ৩ ও ৫ নং আসামি বাদীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীরা এগিয়ে এসে তাকে মারাত্মক আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাদী থানায় হাজির হয়ে এ এজাহার দায়ের করেন।
আশাশুনি থানা অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আরিফ জানান গতকাল মামলাটি রেকর্ড করার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২ জন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করে এবং আজ সকালে তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।