বিশেষ সংবাদ :
(নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ)
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঢাকাসিলেট মহাসড়ককের ভুলতা-গাউছিয়া এলাকার ফুটপাত থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত নগদ টাকা উড়ে,চার লেনের তিন লেনই এখন হকারদের দখলে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার গাড়ি,সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চালকরা। সরেজমিন দেখা গেছে, ভুলতা রেদোয়ান টাওয়ার মার্কেট থেকে শুরু করে ভাই ভাই মার্কেট, নুর ম্যানশন, তাঁতবাজার, গাউছিয়া মার্কেট ও মফিজউদ্দিন প্লাজা পর্যন্ত। ফ্লাই ওভারের নীচে ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গাড়ি পার্কিং ও দোকান পাট। মহাসড়কের উভয় পাশের চার লেনের পুরো অংশই ভাসমান দোকানে ভরা।মূল সড়কের একাংশ দখল করে রেখেছে মেঘলা,গাউছিয়া পরিবহন, ডিটিএল, ওগ্লোরি বাস কাউন্টার, রেন্ট-এ-কার, মাছ-গোশত, কাঁচাবাজার, ফলমূল, পোশাক ও ফাস্টফুডের এসব দোকানের কারণে যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা-গাউছিয়া ফুটপাত থেকে মহাসড়কে বিয়ে,শাদির বাজার করা যায়। কাপড়, জুতা, কসমেটিক থেকে শুরু করে চাল,ডাল,চিনি,লবন,আটা,মসলা, মাছ,মাংশ, শশা,লেবু,গাজর,ঘি,সয়াবিন তেল,সরিষার তেল,ডিম,দুধ, মিষ্টি, জিলাপি, দই, পান-সুপারি,তোষক ও বালিশ পাওয়া যায়।
ফুটপাথে ব্যবসা করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজির শিকার হতে হচ্ছে হকারদের। রেদোয়ান টাওয়ারের হকার মতিন জানান, ১৫ বছর ধরে ব্যবসা করলেও বর্তমানে শান্তি নেই। প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয় এবং নতুন দোকান বসাতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা এককালীন অগ্রিম দিতে হয় কোন কোন ক্ষেত্রে৫০হাজার টাকা লাগে। জানা যায়, ভুলতা ইন্টারসেকশনটি পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ লেনদেনের সুযোগ নিয়ে এখানে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। এখানে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ভাসমান দোকান বসে। প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ৩০০ টাকা হারে প্রতি দিন ৩ লাখ মাসে ৯০ লাখ এবং বছরে প্রায় ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এই বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই অতীতে দেলোয়ার ও হানযালা গংদের হাতে খুন হন রাকিব হাসান এবং কাঁচাবাজারের আধিপত্য নিয়ে প্রাণ হারান জাকির হোসেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি নেতা জানান কোয়ার্টার কিলোমিটারের মধ্যে ২টি ইউনিয়ন ১টি ভুলতা,অপরটি গোলাকান্দাইল বিএনপির ২ টি বড় দলীয় কার্যালয়সহ আরো ৫/৬ টি শাখা কার্যালয় চালাতে টাকার দরকার হয়। তাই তারা দৈনিক হারে প্রতিটি দোকান থেকে চাঁদা আদায় করে থাকে। চাঁদার একটি ভাগ, থানা প্রশাসন ও স্হানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা পেয়ে থাকে।
ভুলতা,তাঁতবাজার মার্কেটের কাঁচা বাজারের দোকান দার, মকবুল,ননি,বাবু,রাইয়ান স্টোর, শওকত এন্টার প্রাইজ, তাবাসসুম, ফয়সাল, মাছবিক্রেতা অনু ও নুরুজ্জামান সবারই একই কথা মাসে ৪০/৫০ হাজার টাকা দোকান ভাড়া দিয়েও কেনা-বেচা করতে পারছিনা।অথচ ফুটপাতে প্রতি দোকানে হাজার হাজার টাকার মালামাল বিক্রি হয়।
বিগত ১৭ বছরে এই এলাকায় ১২৩ বার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। কোটি কোটি টাকার ফ্লাইওভারের নিচে মহাসড়কের এক কিলোমিটার এলাকা দখলে থাকায় প্রতিদিন প্রায় পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। মাত্র এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে যানবাহনগুলোর সময় লাগে এক ঘণ্টারও বেশি।পথচারীদের চারলেনের সড়ক অতিক্রম করতে ১০ মিনিট লেগে যায়। তাও আবার মহাসড়ক জুড়ে হাজার খানেক ইজিবাইক, অটোরিকশা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, উচ্ছেদ অভিযানগুলো শুধুই লোকদেখানো নাটক। উচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে সড়ক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম আব্দুল বিন শফিক জানান, দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান ও মনিটরিং অব্যাহত আছে এবং চাঁদাবাজির প্রমাণ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।