বিশেষ প্রতিবেদন :
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় চলাচল করা সিএনজি ও রিক্সা চালক সমিতি এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টায় চবি ক্যাম্পাস সংলগ্ন রেলক্রসিং নুর জাহান কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সাথে আপনারা সুসম্পর্ক বজায় রাখবেন। শিক্ষার্থী আর স্থানীয় এলাকাবাসী, সিএনজি-রিক্সা চালকরা একে-অপরের পরিপূরক। একে-অপরের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক চলতে দেওয়া যায় না। কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না। কোনোভাবেই কোনো শিক্ষার্থীর গায়ে হাত দিবেন না। কোনো শিক্ষার্থী কোনো চালক বা স্থানীয়দের অসদাচরণ বা কোনো অন্যায় করলে নিজেরা সমাধান না করে সেটা আমাদের জানাবেন। আমরা সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
মাননীয় উপাচার্য বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর ত্যাগ রয়েছে, তেমনিভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ায় এলাকাবাসী নানা লাভবানও হচ্ছে। এলাকাবাসীর সাথে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে, সেটি বজায় রাখার চেষ্টা করবেন। কেউ অপরাধ করলে তার পরিচয় সে অপরাধী, সেটা ঢাকার চেষ্টা অন্যরা করবেন না। যেই অপরাধ করুক না কেন, তার কোনো দলীয় বা অন্য কোনো পরিচয় নেই, তার একমাত্র পরিচয় হলো সে অপরাধী। তাকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গত কয়েকদিনে তিনটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যার ভুক্তভোগী বা ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী উভয়ই হয়েছে- যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মাননীয় উপাচার্য রিক্সা ও সিএনজি চালকদের তিনটি কমিটি করার আহ্বান জানান এবং তাদের মনিটরিং করার নির্দেশনা দেন। কোনো সমস্যা হলে সাথে সাথে অবহিত করার আহ্বান জানান। উপাচার্য বলেন, প্রত্যেকের নিজস্ব আত্মসম্মানবোধ রয়েছে। সেটি বজায় রাখার চেষ্টা করবেন। মাননীয় উপাচার্য উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। উপস্থিত বক্তারা বিভিন্ন দাবিদাওয়া পেশ করেন। মাননীয় উপাচার্য সেসব মনোযোগ দিয়ে শুনেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং প্রয়োজনীয় অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চবি প্রক্টর প্রফেসর ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী। হাটহাজারী উপজেলার ১১নং ফতেপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চবি মাস্টারদা সূর্যসেন হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. সৈয়দ মুহাম্মদ শামসুল হুদা, স্থানীয় সিএনজি চালক সমিতির সভাপতি মো. খোরশেদ, দপ্তর সম্পাদক মো. শামীম, ফতেপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহেদ, রেল গেট ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষে নুরুল হল খোকন প্রমুখ। চবির সাবেক শিক্ষার্থী মো. সোহেলের সঞ্চালনায় এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ১১নং ফতেপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুসা সিদ্দিক, সিএনজি চালক সমিতির নেতৃবৃন্দ, রিক্সা চালক সমিতির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
এসময় বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে স্থানীয়দের সুসম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে বিভিন্ন মতামত পেশ করেন। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাদের মেহমানের মতো। আমাদের এলাকার পাশে তারা পড়াশোনা করে ভালো জায়গায় গিয়ে যাতে এ এলাকার সুনাম করে, এমন আচরণ করতে হবে। তবু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যায়। পরবর্তীতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বক্তারা।
Leave a Reply