প্রেস রিলিজ:
সিএমপি’র বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের অভিযানে চাঞ্চল্যকর রাজু হত্যাকাণ্ড ও শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার মামলার রহস্য উদ্ঘাটন; ০১ (এক)টি বিদেশি পিস্তল, ০১ (এক)টি ম্যাগাজিন, ০২ (দুই) রাউন্ড তাজা গুলি এবং ঘটনায় ব্যবহৃত ০১টি সিএনজি অটোরিকশাসহ ০৬ (ছয়) আসামি গ্রেফতার।
গত ইং ০৭/০৫/২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ০৯:৪০ ঘটিকার সময় বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রৌফাবাদ শহীদ মিনারের পাশে বাঁশবাড়িয়া গলিস্থ আব্দুল হাইয়ের বাড়ির দেলোয়ারের ভাড়াঘরের সামনে কতিপয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গুলি করে ভিকটিম-১ মোঃ হাসান প্রকাশ রাজু (২৪), পিতা-মৃত আবুল কালাম, মাতা-সকিনা বেগম, সাং-ইদ্রিস ড্রাইভারের বাড়ি, কদলপুর, পোঃ কদলপুর-৪৩৪০, ওয়ার্ড নং-০৭, কদলপুর ইউপি, থানা-রাউজান, জেলা-চট্টগ্রামকে হত্যা করে। ওই সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ভিকটিম-২ রেশমি আক্তার (১২), পিতা-রিয়াজ আহমেদ, মাতা-সাবেরা বেগম, সাং-রৌফাবাদ শহীদ মিনার কলোনি, থানা-বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রাম গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় ভিকটিম হাসান প্রকাশ রাজু (২৪)-এর মা সকিনা বেগম (৬৩)-এর বাদী বায়েজিদ বোস্তামী থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করলে বায়েজিদ বোস্তামী থানার মামলা নং-২০, তাং-০৯/০৫/২০২৬ ইং, ধারা-৩২৬/৩০৭/৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়।
ঘটনার পরপরই বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ আব্দুল করিমের নেতৃত্বে একাধিক টিম ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে নগরীর বিভিন্ন থানা এলাকায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করে। একপর্যায়ে ইং ১১/০৫/২০২৬ তারিখ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আসামি ০১। সৈয়দুল করিম (২৭), পিতা-মৃত শফিউল, মাতা-জামালী বেগম, সাং-ছোট মহেশখালী আলী মিয়ার বাড়ি, থানা-মহেশখালী, জেলা-কক্সবাজার, বর্তমানে-রৌফাবাদ ৪নং গলি, মানিক মিয়ার বাড়ি, থানা-বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রামকে কক্সবাজার জেলার সদর থানাধীন সুগন্ধা সি-বিচ এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ভিকটিম-১ হাসান প্রকাশ রাজু (২৪)-এর বুকে গুলি করে মর্মে স্বীকার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে তার বসতঘর হতে ঘটনার সময় পরিহিত টি-শার্ট, ট্রাউজার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ০১ (এক)টি বিদেশি পিস্তল, ০১ (এক)টি ম্যাগাজিন, ০২ (দুই) রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের বহনকারী সিএনজি অটোরিকশা, যার রেজি নং-চট্ট মেট্রো-থ-১৩-১২৫৭, উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে আভিযানিক টিম ইং ১১/০৫/২০২৬ তারিখ ডবলমুরিং থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সিএনজি ড্রাইভার আসামি ০২। মোঃ আব্দুল মান্নান (৩৭), পিতা-মৃত সৈয়দ আহম্মদ, মাতা-আফিয়া বেগম, সাং-শান্তিপুর, শাখাওয়াতের বাড়ি, থানা-হাতিয়া, জেলা-নোয়াখালী, বর্তমানে-দেওয়ানহাট, মেস্ত্রি পাড়া, মিয়া বাড়ি, রুম নং-১৭, থানা-ডবলমুরিং, জেলা-চট্টগ্রামকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামি সৈয়দুল করিম (২৭)-এর তথ্যমতে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রৌফাবাদ ব্রিজ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে সহায়তাকারী আসামি ০৩। মোঃ ইউনুচ মিয়া (২৪), পিতা-নজরুল ইসলাম, মাতা-জনোয়ারা বেগম, সাং-হাসি সিকদার পাড়া, নুর হোসেন চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে, থানা-চকরিয়া, জেলা-কক্সবাজার, বর্তমানে-রৌফাবাদ পাহাড়িকা আবাসিক রোড নং-৬, পিংকির মার বাড়ি, থানা-বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রাম এবং ০৪। মোঃ আয়াতুল্লাহ আলী আদনান (২১), পিতা-মোঃ আমির খসরু, মাতা-মরিয়ম বেগম, সাং-সাতবাড়িয়া, হাজির পাড়া, থানা-চন্দনাইশ, জেলা-চট্টগ্রাম, বর্তমানে-পাহাড়িকা আবাসিক রোড নং-৬, থানা-বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রাম—উভয়কে গ্রেফতার করা হয়।
আভিযানিক টিম গ্রেফতারকৃত আসামি সিএনজি ড্রাইভার মোঃ আব্দুল মান্নান (৩৭)-এর তথ্যের ভিত্তিতে চাঁন্দগাঁও থানাধীন কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার ঘটনায় জড়িত সন্দিগ্ধ আসামি ০৫। মোঃ আবু বক্কর ছিদ্দিক প্রকাশ খোকন (৪৮), পিতা-আবুল বশর, মাতা-আয়েশা আক্তার, সাং-কদলপুর, হাজী আমির আলীর বাড়ি, থানা-রাউজান, জেলা-চট্টগ্রাম এবং ০৬। আজগর আলী (৩৯), পিতা-মৃত কাশেম আলী, মাতা-আনোয়ারা খাতুন, সাং-কদলপুর, হাজী আমির আলীর বাড়ি, থানা-রাউজান, জেলা-চট্টগ্রাম—উভয়কে গ্রেফতার করেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাপর আসামিদের গ্রেফতার এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গ্রেফতারকৃত আসামি সৈয়দুল করিম (২৭)-এর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ডাকাতির ০২টি মামলা, আসামি মোঃ আবু বক্কর ছিদ্দিক প্রকাশ খোকন (৪৮)-এর বিরুদ্ধে চুরি, হত্যাচেষ্টা, মারামারিসহ মোট ০৬টি মামলা এবং আসামি আজগর আলী (৩৯)-এর বিরুদ্ধে ০১টি চুরির মামলা রুজু রয়েছে।