বিশেষ প্রতিবেদন :
আজ কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন আরএসও (RSO)-এর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে! বিজিবির অতর্কিত ও দুঃসাহসিক অভিযানে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে সশস্ত্র আরএসও সদস্যরা।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) আওতাধীন পালংখালী বিওপির আঞ্জুমান পাড়া বাহারপ্যারা সীমান্তে নাফ নদীর তীরে গোলপাতা দিয়ে তৈরি একটি অস্থায়ী ছাউনিতে ৫-৬ জন সশস্ত্র আরএসও সদস্য অবস্থান করছে বলে বিজিবি গোপন সংবাদ পায়।
খবর পেয়ে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত সেখানে অভিযান চালায়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়েই সশস্ত্র আরএসও সন্ত্রাসীরা বিজিবিকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে! কিন্তু বাংলার সীমান্ত রক্ষীরা দমে যাওয়ার পাত্র নয়! আত্মরক্ষার্থে এবং দেশকে সুরক্ষিত রাখতে বিজিবিও তৎক্ষণাৎ গর্জে ওঠে এবং পাল্টা গুলি চালায়।
বিজিবির তীব্র প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে জান বাঁচাতে অস্ত্রধারী আরএসও সদস্যরা ছাউনি ছেড়ে গহীন জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়। গোলাগুলিতে কোনো হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও, ঘটনাস্থল তল্লাশি করে বিজিবি উদ্ধার করেছে আধুনিক ও ভারী অস্ত্র,গোলাবারুদ, বিশাল ইয়াবার চালান!
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান ও মাদকসংশ্লিষ্ট অর্থ পাচারের দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে এশিয়ায় শীর্ষ এবং বিশ্বে ৫-ম অবস্থানে রয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সমীক্ষা অনুযায়ী, এই সর্বনাশা মাদক চোরাকারবারের কারণে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে গড়ে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি অবৈধভাবে বিদেশে পাচার বা বেরিয়ে যাচ্ছে!
এই টাকার বিনিময়ে আমাদের প্রিয় জন্মভূমি উপহার পাচ্ছে একটা ‘মাতাল ও ধ্বংসোন্মুখ’ তরুণ প্রজন্ম! হাজারো পরিবার আজ এই মাদকের ছোবলে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে, ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ তরুণ স্বপ্ন।
দেশ ও যুবসমাজকে এই ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং সরকারের মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে আরও জিরো-টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা উচিত। সীমান্তে যেন একটি মাদকের দানাও দেশে ঢুকতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের আরও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।