বিশেষ প্রতিবেদন :
জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা, জাল নথি ব্যবহার এবং অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে ০৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- (০১) মাঞ্জুর প্রধানিয়া (৩৫), পিতা- মৃত আব্দুর রাজ্জাক প্রধানিয়া, মাতা- মোসা. নুর নাহার বেগম, সাং- মুন্সীরহাট, থানা- চাঁদপুর সদর, জেলা- চাঁদপুর, বর্তমান ঠিকানা- বাসা নং- ৬৯১, আশকোনা বাজার, থানা- দক্ষিণখান, ঢাকা; (০২) মো. ওসমান গনি (২৫), পিতা- মো. ফয়জুল্লাহ, মাতা- মোসা. মরিয়ম বেগম, সাং- ফতেপুর, থানা- কচুয়া, জেলা- চাঁদপুর, বর্তমান ঠিকানা- পূর্বাঞ্চল রোড, ২ নং লেন, বাসা নং- ০২, থানা- বাড্ডা, ঢাকা এবং (০৩) কাজী মো. আতা-ই-রাব্বি (২৮), পিতা- মৃত কাজী আবুল কাশেম, মাতা- মোসা. বিবি আয়েশা, সাং- পূর্ব আদালতপুর, থানা- চন্দ্রগঞ্জ, জেলা- লক্ষ্মীপুর, বর্তমান ঠিকানা- পূর্বাঞ্চল রোড, ২ নং লেন, বাসা নং- ০২, থানা- বাড্ডা, ঢাকা।
সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেলের একটি চৌকষ দল গত ১৪/০৬/২০২৬ খ্রি. তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪:০০ ঘটিকায় উত্তর বাড্ডাস্থ রূপায়ণ মিলেনিয়াম স্কয়ারে অবস্থিত ‘সুরাহ ট্রাভেলস এন্ড ট্রেডারস’-এ অভিযান পরিচালনা করে এজাহারনামীয় এই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, জর্ডানের আম্মানে আল-তাজামুয়াত ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে অবস্থিত ‘জেরাশ গার্মেন্টস এন্ড ফ্যাশন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড’-এর নাম, লোগো ও সিলমোহর জাল করে সুরাহ ট্রাভেলস এন্ড ট্রেডারস নামক প্রতিষ্ঠানটি জর্ডানে শ্রমিক ভিসায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে আসছিল।
এ বিষয়ে জর্ডানে অবস্থিত জেরাশ গার্মেন্টস এন্ড ফ্যাশন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস, জর্ডানের মাধ্যমে অভিযোগ দাখিল করে। পরবর্তীতে অভিযোগটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরিত হলে বিষয়টি তদন্তের জন্য সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেল অনুসন্ধান শুরু করে।
প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা যায়, সুরাহ ট্রাভেলস এন্ড ট্রেডারস মূলত একটি ট্রাভেল এজেন্সি হলেও তাদের কোনো বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স নেই। তা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে জর্ডান, সৌদি আরব, সার্বিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিক পাঠানোর বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছিল।
সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির অফিস থেকে ৫৫টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ১৬টি বিদেশগমন সংক্রান্ত চুক্তিনামা (নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে), ০২টি সিপিইউ এবং ০১টি ডিভিআর জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পাসপোর্টগুলোর মধ্যে ১৮টি জর্ডানে এবং অবশিষ্ট পাসপোর্টগুলো সৌদি আরবে গমনেচ্ছুক ব্যক্তিদের বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে যে, বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করছিল, যা অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সংক্রান্তে সিআইডি উপরে উল্লিখিত ৩ জন অভিযুক্তসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে বাড্ডাথানার মামলা নং- ১৮ তাং- ১৫/০৬/২০২৬ খ্রি. ধারা- ১৫/২০ মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ ২০২৬ রুজু করে।
অপরাধের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি ও সহযোগীদের শনাক্ত এবং গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।