বিশেষ সংবাদ :
(মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি)
স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বারংবার অভিযোগ দেওয়ার পরেও কোন প্রতিকার পায়নি ভূক্তভুগিরা।ফুলবাড়ীতে নিজ পুকুরের মাছ জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষরা।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় আলাদীপুর ইউনিয়নের মোছাঃ সালমা আক্তার এর পৈত্রিক সম্পত্তিতে (পুকুর) মাছ চাষ করেও নিজে মাছ ধরতে পারছে না বাসুদেবপুর আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবারত ১। মোঃ জাকির (৪০), পিতা-মৃত নজির উদ্দিন, ২। মোঃ রমজান আলী (৩৫), পিতা-মোঃ রফিক, ৩। মোঃ আরিফুল (৩৮), পিতা-মোঃ জয়নাল আবেদিন, ৪। মোঃ সুমন (৩৭), পিতা-অজ্ঞাত, ৫। মোঃ রাসেল (৩৩), পিতা-মৃত খবির গংদের কারণে। তারা প্রায় সময় ঐ পুকুরের মালিক মোছাঃ সালমা আক্তার এর পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদশন করে আছে।
এই ঘটনায় ভূক্তভোগী মোছাঃ সালমা আক্তার গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬.০০টায় নিজ বাড়ীতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানায় যে, নিম্ন তফসিল দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী থানাধীন বাসুদেবপুর মৌজাস্থ, জেএল নং-৬৮, খতিয়ান নং-এস.এ-৪৩২, দাগ নং-২৮২৯, রকম-পুকুর, পরিমান-১.০২ একর পুকুর আমার স্ত্রী মোছাঃ সালমা আকতার তার পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগদখল করে এবং পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছি।
প্রতিপক্ষগণ প্রায় সময় আমার অবর্তমানে উক্ত পুকুর হইতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে জাল দিয়ে পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে যায়। উক্ত বিষয়ে জানতে পেরে আমি বিবাদীগণদের জিজ্ঞাসা করতে গেলে বিবাদীগণ আমি এবং আমার স্ত্রীর উপর ক্ষীপ্ত হয়ে বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে।
পরবর্তিতে আমি উক্ত বিষয়ে সমকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করি। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর হুকুমে তার অফিস সহকারী মোঃ শামিম উল্লেখ ব্যক্তিদেরকে মোবাইল ফোন করে মাছ ধরার থেকে বিরত থাকতে বলে। কিন্তু তারা কোনো কথাতেই কর্ণপাত না করে একইরকমভাবে উক্ত পুকুরে মাছ ধরতে থাকে। পরবর্তিতে পুনরায় উক্ত বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে অবগত করলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর হুকুমে ২নং আলাদীপুর ইউনিয়নের তফসিলদার বিবাদীগণদের উক্ত পুকুরে মাছ ধরতে নিষেধ করে। কিন্তু তারপরও তারা পুকুরে মাছ ধরতে থাকে।
গত ইং ২৪/০২/২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ৩.০০ ঘটিকার সময় দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী ধানাধীন ২নং আলাদীপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামে তফসিল বর্ণিত পুকুরে বিবাদীগণ অবৈধভাবে প্রবেশ করে উক্ত পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে যায়। পরবর্তিতে আমি মাছ ধরার বিষয়টি জানতে পেরে উল্লেখ ব্যক্তিগণকে মাছ ধরার কারন সংক্রান্তে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে সকলে তাদের হাতে থাকা লোহার রড এবং বাশের লাঠি নিয়ে আমাকে এবং আমার স্বামীকে বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে। এবং বলে যে, তোদের পুকুরের মাছ আমরা চুরি করেছি এবং করতে থাকব, তোর কি করার আছে গিয়ে কর, যদি বেশি বাড়াবাড়ী করিস তাহলে তোদের কে প্রাণে মেরে ফেলব, নাহলে তোদের বড় ধরনের ক্ষতি করবে মর্মে বিভিন্ন ধরনের হুমকি সহ ভয়ভীতি প্রদান করে।
গত ১৭/০৮/২০২৬খ্রিঃ তারিখ সন্ধা অনুমান ১৯.১২ ঘটিকায় মোবাইল নম্বর ০১৮৩৮-৩৪৪৩৩০ হইতে আমার স্বামীকে ফোন করে হুমকি দিয়ে বলে যে, আজ রাত্রী ১২.০০ টার পর হইতে যেকোনো সময় তফসীল বর্ণিত পুকুর হইতে জাল দিয়ে মাছ ধরবো। তোদের কত ক্ষমতা আছে পারলে এসে ঠেকাইস। যদি মাছ ধরার কাজে তুই বা তোর পরিবারের কেউ বাধা দিতে আসে তাহলে তোদের মেরে ওখানেই লাশ গুম করে ফেলবো মর্মে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে। পুনরায় গত ২৫/০৮/২০২৬ইং তারিখে ভোর ৬.০০টার দিকে মাছ ধরে নিয়ে যায়।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, তারা বারবার মাছ চুরি করে এখন একটি মহলের ইন্দনে তারা পুকুরটি নিজের বলে দাবী করছেন। মাছ চুরির বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশের কাছে বারংবার অভিযোগ দেওয়ার পরেও কোন প্রতিকার না পেয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টির সুষ্ঠ সমাধান চাই।