বিশেষ সংবাদ :
(আনারুজ্জামান বিশেষ প্রতিনিধি)
আর্থিক দৈন্য ও প্রতিকূলতা যে ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানতে বাধ্য- তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে খুলনাজেলার পাইকগাছা কৃষ্ণ নগরের মেয়ে মোছাঃমারিয়া আক্তার মুন্নি সব বাধা পেরিয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে এই মেধাবী শিক্ষার্থী। কে ডি এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়ে ১,২৫০ নম্বরের মধ্যে ১১৬৬ নম্বর পেয়ে ‘গোল্ডেন এ+’ অর্জন করেছে সে। তার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য-একজন সফল ডাক্তার হয়ে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করা। প্রতিভাবান মারিয়া আক্তার মুন্নি উপজেলার কৃষ্ন নগর গ্রামের কৃষক গাজী মোঃ শাহিদুর রহমানও গৃহিনী রহিমা খাতুনের সন্তান।
শত টানাটানির মধ্যেও বাবা-মা মেয়ের পড়াশোনায় কখনো ঘাটতি আসতে দেননি। এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিটি বিষযেই সর্বোচ্চ গ্রেড (এ+) অর্জন করেছে মারিয়া আক্তার মুন্নি । তার এই ফলাফলে পরিবার, শিক্ষকমণ্ডলী ও পুরো এলাকাবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দের হাওয়া। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছেলেবেলা থেকেই মারিয়া ছিল অত্যন্ত অধ্যবসায়ী ও নিয়মনিষ্ঠ। অহেতুক সময় নষ্ট না করে নির্ধারিত রুটিন মেনে পড়ার টেবিলে বসত সে। পাশাপাশি বিদ্যাপীঠের শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করত। নিজের অনুভূতি জানিয়ে মারিয়া আক্তার মুন্নি বলে, “এমন রেজাল্ট করতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত। আমার এই অর্জনের পেছনে মা-বাবা ও শিক্ষকদের সবচেয়ে বড় অবদান রয়েছে।
তাঁরা সবসময় আমাকে সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আমার ইচ্ছা, ভবিষ্যতে ডাক্তারিতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করা। এই স্বপ্ন পূরণে আমি সবার কাছে দোয়া চাই।”
মেয়ের অসামান্য অর্জনে আবেগাপ্লুত বাবা মোঃ শহিদুর রহমান বলেন, “মারিয়া আমাদের একমাত্র আশা। অভাব-অনটনের মধ্যেও আমরা চেষ্টা করেছি তার পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়। সে ছোটবেলা থেকেই পড়ার প্রতি অনুরাগী। মেয়েটা যেন নিজের স্বপ্ন পূরণ করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে, সে জন্য অভিভাবক হিসেবে আমরা সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে যাব।”
কে ডি এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ শিক্ষকমণ্ডলী ও স্থানীয় বিশিষ্ট্যজনেরা জানান, মারিয়ার এই সাফল্য অঞ্চলের অন্য শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে। নিয়মিত পড়াশোনা, শিক্ষকদের পরামর্শ এবং পরিবারের সহযোগিতায় যে বড় সাফল্য পাওয়া সম্ভব, মারিয়া তারই বড় প্রমাণ। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও সে এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নিজের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পৌঁছাবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।