1. abdullahharun2014@gmail.com : dailysarabela24 :
বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
দৈনিক সারাবেলা ২৪ , সত্য সংবাদ প্রকাশে আপোষহীন visit . www.dailysarabela24.com অনলাইন ভিত্তিক নিউজ পোর্টাল সংবাদ পড়ুন ও মন্তব্য করুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের এড দিন , সংবাদ প্রকাশের জন্য যোগাযোগ করুন - ০১৯৭১-৮৪১৬৪২,০১৩২২-১৭৫০৫২
সংবাদ শিরোনাম:
রূপগঞ্জে গাজী টায়ারস ট্রেজিডি, ২ বছরেও থামেনি স্বজনদের আহাজারি রূপগঞ্জে নাশকতা প্রতিরোধে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও মোটরসাইকেল শোডাউন সিএমপি’র সার্বিক নিরাপত্তায় যথাযথ ধর্মীয় ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপিত হলো জশনে জুলুস ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী নিম্নোক্ত বাণী দিয়েছেন বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার নতুন কুঁড়ি চ্যাম্পিয়নদের মাঝে স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আগ্রহী: প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল ফুলবাড়ীতে নিজ পুকুরের মাছ জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষরা আগামী মাসে ফেনীর মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান- এ্যানি চৌধুরী জাপানি ভাষা শিখে বিনা খরচে বিদেশে চাকরির সুযোগ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের: মাহ্‌দী আমিন রূপগঞ্জে গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক ও সড়ক অগ্রাধিকার নির্ধারণ বিষয়ক কর্মশালা

রূপগঞ্জে গাজী টায়ারস ট্রেজিডি, ২ বছরেও থামেনি স্বজনদের আহাজারি

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩০ বার ভিউ

বিশেষ সংবাদ :

(নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ)

‘আমারে যদি পোলাডার হাড়গোড়ও দিতো। বুকে চাইপা ধইরা দুঃখ ভুইল্লা যাইতাম। আমার বাপধনের পোড়া ছাইটাও তো পাইলাম না।’

ছেলে আমান উল্লাহর কথা বলতে গিয়ে বারবার কেঁদে উঠছিলেন রাশিদা বেগম। ২১ বছর বয়সী আমান ছিলেন একটি ব্যাটারি কারখানার শ্রমিক। ২০২৪ সালের আগস্টে রূপগঞ্জের গাজী টায়ারস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ নেই।

দুই বছর ধরে ছেলের সন্ধানে কখনো জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে, কখনো পুলিশের কাছে, আবার কখনো স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাজনীতিবিদদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন বৃদ্ধা মা। কয়েক দিন পরপর গাজী টায়ারস কারখানার সামনেও যান- যদি কেউ কোনো খবর দিতে পারেন, যদি কোনোভাবে জানতে পারেন ছেলের কী হয়েছিল। কিন্তু দুই বছরেও কোনো উত্তর পাননি তিনি।

শুধু রাশিদা বেগম নন, গাজী টায়ারসে ওই অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজ হওয়া ১৮২ জনের পরিবারের প্রায় একই অবস্থা। থানা পুলিশ থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও স্বজনরা এখনো জানতে পারেননি তাদের প্রিয়জনেরা কোথায় আছেন, কিংবা কীভাবে মারা গেছেন।

প্রশাসন ও পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, নিখোঁজদের তালিকা ধরে অনুসন্ধান চালিয়েও কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের ধারণা, ভয়াবহ আগুনে নিখোঁজদের মৃত্যু হয়েছে। তবে দুই বছরেও সরকারি বা আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

আর এই অনিশ্চয়তাই এখন পরিবারগুলোর জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়ায় অনেক পরিবার মৃত্যুসনদ, ওয়ারিশ সনদসহ প্রয়োজনীয় সরকারি কাগজপত্র করতে পারছে না। কোথাও আটকে আছে সন্তানের জন্মনিবন্ধন, কোথাও ঋণের দায় থেকে মুক্তির প্রক্রিয়া। উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়লেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পথও বন্ধ হয়ে আছে।

‘দিন সবার ঠিকমতোই চলছে, আমাদের জীবনটা থাইমা আছে’

রূপগঞ্জের মৈকুলী এলাকার শাহাদাত শিকদার (৩০) ছিলেন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। তার সঙ্গে ওই ঘটনায় নিখোঁজ হন তার ছোটভাই সাব্বির শিকদার (২৬) এবং বোনের স্বামী জমির আলী (৩৬)। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন মাস পর শাহাদাতের সন্তান আব্দুল্লাহর জন্ম হয়।

কিন্তু ১৭ মাস পেরিয়ে গেলেও শিশুটির জন্মনিবন্ধন করতে পারেনি পরিবার।

শাহাদাতের বোন সিনথিয়া আক্তার বলেন, “এতদিনেও যখন তারা কেউ ফেরেনি, আমরা বুঝতে পারতেছি যে, তারা আর বেঁচে নেই। কিন্তু ডেথ সার্টিফিকেট না থাকায় জন্ম নিবন্ধন বা ওয়ারিশ সনদ কিছুই করাতে পারতেছি না।”

শুধু কাগজপত্রের জটিলতাই নয়, শাহাদাতের নামে থাকা ঋণের কিস্তিও পরিবারকে টানতে হচ্ছে।

“ভাইয়ের নামে কিস্তির টাকা ছিল, মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়ায় তাও মাফ হইতেছে না। রোজ এ নিয়ে কিস্তির লোকজন আইসা কথা শোনায়,” বলেন সিনথিয়া।

উপার্জনক্ষম দুই ভাই ও বোনের স্বামীকে হারিয়ে পরিবারটির আর্থিক অবস্থাও ভেঙে পড়েছে। সংসারের হাল ধরতে সিনথিয়া নিজেই স্থানীয় একটি সাবান কারখানায় চাকরি নিয়েছেন।

অন্যদিকে নিখোঁজ মো. আরিফের স্ত্রী ফারজানা বেগমের জীবনও থমকে গেছে। ২৭ বছর বয়সী আরিফ একটি টেক্সটাইল মিলে কাজ করতেন। স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসা ছেড়ে মায়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন ফারজানা।

“আগে ভাড়াবাসায় থাকতাম। অনেক ভাড়া জইমা যাওয়ায় মায়ের বাড়িতে চলে আসছি। ছেলেটারে কেজি স্কুলে পড়াইতাম, ওইটাই ছাড়ান দিছি। এখন সরকারি স্কুলে যায়। আরেক বাচ্চা আরো ছোট। ওরে রাইখা কাজেও যাইতে পারি না,” বলেন তিনি।

তার কণ্ঠে হতাশা- “দিন যাইতাছে সবার ঠিকমতোই, কিন্তু আমাদের জীবনডা তো থাইমা আছে।”

নিখোঁজ ট্রাকচালক নূর হোসেনের স্ত্রী পারভীন বেগমও এখন একটি টিনশেডের এক কক্ষের বাসায় দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে থাকেন। স্বামী নিখোঁজ হওয়ার আগে দুই কক্ষের পাকা বাসায় থাকলেও পরে সেই বাড়ি ছেড়ে দিতে হয়েছে।

তার আক্ষেপ, স্বামী আর ফিরবেন না, এটা মেনে নেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে না।

“মানুষটা তো ফিরে নাই। উনি যে মারা গেছেন এই ঘোষণা দিলেও তো বিধবা ভাতার একটা কার্ড করাইতে পারি। তাও তো করতেছে না,” বলেন তিনি।

ওই দিন কী ঘটেছিল গাজী টায়ারসে?

রূপগঞ্জের রূপসী এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে গাজী টায়ারস কারখানাটির মালিক ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন কারখানাটিতে প্রথম দফায় হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ হয়। জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই দিন থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত কারখানায় লুটপাট চলে। পরে ভবনটির বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বন্ধ ছিল।

এরপর ২৫ আগস্ট রাতে, গোলাম দস্তগীর গাজী গ্রেপ্তার হওয়ার দিন, কারখানাটিতে দ্বিতীয় দফায় লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

পরদিন সকাল থেকেই আশপাশের এলাকার লোকজন কারখানার সামনে ভিড় করতে থাকেন। নিখোঁজ স্বজনদের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে প্রশাসন তালিকা তৈরি শুরু করে। পরে তদন্তে মোট ১৮২ জনের নিখোঁজ থাকার তথ্য উঠে আসে।

ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট প্রায় ২২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন পুরোপুরি নেভাতে সময় লাগে পাঁচ দিন। দীর্ঘ সময় আগুন জ্বলতে থাকায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। ফলে সেখানে ব্যাপকভাবে উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি।

আগুন নেভানোর পর ভবনের বেজমেন্টে প্রাথমিক উদ্ধার অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিস। তবে সেখানে কোনো হতাহত ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। এরপর ভবনটিতে আর কোনো উদ্ধার অভিযান চালানো হয়নি।

তদন্তে ১৮২ নিখোঁজ, কিন্তু নেই পরবর্তী উদ্যোগ

অগ্নিকাণ্ডের দুই দিন পর, ২৭ আগস্ট, তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হামিদুর রহমানকে প্রধান করে আট সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন। ১২ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে ৩২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ আগস্টের ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিলে প্রায় তিন সপ্তাহ পরের এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এড়ানো সম্ভব হতে পারত।

ওই সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল মাত্র দুই সপ্তাহ আগে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

তদন্তে বলা হয়, ছয়তলা ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় তামা ও রাসায়নিক লুট করতে গিয়ে একদল লোক নিচতলার গেট বন্ধ করে আগুন ধরিয়ে চলে যায়। ভবনে থাকা দাহ্য পদার্থের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

তবে নিখোঁজদের ভাগ্যে কী ঘটেছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর তদন্ত প্রতিবেদনের পরও অমীমাংসিত থেকে যায়।

অগ্নিকাণ্ডের পাঁচ দিন পর, ১ সেপ্টেম্বর, জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি কারখানার সামনে গণশুনানির আয়োজন করে। সেখানে নিখোঁজ ৮০টি পরিবারের সদস্য অংশ নেন।

গণশুনানি শেষে স্বজনরা বাধা উপেক্ষা করে কারখানার ভবনে ঢুকে ১৫ খণ্ড হাড় উদ্ধার করেন। পরে সেগুলো পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়। তখন হাড়গুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানোর কথা জানানো হয়েছিল।

কিন্তু দুই বছর পরও সেই হাড়গুলোর ডিএনএ পরীক্ষা হয়নি।

‘ডিএনএ পরীক্ষা হলে নিশ্চিত হওয়া যেত’

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে থাকা তালিকা ধরে নিখোঁজদের সন্ধানে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। কিন্তু কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

“আমরা ধারণা করছি, তারা মারা গেছেন,” বলেন তিনি।

কারখানা থেকে উদ্ধার হওয়া হাড়গুলো এখনো সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “ডিএনএ পরীক্ষা করলে হয়তো ওই হাড়গুলো নিখোঁজ ব্যক্তিদের কিনা নিশ্চিত হওয়া যেত। কিন্তু এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশনা না থাকায় পরবর্তী কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি।”

অর্থাৎ, ১৮২ জনের নিখোঁজের তথ্য সরকারি তদন্তে উঠে এলেও, তাদের ভাগ্যে আসলে কী ঘটেছিল তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরেনসিক প্রক্রিয়াই দুই বছর ধরে আটকে আছে।

নিখোঁজদের জন্য মামলা হয়নি

গাজী টায়ারস কর্তৃপক্ষ ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে থানায় দুটি মামলা করলেও নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো অভিযোগ সেখানে নেই বলে জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (রূপগঞ্জ-আড়াইহাজার সার্কেল) মেহেদী ইসলাম।

তিনি বলেন, “লুটপাটের অভিযোগে কারখানা কর্তৃপক্ষ দুটি মামলা করেছে। ওই মামলা দুটির তদন্ত করছে পুলিশ। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু সেখানে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে কিছু নেই।”

তার ভাষ্য, সে সময় পুলিশ বাদী হয়ে নিখোঁজদের বিষয়ে মামলা করতে পারত। তবে কেন তা করা হয়নি, সে বিষয়ে তখনকার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাই বলতে পারবেন।

মেহেদী ইসলাম বলেন, “আমরা নিখোঁজ ১৮২ জনের তালিকা ধরে তাদের সন্ধান করেছিলাম। কাউকে আমরা পাইনি। এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।”

অন্যদিকে, অন্তত তিনটি নিখোঁজ পরিবারের সদস্য জানান, তারা সে সময় মামলা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ‘লুটপাট করতে গিয়ে মারা গেছেন, মামলা করলে আরও ঝামেলায় পড়তে হবে’- এমন ভয় দেখানোয় তারা মামলা করেননি। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে কয়েকজন নিখোঁজ ব্যক্তির বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন।

অপেক্ষার শেষ নেই

নিখোঁজ ১৮২ জনের পরিবারের কাছে দুই বছর ধরে অপেক্ষার অর্থ কেবল প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আশা নয়; একই সঙ্গে মৃত্যুর নিশ্চয়তা পাওয়ার অপেক্ষাও।

পরিবারগুলো বলছে, তারা এখন আর অলৌকিকভাবে স্বজনদের ফিরে আসার আশা করছেন না। তারা অন্তত জানতে চান- সেদিন কী ঘটেছিল, তাদের স্বজনেরা কোথায়, আর কারখানা থেকে উদ্ধার হওয়া হাড়গুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক আছে কি না।

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, কয়েকটি নিখোঁজ পরিবারের সদস্য সম্প্রতি তার সঙ্গে দেখা করেছেন। এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা এ বিষয়ে খোঁজখবর করে একটা আপডেট দিতে পারবো।”

নিখোঁজদের পরিবারের সরকারি কাগজপত্র তৈরিতে কোনো জটিলতা হলে তাদের সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

তবে দুই বছর ধরে যাদের স্বজনের কোনো সন্ধান নেই, তাদের কাছে এখন আশ্বাসের চেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি নিশ্চিত উত্তর- ‘তাদের প্রিয়জনদের কী হয়েছিল।’

আর সেই উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত রাশিদা বেগমের মতো শত শত স্বজনের অপেক্ষারও শেষ হচ্ছে না।###

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ©2024 -2026-ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Desing & Developed BY ThemeNeed.com