বিশেষ প্রতিবেদন :
চট্টগ্রাম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিঃ।
কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ ও কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে আজ জেলার ১৭টি থানা এলাকায় একযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বাজার, রেলস্টেশন, মাঠ, পরিত্যক্ত ও নির্জন স্থানসহ কিশোরদের আড্ডার সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন স্থানে আড্ডারত ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত কিশোরদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করা হয়।
অভিযানে জেলার ১৭টি থানা এলাকায় মোট ৩৫৪ জন কিশোরকে থানায় আনা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ২৯৩ জন কিশোরকে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকার মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। অপরদিকে অভিযানে মাদক ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১৫২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ অভিযানে সর্বমোট ৪৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
অভিযান শেষে অভিভাবকদের থানায় ডেকে এনে সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে সন্তানরা কখন, কোথায় এবং কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, নিয়মিত কোথায় যাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে বাড়িতে ফিরে আসছে কি না এসব বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখার জন্য অভিভাবকদের ব্রিফ করা হয়। পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা, চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে নজরদারি এবং মাদক ও অপরাধপ্রবণ পরিবেশ থেকে দূরে রাখার বিষয়ে বিভিন্নভাবে সচেতন করা হয়।
জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম বলেন, “সন্ধ্যার পর কোনো কিশোরকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। বিশেষ করে নির্জন স্থান, পরিত্যক্ত ভবন, মাঠ বা অপরাধপ্রবণ এলাকায় সন্ধ্যার পর কিশোরদের আড্ডা, মাদক সেবন বা মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড, মোবাইল গেমিংসহ যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিভাবকদেরও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং সন্ধ্যার পর বাইরে থাকলে কী করছে এসব বিষয়ে অভিভাবকদের অবশ্যই নজর রাখতে হবে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না।”
কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ কার্যক্রমে অভিভাবকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।