বিশেষ প্রতিবেদন :
(নিজস্ব প্রতিবেদক এম এ হান্নান)
বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে অপচনশীল পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (Single-use Plastic)। দৈনন্দিন জীবনের সহজলভ্যতা ও সুবিধার কারণে মানুষ অকাতরে পলিথিন ব্যবহার করলেও, এটি এখন আমাদের মাটি, পানি, বাতাস ও সার্বিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
পলিথিনে পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব
পলিথিন একটি অপচনশীল পদার্থ। এটি মাটিতে মিশে যেতে শত শত বছর সময় নেয়। মাটিতে জমা হয়ে এটি উদ্ভিদের মূল বিস্তার ও পুষ্টি উপাদান শোষণে বাধা সৃষ্টি করে, যা মাটির প্রাকৃতির উর্বরতা নষ্ট করে।
যত্রতত্র ফেলে দেওয়া পলিথিন নর্দমা, ড্রেন ও খালে জমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই শহর ও লোকালয়ে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
নদী ও সাগরে ভেসে যাওয়া পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য সামুদ্রিক প্রাণী ও মাছ খাদ্য মনে করে গিলে ফেলে। এতে প্রতি বছর হাজার হাজার জলজ প্রাণী ও পাখির মৃত্যু ঘটে।
পলিথিন পোড়ানো হলে তা থেকে মারাত্মক ক্ষতিকর ডাইঅক্সিন ও ফিউরান গ্যাস নির্গত হয়, যা মানবদেহে ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগের কারণ হতে পারে। এছাড়া মাইক্রোপ্লাস্টিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে।
পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ রোধে করণীয়
আইনকরাদরকার ক্ষতিকর নিষিদ্ধ পলিথিনের উৎপাদন, বাজাড়জাতকরণ ও ব্যবহারের ওপর সরকারি মনিটরিং ও আইনি ব্যবস্থা কঠোর করতে হবে।
পলিথিনের বদলে পাট, কাপড়, কাগজ বা পচনশীল বায়োপ্লাস্টিকের থলে ব্যবহারে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত ও এর বাজার সহজলভ্য করতে হবে।
প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য পুনঃব্যবহার (Recycle) করার আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
জনসচেতনতা বৃদ্ধি: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে পলিথিনের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে সচেতন করতে হবে।
পলিথিন দূষণ কোনো একক সমস্যার বিষয় নয়; এটি আমাদের পুরো পৃথিবীর অস্তিত্বের ওপর এক বিশাল হুমকি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে হলে পলিথিনের ব্যবহার এখনই শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারি পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।