বিশেষ সংবাদ :
মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি
দেশের উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ৩ মাসেও চালু হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই, ৩ মাসেও উৎপাদনে না যাওয়ার সম্ভাবনা। ২টি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ। ২ টি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার এই কেন্দ্রে ১২৫ মেগা ওয়াট ক্ষমতা ১ম ইউনিটটি গত ৫ ই অক্টোবর সোমবার সকালে এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পূর্ণ ৩য় ইউনিটটি গত ৬ ই অক্টোবর মঙ্গলবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রেড ফেল হওয়ায় ৩ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। টারবাইনের শ্যাফটের বিয়ারিং অকেজো হয়ে যায়। উল্লেখ্য যে, সেলু বয়েল পাম্প চালু না করায় এ দূর্ঘটনা ঘটে। যার কারণে ৩ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। অপরদিকে ১ নম্বর ইউনিটের বৈদ্যুতিক ইলেকট্রিক তারে শর্ট সার্কিট হওয়ার কারণে ৩ টি ট্রের তার পুড়ে যায়। সেই ট্রের মধ্যে ৫০০ থেকে ১০০০ ক্যাবল তার থাকে। বর্তমান ১ নম্বর ইউনিটটি সচল করতে হিমশিম থেতে হবে কর্তৃপক্ষকে। এখন ১ নম্বর ইউনিটের বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ৩ নম্বর ইউনিটের শ্যাফট বাঁকা হয়ে গেলে ইউনিটটি চালু করতে গেলে ব্যয় বহুল বেড়ে যাবে। ২ টি ইউনিট মেরামত করতে প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পূর্ণ ২য় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকেই বন্ধ হয়েছে। প্রায় ৭ বছর ধরে ২য় ইউনিটটির বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে এই ইউনিটটি মেরামত করতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে। এরপর ১ নম্বর ইউনিটটি জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছিল ।
সেটিও গত ৫ অক্টোবর সোমবার আগুন লাগিয়ে ট্রেতে বিছানো তার পুড়িয়ে যায়। বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন ২ টি ইউনিটের যান্ত্রিক ত্রুটি সংস্কার করতে চীনা হারবিন কোম্পানির প্রকৌশলীরা মেরামত করতে কাজ করছে। এখনও ইউনিট দুটির মেরামত কাজ শুরু করা হয়নি। চিনা হারবিন কোম্পানির সাথে চুক্তি থাকলেও তারা ইউনিট ২ টির কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা না দেখা পর্যন্ত ব্যয়ের হিসাব নিকাশ করতে পারছে না।
এ দিকে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের মারাত্নক সংকট দেখা দিয়েছে উত্তরের ৮ টি জেলায়। ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পূর্ণ ৩য় ইউনিট থেকে প্রতিদিন ১৬০-১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হতো। ইউনিটটি চালু রাখতে প্রতিদিন ২ হাজার ৫ শত মেট্রিক টন কয়লা জ্বালানিতে ব্যয় হতো। ১২৫ মেগাওয়াট ১ নম্বর ইউনিটে প্রতিদিন ৫০-৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ার পর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হতো। এই ইউনিটে প্রতিদিন জ্বালানি হিসেবে প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন কয়লা ব্যবহার হতো।
গত ১লা নভেম্বর থেকে প্রায় ৬ মাস বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ১৯ শে মে ৩ য় ইউনিটটি উৎপাদনে যায়। এই ইউনিটটি মেরামত করতে প্রায় ৪.৪ মিলিয়ন ইউএস ডলার ব্যয় হয়। যা বাংলাদেশি টাকায় ৫৩ কোটি ৮২ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা। ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ৫ বছর ১১ মাস ২য় ইউনিটটি বন্ধ রয়েছে। এই ইউনিটটি মেরামত করতে যা খরচ হবে সেই টাকা দিয়ে আরেকটি নতুন ইউনিট নির্মাণ করা যাবে।
চীনা কোম্পানি সস্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করায়, তারা সঠিকভাবে ইউনিটগুলি চালানোর সহযোগিতা না করায় দেশিয় প্রকৌশলীরা ইউনিটগুলি চালাতে পারছে না। তাপবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ইউনিটগুলি চালাতে তাদের কোনো দক্ষতার অভাব। যেখানে সরকার প্রতি বছর ইউনিটগুলি সচল রাখতে ওভার হোলিং করার জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে সেখানে তারা চীনা হারবিন কোম্পানি কি কাজ করছে সেগুলি তদারক না করে বাংলাদেশি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে থাকা প্রকৌশলীরা কাজ বুঝে নিচ্ছে না কেন?
এতে প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে বিপুল পরিমাণ সরকারি রাষ্ট্রের টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। বছরে এই ইউনিট ২টি প্রায় সময়ে বিকল হয়ে পড়ছে। উত্তরাঞ্চলে আমন মৌসুম চলছে, আমন মৌসুম শেষ হওয়ার পর ইরি বোরো মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। আগামী বোরো মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ না করা হলে উত্তরাঞ্চলের ৮ টি জেলায় ভারী শিল্পকলকারখানা ও কৃষিতে চরম ক্ষতি দেখা দিবে। বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র যেন দূর্নীতির স্বর্গরাজ্য গড়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকৌশলী মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক এর সাথে গতকাল শনিবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন গ্রহণ করেননি।
তারিখ: ১৭.১০.২০২৬