বিশেষ প্রতিবেদন :
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের নৃশংস হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত এবং ৩০০-র বেশি যাত্রী ও বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক, তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
আজ (১২ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান বলেন— “আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো একটি সম্পূর্ণ বেসামরিক নাগরিক স্থাপনায় এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি আন্তর্জাতিক আইন, মৌলিক মানবাধিকার এবং মানবিক মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন। নিরীহ মানুষের ওপর এ জাতীয় সন্ত্রাসী হামলা বিশ্ববিবেককে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।”
হেফাজত নেতৃদ্বয় নিহত দুই বাংলাদেশিসহ সকল ভুক্তভোগীর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তাঁরা আহতদের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করেন।
হুতিদের হামলার ভয়াবহতা ও হতাহতদের মানবিক দিক বিবেচনা করে নেতৃদ্বয় নিহত বাংলাদেশি নাগরিকসহ সকল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সৌদি সরকার ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আহতদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সর্বাধুনিক চিকিৎসা প্রদান ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জরুরি মানবিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান।
তারা আরও বলেন— নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ পরিবার চাইলে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে সম্মানের সঙ্গে দাফন করা কিংবা প্রবাসেই যথাযথ মর্যাদায় দাফনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নিহতের পরিবারগুলো যেন তাদের প্রাপ্য আইনগত পাওনা ও ক্ষতিপূরণ সঠিকভাবে পায়, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে দ্রুত ও কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান তাঁরা। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বিমানবন্দরসহ যেকোনো বেসামরিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা চিরতরে বন্ধে জাতিসংঘ, ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান তাঁরা।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় মহান আল্লাহর দরবারে শোকসন্তপ্ত পরিবার পরিজনদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক কামনা করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ সমগ্র বিশ্বে স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা কামনায় দু’আ করেন।