বিশেষ প্রতিবেদন :
বিদেশে ভালো চাকরি ও উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে কানাডায় পাঠানোর কথা বলে জাল ভিসা প্রদান করে ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ০১ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গত ১৪/১০/২০২৬ খ্রি. তারিখ সকাল ১১.০০ ঘটিকায় রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. হাসান মুরাদ (৩৭), পিতা- মোহাম্মদ সুলতান আহমদ, মাতা- হনুফা খাতুন, সাং-ছিটুয়াপাড়া (সুলতান সওদাগরের বাড়ী), পোস্ট- ইছামতি, থানা- সাতকানিয়া, জেলা- চট্টগ্রাম।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী পেশায় একজন গাড়ি চালক। বিদেশে গিয়ে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ভাগ্যবদল হবে এই আশায় প্রতারণা চক্রের এক সদস্যের দিদার শেখ তাকে কানাডায় পাঠানো এবং সেখানে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এ কাজের জন্য ভিসা ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ১৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আশায় শাকিল শেখ বিভিন্ন সময়ে দিদার শেখকে সর্বমোট ১৮ লাখ টাকা প্রদান করে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বাদীকে চক্রটি কানাডার স্টিকার ভিসা সংযুক্ত একটি পাসপোর্ট এবং ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান টিকিট সরবরাহ করে। গত ১১/১১/২০২৪ খ্রি. তারিখ রাত আনুমানিক ০২টার দিকে বাদী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন ইমিগ্রেশন কাউন্টারে উপস্থিত হলেদায়িত্বপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা তাঁর পাসপোর্টে সংযুক্ত কানাডিয়ান ভিসাটি পরীক্ষাপূর্বক ভিসাটি জাল বলে সনাক্ত করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বাদী প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে বিমানবন্দর থানার মামলা নং-১২, তারিখ-১১/১১/২০২৪ খ্রি., ধারা- ৪০৬/৪২০/৪৬৭/৪৬৮ পেনাল কোড রুজু করেন।
মামলার তদন্তকালে বিগত ০২/১১/২০২৫ খ্রি. তারিখে অভিযুক্ত দিদার ও পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্য ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের আরেক সদস্য অভিযুক্ত সোহেল রানাকে ২৩/০১/২০২৬ খ্রি. গ্রেফতার করে সিআইডি। গ্রেফতারকৃত সোহেল রানা ও দিদার শেখ বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে।
সিআইডির তদন্তে মামলা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়, অবস্থান এবং মামলার ঘটনায় তাদের সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করে। পরবর্তীতে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত হাসান মুরাদকে গ্রেফতার করে সিআইডি।
গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত হাসান মুরাদ (৩৭)কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাতারণার সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। মামলার ঘটনার সংশ্লিষ্টতা, অপরাপর অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ, কথিত জাল ভিসা সংগ্রহ ও সরবরাহের প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য ভূমিকা এবং প্রতারণার অর্থের লেনদেন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি জাল ভিসা সরবরাহের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি ও তাঁদের ভূমিকা শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত হাসান মুরাদ (৩৭)কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডি। মামলাটির তদন্তে গ্রেফতারকৃতদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি, পলাতক অভিযুক্ত এবং চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগী ও সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিআইডি বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করতে দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যথাযথভাবে যাচাই করার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হচ্ছে।
এছাড়াও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি করলে, পাসপোর্ট জিম্মি করে রাখলে অথবা ভিসা জালিয়াতি, মানবপাচার কিংবা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ হলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সিআইডিকে অবহিত করার জন্যও অনুরোধ করা হচ্ছে।