বিশেষ সংবাদ :
(নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ)
“রাস্তা যেন সেচের খাল, গর্তে ভরা মাছের খামার”
এক মাস না যেতেই রাস্তার বেহাল দশা, সরকারি টাকা গচ্চা।চনপাড়া-কামসাইর সড়কে গর্ত, ভাঙ্গন : ঝুঁকিতে যানচলাচল।
“চনপাড়া-কামশাইর-নগরপাড়া এলাকা নিয়ে নির্মিত ৬ কিলোমিটার চনপাড়া টু কামশাইর ভায়া নগরপাড়া সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২০১৯ সালে নির্মিত এ সড়ক। দেইলপাড়া ব্রিজ থেকে নগরপাড়া বাজার পর্যন্ত রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে ১ মাস।
কয়েক দিনের বৃষ্টিতে রাস্তাগুলোর বেহালদশা। স্থানে স্থানে ভে&েঙ্গ গেছে। কয়েক জায়গায় রাস্তা ডেবে গেছে। বিশেষ করে নগরপাড়া বাজার হতে কামশাইরের রাস্তার অবস্থা ভয়াবহ। গাড়ী তো দুরের কথা, মানুষ হেঁটে চলাই দায়। শতাধিক গর্তে হাটু পানি জমে আছে। যে কেউ মনে করবে কোনো খালে পানি জমে আছে।নয়তো মাটি কেটে পুকুর বানিয়ে রাখছে, কেউ মাছ চাষ করবে। রাস্তা তো নয় যেন সেচের খাল।” এমনি করে কথাগুলো বলেন, কামশাইরের নুর হোসেন।
বছর না ঘুরতেই নির্মিত সড়ক ভেঙ্গেচুরে একাকার হয়ে পড়েছে। ভন্ডুল হয়ে যাচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। খানাখন্দক আর কার্পেটিং ওঠে চলাচলের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। অথচ অধিকাংশ সড়ক ২০ বছর টেকসই হবে -সেভাবে ডিজাইন করে ˆতরি করা হয়।
অতিরিক্ত ভার বহন এবং মানহীন নির্মাণ কাজের কারণে দুই দশকের সড়ক দুই বছরও টিকছে না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এ প্রধান দুই কারণ ছাড়াও অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় সড়কের ক্ষতি হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।
সরজমিনে দেখা যায়, কোনো কোনো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের কিছু অংশ যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এতে সড়ক রক্ষনাবেক্ষনের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ভোগান্তির শিকার হচ্ছে মানুষ। উপজেলার একজন প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ডিজাইন অনুযায়ী নির্মাণ কাজ হচ্ছে না, ঠিকমতো মাটি পরীক্ষা করা হয় না, তাড়াহুড়া করে নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে সড়কগুলো টিকছে না। এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে কোনো সড়কই টিকবে না।
তিনি আরো বলেন, সড়ক-মহাসড়কগুলো নির্মাণে অনেক ক্ষেত্রে নিন্ম মানের বিটুমিন ব্যবহার করা হচ্ছে।সড়ক নির্মাণের কিউরিং পিরিয়ড থাকে তাও মানা হচ্ছে না। চনপাড়া (বটতলা) থেকে নগরপাড়া পর্যন্ত গাজী বাইপাস সড়কটি ৬ কিলোমিটার। এলজিইডি এ সড়কটি পাকা করেছে কয়েক বছর আগে। নগরপাড়া হতে কামসাইর সড়কটি তারও আগে নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে করা এ সড়কটি এখন কাঁচা না পাকা তা বোঝার উপায় নেই। অনেক স্থানেই কর্পেটিং ওঠে গিয়ে তা কাদার সড়কে পরিনত হয়েছে। কোথাও আবার ডেবে গিয়ে ধসে পড়ছে সড়ক। গর্তে হাটু পানি জমে আছে।
এলজিইডির হিসেবে এ সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি টাকা। বাস্তবায়ন করে উপজেলা প্রকৌশলীর তত্বাবধানে এরিষ্টোক্রেটিক এন্ড হাসমত ব্রাদার্স। বর্তমানে তা ব্যবহারের অনুপযোগী। মানুষ খালি পায়েও চলাচল করতে পারে না। মালবহনকারী ভারী যান, ৫ টনী ট্রাক, অবৈধ ছয় চাকার ˆদত্যাকৃতির যান ট্রলি বা ইয়ার মাথা ওই সড়কে ইট, বালিসহ ভারী মালামাল নিয়ে চলাচলে সগকের এমন বেহাল অবস্থা।
অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্গম হয়ে গেছে। রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নে এ সড়কটির অবস্থান। ৫ নং ওয়ার্ডের মে¤^ার মাসুম আহমেদ জানান, পশ্চিমগাও, চনপাড়া বটতলা, নগরপাড়া, কামসাইর, ইছাখালী এলাকাসহ বেশ কিছু রাস্তা মালবাহী ভারী যানবাহন , ইটাঁ, বালি বহনকারী ইছার মাথা চলাচলে ভেঙ্গে একাকার হয়ে গেছে।
এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানান, এ অবৈধ ছয় চাকার যানের কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ণে করা সড়কগুলো নষ্ট হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, এসব অবৈধ যান চলাচল বন্ধে পুলিশ প্রশাসণকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
উপজেলার বাগবাড়ী এলাকার সুজন আহমেদ লিটন দুঃখের সাথে বলেন, রাস্তার যে অবস্থা তাতে ভাল মানুষ চলাচল করলেও রোগী হয়ে যাবে। কারণ সড়ক জুড়ে অসংখ্য ছোটবড় গর্ত। গাড়ি চলে হেলেদুলে। এর মধ্যে যদি সামান্য বৃষ্টি হয় তাহলে তো দুভেৃাগের সীমাই থাকে না। অথচ এ দুরবস্থা দেখার যেন কেউ নেই।
তিনি আরো জানান, মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে শির্ক্ষাথী ও পথচারীদের। দীর্ঘদিনের এ দুভেৃাগ লাঘবে কেউ এগিয়ে আসেনি। রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, গাজীবাইপাস সড়কের ভাঙ্গাচুরার ব্যাপারে আমার জানা নেই। দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে।