বিশেষ প্রতিবেদন :
জনব বিপ্লব বসাক (৫৩) পাঁচলাইশ মডেল থানাধীন প্রবর্তক মোড় সংলগ্ন মিমি সুপার মার্কেট ২য় তলাস্থ “নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স” নামীয় প্রতিষ্ঠানের মালিক। রোমেন দে (৩৬) উক্ত প্রতিষ্ঠানে বিগত ১২/১৩ বছর যাবৎ সেলসম্যান হিসেবে কাজ করে আসছে। তিনি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত দোকানে সেলসম্যান হিসেবে মালামাল বিক্রি করতেন এবং প্রতি সপ্তাহে ০১ জন স্টাফ দোকানের মালামাল মজুদ স্টক মিলিয়ে রাখতো। ১৪/০৮/২০২৬খ্রিঃ তারিখ দুপুর অনুমান ১২:০০ ঘটিকার সময় দোকানের স্টাফরা স্বর্ণের অলংকারের মজুদ স্টক মিলাতে গিয়ে কিছু অসঙ্গতি লক্ষ্য করলে বিষয়টি দোকানের মালিককে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানায়। মালিক সংবাদ পেয়ে দ্রুত বাসা থেকে দোকানের উদ্দেশ্যে রওনা করলে বিষয়টি বুঝতে পেরে সেলসম্যান রোমেন দে ওয়াশ রুমে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে মালিক দোকানে এসে অন্যান্য স্টাফদের নিয়ে দোকানের স্বর্ণালংকারের মজুদ স্টক মিলিয়ে দেখতে পায় যে, সেলসম্যান রোমেন দে এর দায়িত্বে থাকা দোকানের মজুদ স্টকের ০৭টি বক্সে রক্ষিত ৫৩(তিপ্পান্ন) টি স্বর্ণের চুড়ি, যাহার সর্বমোট ওজন অনুমান-৯২৭.৫০০ গ্রাম বা ৭৯.৫১ ভরি, সর্বমোট মূল্য অনুমানিক-১,৮৮,২৯,৯০০/- (এক কোটি আটাশি লক্ষ উনত্রিশ হাজার নয়শত টাকা) যথাস্থানে নাই এবং উক্ত ০৭টি বক্সে ৫৩(তিপ্পান্ন)টি স্বর্ণের চুড়ির পরিবর্তে ইমিটেশন চুড়ি রাখা। ঘটনার পরেই দোকানের মালিক পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা নং-১০, তারিখ: ১৫/০৮/২০২৬খ্রি. ধারা-৪০৮/৪২০/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০ রুজু করেন। বাদীর উক্ত মামলার তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই(নিঃ)/শওকত ইমাম সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স সহ অফিসার ইনচার্জের দিকনির্দেশনায় গুপ্তচরের তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে ইং ১৮/০৮/২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ০২.০০ ঘটিকার সময় সীতাকুন্ড থানাধীন ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে উক্ত মামলার আসামী রোমেন দে (৩৬)’কে গ্রেফতার করে।পরবর্তীতে ইং ১৮/০৮/২০২৬ তারিখ আসামী রোমেন দে (৩৬)’কে বিজ্ঞ আদালতের সোপর্দ পূর্বক পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত ০৩(তিন) দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করলে তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে মামলার ঘটনার বিষয়ে নিবিড় ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামী রোমেন দে(৩৬) মামলার আত্মসাৎকৃত ৫৩(তিপ্পান্ন)টি স্বর্ণের চুড়ি বিভিন্ন জুয়েলার্সে বন্ধক রেখেছে মর্মে জানায় এবং উক্ত ৫৩টি চুড়ির মধ্যে ৪৬টি চুড়ি সিএমপি’র বাকলিয়া থানাধীন মিয়াখান নগর রোডস্থ “মর্ডাণ ইরানী জুয়ের্লাস” এর মালিক শ্যামল সিংহ (৪৭) এর নিকট বন্ধক রেখেছে মর্মে জানায়। পরবর্তীতে আসামী রোমেন দে(৩৬) এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইং ১৯/০৮/২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ২০.০০ ঘটিকার সময় বোয়ালখালী থানাধীন কানুনগোপাড়া এলাকা হইতে আসামী শ্যামল সিংহ (৪৭) গ্রেফতার করা হয়। অতঃপর ধৃত আসামী শ্যামল সিংহ (৪৭) এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইং ১৯/০৮/২০২৬ তারিখ সিএমপি’র বাকলিয়া থানাধীন মিয়াখান নগর রোডস্থ তার মালিকানাধীন “মর্ডাণ ইরানী জুয়ের্লাস” হইতে ০৭টি ভিন্ন ভিন্ন ওজনের স্বর্ণের চুড়ি (যাহার মোট ওজন-১৪২.৪০ গ্রাম) উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে ইং ২০/০৮/২০২৬ তারিখ আসামী শ্যামল সিংহ (৪৭)’কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ পূর্বক পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত ০৩(তিন) দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করলে তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে মামলার ঘটনার বিষয়ে নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামী শ্যামল সিংহ (৪৭) তাহার নিকট বন্ধকী অবশিষ্ট ৩৯(ঊনচল্লিশ)টি স্বর্ণের চুড়ি বিভিন্ন জুয়েলার্স ও বন্ধকী ব্যবসায়ীর নিকট বন্ধক রেখেছে মর্মে জানায়। আসামী শ্যামল সিংহ (৪৭) এর দেওয়া তথ্য মতে ইং ২০/০৮/২০২৬ তারিখ কোতোয়ালী থানাধীন স্বর্ণ বন্ধকী দোকান যথাক্রমে “মর্ডাণ রিনা জুয়ের্লাস” হইতে ০৩টি স্বর্ণের চুড়ি (যাহার মোট ওজন-৫৮.৮৫ গ্রাম), “সাহা জুয়েলার্স” হইতে ১৬টি স্বর্ণের চুড়ি (যাহার মোট ওজন-৩১৮.৬৯ গ্রাম) এবং “বন্ধকী ব্যবসায়ী লিটন মহাজন” এর নিকট হতে ০১টি স্বর্ণের চুড়ি (যাহার মোট ওজন-২৯.৪৬ গ্রাম), “বন্ধকী ব্যবসায়ী সাগর কারিগর” এর নিকট হতে ০৫টি স্বর্ণের চুড়ি (যাহার মোট ওজন-১০৯.৭৩ গ্রাম), “বন্ধকী ব্যবসায়ী পার্থ মহাজন” এর নিকট হতে ১১টি স্বর্ণের চুড়ি (যাহার মোট ওজন-২৫০.৩৮ গ্রাম), “বন্ধকী ব্যবসায়ী রুবেল মহাজন” এর নিকট হতে ০৩টি স্বর্ণের চুড়ি (যাহার মোট ওজন-৮০.৬২ গ্রাম) উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে জব্দ করা হয়। অপর আসামী রোমেন দে (৩৬) এর দেওয়া তথ্য মতে ইং ২০/০৮/২০২৬ তারিখ বাকলিয়া থানাধীন স্বর্ণ বন্ধকী দোকান যথাক্রমে “মর্ডাণ রিয়া জুয়ের্লাস” হইতে ০৩টি স্বর্ণের চুড়ি (যাহার মোট ওজন-৬৩.০১ গ্রাম), “শাহ আমানত জুয়ের্লাস” হইতে ০৩টি স্বর্ণের চুড়ি (যাহার মোট ওজন-৪৭.৯৭ গ্রাম), চকবাজার থানাধীন স্বর্ণ বন্ধকী দোকান যথাক্রমে “ফেন্সী জুয়ের্লাস” হইতে ০২টি স্বর্ণের চুড়ি (যাহার মোট ওজন-৩৯.৪৪ গ্রাম), “তাজমহল জুয়ের্লাস” হইতে ০১টি স্বর্ণের চুড়ি (যাহার মোট ওজন-১৭.৭৯ গ্রাম) উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে জব্দ করা হয়। উল্লেখ্য যে,উক্ত মামলায় ০৬(ছয়) জন আসামী গ্রেফতারসহ সর্বমোট ৫৫ পিস স্বর্ণের চুড়ি, যাহার ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি, যাহার পরিমাণ ১১৫৮.৩৩ গ্রাম উদ্ধার করা হয়।