বিশেষ প্রতিবেদন :
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফলের মাধ্যমে জিপিএ-৫ অর্জনের জন্য তোমাদের সবাইকে জানাচ্ছি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
বর্তমান সরকারের কাছে স্কাউটিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আজকের এই মঞ্চের দিকে তাকালেই স্পষ্ট বোঝা যায়। রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব অনেকেই আজ এখানে উপস্থিত রয়েছেন। বাংলাদেশের স্কাউটদের কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, কীভাবে তাদের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো যায়, সেই নীতি নির্ধারণের দায়িত্বে কিন্তু তাঁরাই আছেন। সরকারের সার্বিক সাফল্য যাঁদের কার্যকর ভূমিকার ওপর নির্ভর করে, সেই সচিব মহোদয়গণ আজ সবাই এই মঞ্চে উপস্থিত আছেন।
সুতরাং আমরা চাই, আমাদের যে শিক্ষার্থীরা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় এমন অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে, তারা যেন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে আরও বেশি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা পায়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। আমাদের শিক্ষার্থীরা গড়ে উঠবে সৎ, যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে; যাদের মাঝে থাকবে মানবিক গুণাবলী, দৃঢ় পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার চমৎকার মেলবন্ধন।
আমরা এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা কেবল পুঁথিগত শিক্ষায় সুশিক্ষিত হবে না, বরং বাস্তব জীবনে তার কার্যকর প্রয়োগ ঘটাতেও শিখবে। অর্থাৎ শুধু ভালো রেজাল্ট করা কিংবা সার্টিফিকেট অর্জন করাই জীবনের একমাত্র সাফল্য নয়; জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফল হতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর এই জায়গায় আমাদের মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউটদের রয়েছে এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা।
স্কাউটের সাথে সম্পৃক্ত থেকে তোমরা বছরের পর বছর ধরে সমাজসেবামূলক কাজ করে আসছ, নানাভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছ এবং নিজেদের মাঝে একজন সুনাগরিকের গুণাবলী বিকশিত করছ। এর পাশাপাশি এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাতেও তোমরা ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছ। তোমাদের এই অর্জনের জন্য নির্বাচিত সরকারের পক্ষ থেকে আমি আবারও আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।
আমরা আগামী দিনের বাংলাদেশে ইনশাআল্লাহ তোমাদেরকেই নেতৃত্বের আসনে দেখতে চাই। আজ এখানে যারা উপস্থিত আছ, তোমরা যারা এসএসসি শেষ করে কলেজে ভর্তি হবে, তারা নিশ্চয়ই এইচএসসিতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। এরপর দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ নিয়ে সেখান থেকেও অনন্য ফলাফল অর্জন করবে এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে যার যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
তবে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় একটি কথা বলেন, আমাদের সবাইকে যে কেবল ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ারই হতে হবে, বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। যার যে বিষয়ে পড়তে ভালো লাগে, যে বিষয়ে মনোনিবেশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ হয়, সরকারের পক্ষ থেকে আমরা তোমাদেরকে সেই সুযোগ ও সহায়তা প্রদান করব। কারও যদি হিউম্যানিটিজ বা সোশ্যাল সায়েন্স ভালো লাগে, কারও যদি ড্রয়িং বা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজে আগ্রহ থাকে, কারও যদি খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন থাকে, কিংবা কারও হয়তো বিতর্ক বা বিজ্ঞানচর্চায় বেশি আগ্রহ, যার যে ক্ষেত্রে মেধার বিকাশ ঘটিয়ে পেশাগতভাবে সফল হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে আমরা ইনশাআল্লাহ তোমাদেরকে সেই সর্বোচ্চ সহযোগিতাটুকু দিয়ে যাব।
আজ এখানে উপস্থিত এই মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের মূল কাণ্ডারী। ইনশাআল্লাহ, তোমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের জন্য এবং মানুষের কল্যাণে সুনাগরিক হিসেবে কাজ করে যাবে, এটাই আমাদের একান্ত প্রত্যাশা। আজ মঞ্চে আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় উপস্থিত আছেন; আজ থেকে প্রায় আড়াই দশক আগে আমিও যখন তোমাদের মতো শিক্ষার্থী ছিলাম, তখন পাবলিক পরীক্ষায় একাধিকবার ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁর হাত থেকেই কিন্তু আমিও একটি পুরস্কার পেয়েছিলাম।
মনে রাখবে, তোমাদের আজকের এই সাফল্য কোনো সমাপ্তি নয়। বরং এটি তোমাদের আরও বড় লক্ষ্য নির্ধারণের এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছার প্রাথমিক ধাপ। তোমাদের প্রত্যেকের ভেতরেই অসীম সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে শুধু নিজের ভবিষ্যৎ নয়; পাশাপাশি পরিবার, সমাজ এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎও তোমরা বদলে দিতে পারো। জীবনে অনেক চ্যালেঞ্জ ও সাফল্য আসবে। আবার ব্যর্থতাও আসতে পারে। কিন্তু কখনো হতাশ হবে না, কখনো নিজের ওপর বিশ্বাস হারাবে না। সততা, পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, মানবিকতা এবং দেশপ্রেমকে জীবনের পথচলার ভিত্তি করে এগিয়ে যাবে।
আজকের এই মঞ্চ থেকে তোমাদের কাছ থেকে একটি প্রত্যাশা আছে। মেধামী শিক্ষার্থী হিসেবে তোমরা জীবনে সফল হবে, ভালো মানুষ হবে, পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা উপলব্ধি করবে, এবং ব্যক্তিগত প্রতিটি অর্জনকে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাবে। তোমাদের হাত ধরেই আমরা এমন একটি সমৃদ্ধ, মানবিক, দক্ষ ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যে বাংলাদেশ নিয়ে আমরা সবাই বিশ্ব দরবারে গর্ব করবো ইনশাআল্লাহ।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আজ সংবর্ধনা ও অনুপ্রেরণার যে নতুন মানদণ্ড নির্ধারিত হলো, সামনের দিনগুলোতে তোমরা তা ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে যাবে। সরকারের পক্ষ থেকে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক থেকে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে তোমাদের পাশে থাকব, সার্বিক সহযোগিতা করব এবং সবসময় প্রেরণা জুগিয়ে যাব।
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন। আসসালামু আলাইকুম।