বিশেষ প্রতিবেদন :
আজ ০৯ জুলাই ২০২৬ খ্রিঃ সকাল ০৯:০০ ঘটিকা থেকে বিকাল ০৪:০০ ঘটিকা পর্যন্ত নগরীর দ্য পেনিনসুলা চিটাগং হোটেলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) এবং ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট (ডব্লিউআরআই)-এর যৌথ উদ্যোগে “Speed Reduction Through Infrastructure Design (অবকাঠামো নকশার মাধ্যমে গতি নিয়ন্ত্রণ)” শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত কর্মশালায় চসিকের ১৫ জন প্রকৌশলী ও পুলিশের ১০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। চট্টগ্রামের সড়কগুলোকে আরও নিরাপদ করে তুলতে চসিক ২০২২ সাল থেকে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজ ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিআইজিআরএস)-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করছে। পথচারীসহ সকল ব্যবহারকারীর জন্য নিরাপদ সড়কের নকশা প্রণয়নে অংশগ্রহনকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়।
কর্মশালার উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন জনাব হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক), সিএমপি, চট্টগ্রাম; চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব জনাব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন এবং জনাব মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ), সিএমপি, চট্টগ্রাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জনাব হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া বলেন, ‘সড়কগুলোকে নিরাপদ করতে চসিক এবং বিআইজিআরএস অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা করবে সিএমপি। দুর্ঘটনা রোধে আমরা শহরে গতিসীমার নির্দেশিকা কার্যকর করতে যাচ্ছি।’ এসময় তিনি চালক ও সড়ক ব্যবহারকারীদের ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার অনুরোধ জানান।
চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব জনাব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, “সড়ক নিরাপদ করতে চসিক বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে কাজ করছে। নগরীর ৫৯টি স্থানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং প্রাথমিকভাবে দুটি মোড়ে পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এআই ক্যামেরার পাশাপাশি চসিক সড়ক চিহ্ন, পথচারী পারাপার সুবিধা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো স্থাপন করবে।” তিনি আরও বলেন, সড়ক ব্যবহারকারীরা ট্রাফিক আইন মেনে না চললে শুধুমাত্র চসিক ও সিএমপির পক্ষে সড়ককে নিরাপদ করা সম্ভব নয়।
উপ-পুলিশ কমিশনার(ট্রাফিক-দক্ষিণ) জনাব মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান বলেন, সড়কে পুলিশের কাজ শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা। তবে সড়ক নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। উভয় প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে কাজ করলে আমরা সহজেই চট্টগ্রামের সড়কগুলোকে নিরাপদ করে তুলতে পারবো।
কর্মশালার কারিগরি অধিবেশনগুলো পরিচালনা করেন ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার মাইরিক পালা, ডব্লিউআরআই ইন্দোনেশিয়ার আরবান রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড নলেজ ম্যানেজমেন্ট ম্যানেজার রেত্নো উইহানেস্তা এবং ডব্লিউআরআই-এর স্থপতি ফারজানা ইসলাম তমা ও আরিনা তাহনিম। অধিবেশনগুলোতে গতি ও সড়ক নিরাপত্তার সম্পর্ক, নিরাপদ সড়ক নকশার মূলনীতি, গতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক চর্চা এবং অবকাঠামোভিত্তিক গতি ব্যবস্থাপনার ব্যবহারিক কৌশল ও মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত গতি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও গুরুতর আহত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। যানবাহনের উচ্চ গতি দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়ায়, তেমনি দুর্ঘটনার পরিণতিকেও আরও ভয়াবহ করে তোলে, বিশেষ করে পথচারী, সাইকেল আরোহী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য। তারা আরও বলেন, কার্যকর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক নকশা এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে গতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক অবকাঠামো চালকদের নিরাপদ গতিতে চলতে উৎসাহিত করতে এবং সকল সড়ক ব্যবহারকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
কর্মশালার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল দলভিত্তিক নকশা অনুশীলন, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা সড়কের বিভিন্ন ধরনের পরিবেশ-পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন এবং যানবাহনের গতি কমানোর জন্য উপযুক্ত অবকাঠামোগত সমাধান খুঁজে বের করেন। এই অনুশীলনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা দিনব্যাপী আলোচিত বিষয়গুলো সড়কের বাস্তব পরিস্থিতিতে প্রয়োগের সুযোগ পান।
কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।