বিশেষ প্রতিবেদন :
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, দেশের সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা তাদের আমানতের অর্থ সুদসহ ফেরত পাবেন।
তিনি ‘হেয়ারকাট’ (আমানতের অর্থের একটি অংশ কেটে রাখার)-এর কোনো আশঙ্কা নাকচ করে দিয়ে বলেন, ব্যাংকগুলো ক্রমবর্ধমান লোকসানে থাকায় এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগবে।
জুলাই ৮,২০২৬, সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতের অনিয়মের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকার ইতোমধ্যে একটি সমন্বিত আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলেছে।
আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সব অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘আরেকটু ধৈর্য ধরুন। এসব ব্যাংকই লোকসানে চলছে এবং প্রতিদিন লোকসান বাড়ছে। একটি ব্যাংক যখন আমানতের টাকাই ফেরত দিতে পারে না, তখন সেই ব্যাংকের জন্য সুদ পরিশোধ কতটা কঠিন, তা সহজেই বোঝা যায়।’
তবে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করব, আমানতকারীরা তাদের মূল অর্থ ও সুদ— উভয়ই পাবেন। তবে এর জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।’
ব্যাংকিং সংকটে মানুষের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক আমানতকারী চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি জানি মানুষের অপেক্ষা করার সময় নেই। কেউ চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছেন, কেউ মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না। প্রতিদিনই আমি এসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি।’
তিনি বলেন, এ সংকট নিরসনে মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে আমানতকারীদের অর্থ নিরাপদ রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আমানতকারীরা তাদের টাকা ফেরত পাবেন। সুদও পাবেন। এটি নিশ্চিত। তবে সবাইকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে।’