বিশেষ সংবাদ :
(নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ)
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় নির্মাঞ্চলের প্রায় লক্ষাদিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নিচু এলাকার রাস্তা-ঘাট ও ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতায় বন্যায় রূপ নিয়েছে।এতে করে শিশু থেকে শুরু করে অর্ধশতাধীক নারী-পুরুষ ঠান্ডা জনিত ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। জলাবদ্ধয় পানিবন্দী হয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুল ও মাদরাসার যেতে পারছেনা । এতে করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। অনেক স্থানে পানিবদ্ধতায় পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্থানীয় মাছ চাষীরা। পরিস্থিতি রূপ নিয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতার। এতে মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে। অভিযোগ রয়েছে নিষ্কাশনের খালগুলো বেদখলে ভরাট হয়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, উপজেলার নির্মাঞ্চল এলাকা গুলোতে কয়েকদিনের টানা বর্ষণে এ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। উপজেলার কাঞ্চন হাটাবো টেকপাড়া, কালাদি, নলপাথর, নরাবো, কুশাব, আইতলা, ডুলুরদিয়া,তারাবো, বরপা, ভুলতা ও গোলাকান্দাইল, মধ্যপাড়া, দক্ষিণপাড়া, নাগেরবাগ, বৌবাজার, বাগমোর্চা, খালপাড়, ইসলামবাগ, নতুন বাজার, কান্দাপাড়া, বলাইখা, বিজয়নগর, মদিনানগর, তারাবো পৌরসভার তেঁতলাবো, শান্তিনগর, বাগানবাড়ি, পশ্চিম কান্দাপাড়া, উত্তর মাসাবো, যাত্রামুড়া, রূপসী ও ভূলতা ইউনিয়নের মাঝিপাড়া, সোনাব, পাচাইখা ও ইসলামপুরসহ আশপাশের এলাকায় এখন জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বাড়ির উঠোনেই পানি হাঁটু পরিমাণ। অনেকের বসত ঘরে ২-৩ ফুট পানি। রাস্তা ঘাট তলিয়ে গেছে। কোনও কোনও স্থানে নলকূপ পানিতে তলিয়ে গেছে। সেসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। এ ছাড়া শিল্প-কারখানার নির্গত কেমিক্যাল ও দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানির দূষণে রোগাক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গিয়েছে, উপজেলার নিচু এলাকার মানুষ পানি-বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। জলাবদ্ধতায় অতিকষ্টে চলছে নিম্নআয়ের মানুষের জীবন। কারখানার নির্গত বর্জ্য জলাবদ্ধ পানিতে মিশে কুচকুচে কালো রঙ ধারণ করেছে। এ পানিতে হাঁটাচলা করতে গিয়ে মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পানির কীট-পতঙ্গসহ মাছ মরে যাচ্ছে। আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশন খাল গুলো অবৈধভাবে দখল ও ভরাটের কারণে বৃষ্টি হলেই উপজেলার নির্মাঞ্চল গুলিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এদিকে তারাবো পৌরসভা, ভুলতা ইউনিয়ন, মুড়াপাড়া ইউনিয়ন ও কাঞ্চন পৌর এলাকা সহ বেশ কিছু জায়গায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রভাবশালী মহল কর্তৃক খাল দখল ও ভরাটের কারণে অল্প বৃষ্টিতেই তৈরি হচ্ছে এই জলাবদ্ধতা।
শান্তিনগর এলাকার গৃহিণী সাদিয়া আক্তার বলেন, ঘর থেকে বের হতে পারছি না। চুলায় আগুন জ্বালাতে পারি না। বিশুদ্ধ পানি নেই।
আমাদের বাড়িঘরে হাঁটুসমান পানি উঠেছে। জলাবদ্ধতার কারণে বাড়ির অনেক ভাড়াটিয়া এ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। ঠান্ডা,সর্দি, চর্ম ও পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে।
কর্ণগোপ এলাকার বাসিন্দা মাও: মারুফ বলেন, এখানে নিচু জমির মূল্য তুলনামূলক কম। এতে নিন্ম আয়ের মানুষজন এসব এলাকায় জমি কিনে বসতি গড়েছেন। প্রতিবছর বর্ষা এ সময়টাতে তারা ভোগান্তিতে পড়েন। খাল দখল দূষণের সৃষ্ট জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে তাদের এ দুর্দশা আরো অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত প্রদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তেতলাব এলাকার মোবারক হোসেন বলেন, ১৪-১৫ বছর ধরে এখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে আমাদের বাঁচতে হচ্ছে।
কালাদী এলাকার আলী হোসেন বলেন, অল্প বৃষ্টি হলেই আমাদের রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। আমাদের খাল নেই, খাল গুলো বিভিন্ন প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান দখল করে রেখেছে। এতে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতা রূপ নিচ্ছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাদল কুমার সাহা বলেন, ইদানিং চর্ম ও পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমরা তাদের চিকিৎসা ও ওষুধপত্র দিচ্ছি। তবে, ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি থেকে সকলকে সাবধান থাকতে হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ইউ এনও) সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।