বিশেষ সংবাদ :
(নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ প্রতিনিধি)
সামান্য বৃষ্টিতে বেড়িবাধঁ এলাকার ভেতরে সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। ডুবছে রাস্তাঘাট, ডুবছে ঘরবাড়ি। শিক্ষাঙ্গনে যেতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। ছড়াচ্ছে পানিবাহিত রোগ-জীবানু। প্রতি বছরই এমন ভোগান্তিতে পরছে প্রায় ৮/১০ গ্রামের হাজারো মানুষ। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা কাঞ্চন, কালাদী, নলপাথর, ডুলুরদিয়া, টেকপাড়া, মুড়াপাড়া-গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের হাটাব, বারুইপাড়, আমলাব, পিঠাঘুড়ি এলাকায় এমন চিত্রের দেখা মিলে।
জানাযায়, গত ১৯৮৬ সালে জাইকার অর্থায়নে এসকল এলাকায় অধিগ্রহনের মাধ্যমে বানিয়াদী থেকে গোলাকান্দাইল ও কাঞ্চন কালাদী থেকে গোলাকান্দাইল পর্যন্ত ২টি বড় খাল এবং এলাকার ভেতরে সুতালরির খাল, দাগিরমার খাল, মাউচ্চা বিলের খাল, কানী বিলের খাল ও টাটকির খালসহ ৬/৭ টি শাখা খাল খনন করা হয়।
বেড়িবাধঁ এলাকায় বর্ষায় পানি নিস্কাশন আর আবাদ মৌসুমে চাষাবাদের সুবিধার্থে বানিয়াদী এলাকায় তৈরি হয় সুইচ গেইট। সেখানে বসানো হয় ৪ টি সেচ পাম্প। এছাড়াও প্রতিটি শাখা খালকে সুইচ গেইটের মাধ্যমে শীতলক্ষ্যা নদীর সাথে সংযোগ করা হয়। খালগুলো রক্ষনাবেক্ষন না থাকায় বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে ভরাট কিংবা দখল হয়ে যায়।
সরেজমিনে ঘুড়ে দেখা যায়, কাঞ্চন কালাদী থেকে গোলাকান্দাইল পর্যন্ত খালটি ভরাট করে ঢাকা বাইপাস প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়, তাতে খালটি বিলীন হয়ে পড়ে। কাঞ্চন দক্ষিণ বাজার এলাকায় উকিল বাড়ির প্রশস্ত খালের উপর গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অর্ধশত অবৈধ স্থাপনা। টেকপাড়া থেকে পিঠাগুড়ি পর্যন্ত শাখা খালের উপর নির্মাণ করা হয় অবৈধ বাগান বাড়ি। ডুলুরদিয়া এলাকায় সেচ খালের উপর অবৈধভাবে বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। বানিয়াদী সুইচ গেইট থেকে গোলাকান্দাইল অব্দি বড় খালের উপর বর্জ্যস্তুপ, অবৈধ পাকা স্থাপনা, গৃহস্থালীর ময়লা আবর্জনা ফেলে ভরাট করার ফলে পানির চলাচল কমে গেছে।
এছাড়াও গোলাকান্দাইল থেকে ব্রক্ষ্যপুত্র নদী পর্যন্ত খালের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখলদারের কারণে ব্যহত হচ্ছে পানির চলাচল। টাটকির খাল, সুতালরির খাল, দাগিরমার খালে বিভিন্ন ফ্যাক্টরির অবৈধ দখলদার এবং ওই সকল ফ্যাক্টরির ময়লা পানি আটকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
এশিয়ান বাইপাস রাস্তার পাশে গড়ে ওঠেছে বেশ কয়েকটি বালু গদি। যেখানে বালুর ৩ গুন পানি বেড়িবাধঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। বড় খাল এবং শাখা খালের বিভিন্ন স্থানে পানি বাধাঁপ্রাপ্ত হয়ে উজানের পানি বানিয়াদীর খালে নামতে পারছে না। ফলে সুইচ গেইন এবং সেচ পাম্প থাকা স্বত্তেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, সরকারি অর্থায়নে অধিগ্রহণকৃত খালগুলো উদ্ধার করে পুনঃখনন করতে হবে। সড়কে দখলকৃত খালের বিকল্প খাল খনন করতে হবে। খালের উপর অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছ্বেদ করতে হবে। খাল খননের মাধ্যমে উজানের পানি বানিয়াদী খালে পৌছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রতিটি খাল পরিষ্কার রাখা, নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর তদারকি করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সরকারি খালে অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে কঠোর ভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিটি বালুর গদির হাজার হাজার মেট্রিকটন পানি নামানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
স্থানীয় গ্রামবাসীর দাবী, বর্ষা মৌসুমে প্রশাসন এসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেই ক্ষান্ত। স্থায়ী কোন সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছে না কেউ। জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহনকৃত খালগুলো উদ্ধার করে পুনঃখননের মাধ্যমে বানিয়াদী সুইট গেইটের সাথে খালগুলোর সংযোগ চান এলাকাবাসী। সেই সাথে বানিয়াদী সুইচ গেইটের মাধ্যমে শীতলক্ষ্যা নদীতে পানি নিস্কাশন করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রতিটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে মিটিং করা হয়েছে। যার যার অবস্থান থেকে খালের উপরের অবৈধস্থাপনা স্বইচ্ছায় সরিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের কে নির্দিষ্ট সময় দেয়া হয়েছে। তাতে কাজ না হলে অভিযান চালিয়ে সকল অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হবে।