বিশেষ সংবাদ :
(নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ)
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জের গাউছিয়া এলাকা ফের হকারদের দখলে চলে গেছে| সড়কের দুই পাশে কাঁচাবাজার, মাছ, সবজি, কাপড়, জুতা ও ফলের পসরা সাজিয়ে ব্যবসায়ীরা কেনাবেচা করছেন| ১ মাস উপজেলা প্রশাসণের উদ্যোগে গাউছিয়ায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়| আবার দখল করে ফেলেছে ফুটপাত| এ কারণে যান চলাচলের জন্য জায়গা থাকে খুবই কম| মহাসড়ক এখন সরু পথে পরিণত হয়েছে| উচ্ছেদ আর দখলের খেলায় বড় বাধা বিশাল অঙ্কের টাকার বাণিজ্য বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন|
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রূপগঞ্জের ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের পাশেই অবৈধ দখলদারদের রাজত্ব| মজিদপ্লাজা থেকে রেদোয়ান টাওয়ার পর্যন্ত মহাসড়কের একপাশে কাঁচাবাজার ও অপর পাশে কাপড়, জুতা, ফলের দোকানদারদের দখলেই থাকে| ভুলতা ও গোলাকান্দাইল ফ্লাইওভারের নিচে প্রতিনিয়ত বসছে কলা, ডাব ও আখ বিক্রেতাদের শতাধিক ভাসমান দোকান,লেপতোষকের দোকান, শতাধিক রেন্ট এ কার| মহাসড়ক অরক্ষিত থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে| এছাড়াও মহাসড়ক জুড়ে পিকআপ ভ্যান, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার,মেঘলা,গাউছিয়া পরিবহন, গ্লোরি,ডিটিএল,বাস কাউন্টার সহ একাধিক স্ট্যান্ড রয়েছে| ফলে যানজট নিরসন করা যাচ্ছে না| চার লেন সড়কের তিন লেনই দখলে|
মহাসড়ক দখল করে নতুন দোকান বসাতে অগ্রিম ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা কোন কোন ক্ষেত্রে ৫০হাজার টাকা এবং পরিচ্ছন্নতার খরচের কথা বলে প্রতিদিন অবৈধ দখলদারদের ৩০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে|
দীর্ঘদিন ধরে চলমান উচ্ছেদ অভিযান সত্ত্বেও কেন ফুটপাত ও মহাসড়ক দখলমুক্ত হচ্ছে না এবং এই অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের পেছনে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত বলে এলাকাবাসী মনে করছেন|
রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সেপ্টে¤^র মাসে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে| মাস না পেরুতেই আবার বেদখল হয়ে পড়ে| বছরের অধিকাংশ সময়ই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা থেকে বরপা ও রূপসী পর্যন্ত অসহনীয় যানজট থাকে| একটা চক্র ফুটপাত দখল করে দোকানপাট বসিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে|
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম আব্দুল্লাহ-বিন-শফিক নতুন যোগদান করা পর এখনো দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়নি| সে কারণে দখলদাররা যেন মহাসড়ক দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে|
ভুলতা হাইওয়ে পুলিশের ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, মহাসড়কের নিরাপত্তার ¯^ার্থে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত আছে| মহাসড়কের প্রসস্থকরণের কাজ শেষ হলে যানজট থাকবে না| হাইওয়ে পুলিশ সবসময় পথচারী ও যাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে|
রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গাউছিয়ায় অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে|
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম আব্দুল্লাহ-বিন-শফিক বলেন, গত মাসে আমি এখানে যোগদান করেছি| জনদুর্ভোগ নিরসনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে ইতিমধ্যে আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি| সকল অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে শিগগিরই অভিযান শুরু হবে ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব|
রূপগঞ্জের সাংসদ মুস্তাফিজুর রহমান দিপু বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অবৈধ দখলদারদের পুনর্বাসন করে স্থায়ীভাবে যানজট নিরসন করা হবে|