1. abdullahharun2014@gmail.com : dailysarabela24 :
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১২ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
দৈনিক সারাবেলা ২৪ , সত্য সংবাদ প্রকাশে আপোষহীন visit . www.dailysarabela24.com অনলাইন ভিত্তিক নিউজ পোর্টাল সংবাদ পড়ুন ও মন্তব্য করুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের এড দিন , সংবাদ প্রকাশের জন্য যোগাযোগ করুন - ০১৯৭১-৮৪১৬৪২,০১৩২২-১৭৫০৫০
সংবাদ শিরোনাম:
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, খনন হচ্ছে ১৫০ টি কূপ: মাহ্দী আমিন রূপগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি ঘোড়াঘাট উপজেলায় মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত মধ্যপাড়া নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতির অবৈধ দৌরাত্বা রোধে গণস্বাক্ষরকারী কৃষক পরিবারদের মানববন্ধন রামপালে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম ও ছিনতাইয়ের প্রতিবাদে বাগেরহাটে সংবাদ সম্মেলন জলবায়ু বিপর্যয় রোধে উপকুল জুড়ে সবুজ বৃক্ষায়ন গড়ে তুলতে হবে উন্নয়নের যাতাকলে পিষ্ট জনজীবন, বিপন্ন শিল্প-বাণিজ্য এশিয়ান হাইওয়েতে কচ্ছপ গতি ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ ধীরে ধীরে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে বাগেরহাটে শাপলা তুলতে গিয়ে দুই শিশুর সলিলসমাধি ও ভ্যানচালকের রহস্যজনক মৃত্যু ‎ ‎ জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান

উন্নয়নের যাতাকলে পিষ্ট জনজীবন, বিপন্ন শিল্প-বাণিজ্য এশিয়ান হাইওয়েতে কচ্ছপ গতি

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৭ বার ভিউ

বিশেষ সংবাদ :

(নজরুল ইসলাম লিখন, এশিয়ান হাইওয়ে ঘুরে)

৫১ বছরের আয়মান বিবি। ভাড়ায় থাকেন করইতলায় সীমা নেই। সড়কের পাশে চা-রুটি আর পান বিক্রি করে আসছেন গত এক যুগ ধরে। এ আয়ের টাকা দিয়েই চলতো তার সুখের সংসার। সড়কের কারণে তার কপালে ভাঁজ পড়েছে।এখন আগের মত বেঁচাবিক্রি নেই। আয়মন বলেন, বাজান এহানে আইছিলাম বাঁচবার লেইগ্যা। অহন আরো মরার অবস্থা অইছে। দোহানে আগে ৪ হাজার টেকা বেঁচবার পারতাম।অহন ১৫শ’র বেশি বেঁচাকেনা অয় না। সংসার চালানই কষ্ট অইয়া গেছে। আবার ওষুধ খাওয়ার টেকা লাগে।

তার মতো এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের দুপাশে গড়ে উঠা শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর এখন মাথায় হাত। এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের উন্নয়ন কাজ কচ্ছপ গতিতে চলায় এর নেতিবাচক প্রভাব এখন জনজীবনে বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম অবহেলা এবং প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় থমকে গেছে রূপগঞ্জসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার চাকা।একদিকে ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ জনজীবন, অন্যদিকে লোকসানের ভারে পথে বসেছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা। কাঞ্চন সেতুর পূর্বপাশে সড়কের বেহাল দশা হলেও কাজ চলছে ধীরগতেতে। অথচ থেমে নেই টোল আদায়। শুধু যে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের এ অবস্থা তা-নয়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর অংশ থেকে পাঁচরুখী পর্যন্ত ৬ লেনের কাজ চলছে শম্ভুক গতিতে। দুই বছওে শেষ হওয়ার কথা কাজ চলছে দশ বছরে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উন্নয়নের জোয়ারে ভাসার কথা থাকলেও এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের নারায়ণগঞ্জের মদনপুর থেকে গাজীপুরের ভোগরা পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার এখন হয়ে দাড়িঁয়েছে জনদূর্ভোগের এক মরণফাঁদ। পিচঢালা পথের বুক চিরে ধুলার কুয়াশা আর কচ্ছপ গতির নির্মাণকাজে থমকে গেছে এ অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা। একদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম উদাসীনতা, অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা-এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে নিঃ¯^ হচ্ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। দিশেহারা হয়ে পড়ছেন বড় বড় শিল্পোদ্যোক্তারা। একটি মহাসড়ক সংস্কারের দীর্ঘসূত্রতা কীভাবে একটি সমৃদ্ধ জনপদকে দেউলিয়ার পথে ঠেলে দিচ্ছে, তারই আদ্যেপান্ত নিয়ে বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর ভোগড়া মোড়) থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলার মদনপুর(ঢাকা-চট্রাগ্রাম মহাসড়ক) পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৮ কিলোমিটার সড়কটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তরের কাজ চলছে। ২০১৮ সালে চুক্তি ¯^াক্ষরের পর ২০১৯ সাল থেকে কাজ শুরু হয়। প্রাথমিক লক্ষমাত্রা ছিলো ২০২৪ সালের মধ্যে কাজ শেষ করা। তবে জমি অধিগ্রহণ ও নানা জটিলতার কারণে মেয়াদ আরো বাড়ানো হয়েছে। শুরুতে এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিলো প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। মূলত বেসরকারি বিনিয়োগের বাইরেও সরকাওে নিজ¯^ ব্যয় এক হাজার কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। যা ২৫ বছরে পরিশোধ করবে সরকার। প্রকল্প বাস্তবায়নে রয়েছে চীনের সিচুয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ গ্রুপের পক্ষে মি. জোফাং এবং স্থানীয় অংশীদার হিসেবে আছে শামীম এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল হক ও ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কালাম হোসাইন। প্রকল্পের আওতায় গাজীপুরের ভোগড়া, মীরেরবাজার, বস্তুল, ধীরাশ্রম ও কাঞ্চন সেতুর আগে নিমার্ণ করা হবে ৫ টি ফ্লাইওভার ও ২৫ টি আন্ডারপাস।
সোববার সকালে কাঞ্চন সেতুর পূর্বপাশে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের কাজ চলছে ঢিমেতালে। সড়কের বেহাল দশার কারণে মায়ারবাড়ির আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হোটেল-রেস্তোরা, ক্ষুদ্র ব্যবসা লাটে উঠেছে। বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে কাঁচামাল বোঝাই ট্রাক লোড-আনলোড করতে পারছে না। এখানকার জমজম ও তিন কন্যাসহ তিনটি হোটেল বন্ধ হয়ে গেছে। চা, মুদি-মনোহরী দোকানগুলোতে আগের মতো বেচাকেনা হচ্ছে না। মায়ার বাড়ি এলাকায় বসবাস করেন হাবিবুর রহমান। তিনি একজন চাকুরীজীবি। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, সেতুর অংশটুকু প্রায় আধা কিলোমিটার| অথচ এখানকার নির্মাণ কাজ চলছে থেমে থেমে| কেউ কিছু বলাল নেই| ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে উঠেছে| বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে এর আশপাশে| সড়কের বাজে অবস্থার কারণে বড় ট্রাকগুলো আসতে সমস্যা হচ্ছে| অথচ টোল আদায় ঠিকই হচ্ছে|
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সড়কের এই বেহাল অবস্থার পেছনে রয়েছে সুসংগঠিত সিন্ডিকেট| পিচ ও পাথরের মিশ্রণে কারিগরি মান বজায় না রেখে অতি নিন্মমানের বিটুমিন ব্যবহার করা হচ্ছে| গ্রেডের পাথরের বদলে নিম্মমানের লোকাল খোয়া এবং বালু ব্যবহার করা হচ্ছে| বেশ কিছু স্থানে গার্ডার ভেঙ্গে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে| পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই গাউসিয়া থেকে মদনপুর পর্যন্ত পানি জমে থাকে| কাজ সমাপ্ত হওয়ার আগেই ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে| প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের প্রতি কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ ব্যয় ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি, যার বড় একটি অংশই অপচয় ও দুর্ণীতির পকেটে যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন|

অভিযোগ রয়েছে, সড়কের উন্নয়ন কাজ ধীরগতিতে চললেও টোল আদায়ে কোনো ঘাটতি নেই| স্থানীয়রা অভিযোগ তুলে বলেন, সংস্কারের নামে আগের রাস্তার পিচ ও খোয়া তুলে ফেলে না দিয়ে, তা-ই আবার নতুন স্তরে মিমিয়ে দেওয়ার প্রমাণ রয়েছে কালের কণ্ঠের হাতে| স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী মাটির কম্প্যাকশন না করেই তড়িঘড়ির করে পিচঢালাই দেওয়া হয়| নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, এসব কাজ সব করা হয় রাতের আঁধারে|
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের চার লেনের কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এখনো অনেক জায়গায় কেবল খুঁড়োখুঁড়ির মধ্যেই সীমাবব্ধ| গোলাকান্দালের নীল ভিটা এলাকা থেকে শুরু করে মদনপুর পর্যন্ত এখনো এঁবড়ো-থেবড়ো অবস্থা| সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ ঢালাই না থাকায় প্রতিদিন শত শত যানবাহন ধুলার কুয়াশা ভেদ করে চলাচল করছে| ধুলার কারণে আশপাশের বাসিন্দারা শ^াসকষ্ট ও সর্দি-কাশিসহ নানা চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন| গোলাকান্দাইলের শীলপাড়া এলাকার শশী রাণী সাহা, কমলা রাণী সাহা বলেন, অনেক কষ্টে আছি| দিনরাইত বালু উড়ে| ভাতও খাইবার পারি না| বালু লাগে| কবে যে এই কাম শেষ অইবো ভগবানে জানে ?
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ভোগরা থেকে মদনপুর পর্যন্ত সড়কের ধারে কয়েক হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এখন নিঃ¯^| ধুলার কারণে দোকানের মালামাল নষ্ট হচ্ছে| আবার সড়কের দুরাবস্থার কারণে ক্রেতারাও দোকানে আসছে না| বরইতলা এলাকায় কথা হয় পঞ্চার্ধ্বো নারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নাসিমা বেগমের সঙ্গে| তিনি বলেন, বাজান রাস্তায় আমাগো কফালডা শেষ কইরা দিছে| আগে বেঁচবার পারতাম দিনে ৪ হাজার টেকা| আর অহন বেঁচবার পারি ১৫শ টেকা| তা-ও অনেক কষ্ট হয়| কাষ্টমার আহে না| রাস্তা খারাপ| আবার বালু ওড়ে| পলখান এলাকার বিসমিল্লাহ হোটেলের মালিক রবিউল মিয়া আরো এক বছর আগে হোটেল বন্ধ করে এখন অটো চালান| খুঁজে বের করে কথা হয় তার সঙ্গে| তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বলেনতো ভাই এই সড়কটা অইতে এতো বছর লাগে ক্যান| হেরা কি করে ? রাস্তার কারণে কাষ্টমার নাই| হোটেলডা বন্ধ করছি এক বছর অইছে| আগে ধুমছে বেচাকেনা অইতো| যেই রাস্তার কাম শুরু অইলো হেরপরতে কাষ্টমার নাই| এহন হোটেল বন্ধ কইরা অটো চালাই| এটা শুধু নাসিমা কিংবা রবিউল মিয়ার ক্ষোভ নয়| তাদেও মতো হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ক্ষোভ|
বেহাল সড়কের কারণে শুধু যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নিঃ¯^ হয়েছেন তা নয়, বড় বড় শিল্পোদ্যোক্তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন| সড়কের পাশে গড়ে উঠা বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠিগুলো এখন বড় ধরণের লোকসানের মুখে পড়েছে| ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে কাঁচামাল বহনকারী ট্রাক ও কন্টেইনার যখাসময়ে কারখানায় পৌঁছাতে পারছে না| যেখানে এক ঘন্টার পথ, সেখানে সময় লাগছে চার থেকে পাঁচ ঘন্টা| যথাসময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় অনেক উদ্যোক্তা বিদেশি বা স্থানীয় বড় অর্ডার হারাচ্ছেন| উৎপাদন খরচ বাড়লেও সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বড় শিল্পকারখানাগুলো এখন দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম| কথা হয় পূবাইল মনীষা এপারেলের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জহিরউদ্দিনের সঙ্গে| তিনি বলেন, রাস্তা মেরামতের কারণে দীর্ঘদিন ধইরা ট্রাক ঢুকবার পারে না| বাড়তি খরচ লাগতাছে| কবে যে ঠিক অইবো আল্লাহই জানে| স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, সড়কের এই খারাপ অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনের সময় বেশি লাগছে এবং খরচ বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর|
স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার কোন তাগিদ নেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের| কাজ চলাকালীন বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা কিংবা ধুলা নিরারণে নিয়মিত পানি ছিটানোর কথা থাকলেও তা নামমাত্র করা হচ্ছে| সড়কের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিতো আছেন ৬০ বছর বয়সী পানজোড়া এলাকার নিরাপত্তা প্রহরী কফিল কাজী| তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, হেরা এহান দিয়া একটু কাম করে| আবার যায়গা পলহান| আবার রাতুরা| ইঞ্জিনিয়ার তো কয়েকটা| রাস্তা প্রথমতেই খারাপ করছে| আগের রাস্তা বাদ দিয়ে অন্য দিয়া রাস্তা নিছে| হেরা কিয়ের লেইগা করলো হেরাই জানে| বরইতলার কালভার্টটা কয়েকবার ভাঙছে, কয়েকবার করছে|
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এশিয়ান হাইওয়ে কেবল একটি সড়ক নয়, এটি আঞ্চলিক বাণিজ্যের অন্যতম ধমনী| কিন্তু গত এক যুগের পরিসংখ্যান বলছে, এই ধমনী এখন সাধারণ মানুষের রক্তে রঞ্জিত| রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ও যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্যানুযায়ী, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে গত এক যুগে ছোট-বড় প্রায় ১২শ’র উপড়ে দূর্ঘটনা ঘটেছে| এতে এক যুগে অন্তত ৭৫০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন| আর ২৫শ’র অধিক মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন বা গুরুতর আহত হয়েছেন| অনুসন্ধানে জানা গেছে, সড়কের জিন্দা পার্ক থেকে উলুখোলা পর্যন্ত এলাকায় রাতে পর্যাপ্ত ল্যাম্পপোষ্ট বা আলোর ব্যবস্থা নেই, যা দূর্ঘটনার প্রধান কারণ| আর ভোগরা থেকে মদনপুর পর্যন্ত অন্তত ১৫ টি স্থানে ডিভাইডার ভেঙ্গে অবৈধ ইউ-টার্ন ˆতরি করা হয়েছে, যেখানে হঠ্যাৎ করে ছোট গাড়ি ঢুকে পড়ায় বড় দূর্ঘটনা ঘটে| দীর্ঘদিন এউ রুটে গাড়ি চালানো ফজলউদ্দিন বলেন, রাস্তা তো নয়, যেনো যমদূত| গাড়ির সাসপেনশন দুই মাসও টিকে না| আমরা ফতুর অইয়া যাচ্ছি| ভাঙাচারো রাস্তা আর সরু রাস্তার কারণে মালবাহী ট্রাকগুলো ¯^াভাবিক গতিতে চলতে পারছে না, যার ফলে সৃষ্টি হয় মাইলের পরম াইল দীর্ঘ যানজট| নিরাপদ সড়ক চাই ও হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাঁচরুখি থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত মহাসড়কে গত এক যুগে ১২৫০ দূর্ঘটনা ঘটেছে| গড়ে প্রতিবছর এই এলাকায় ২৫ থেকে ৩০ জন প্রাণ হারান| সেই হিসাবে গত এক যুগে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ| আর আহতের সংখ্যা প্রায় ১১শ|
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভোগড়া থেকে মদনপুর পর্যন্ত অংশটি পার হতে ¯^াভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সময় লাগে| পণ্যবাহী ট্রাক যেখানে একটি ট্রপি সম্পন্ন করতে ২ ঘন্টা লাগার কথা, সেখানে লাগছে ৬ ঘন্টা| কারখানার উৎপাদনশীলতা কমপক্ষে ৩ ঘন্টা হ্রাস পাচ্ছে| যানজটে দাঁড়িয়ে থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ লিটার অতিরিক্ত জ্বালানি পুড়ে যাচ্ছে| এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিদিন এই রুটে যাতায়াতকারী কয়েক লাখ মানুষের গড়ে ৩ ঘন্টা সময় নষ্ট হচ্ছে| এতে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ কর্মঘন্টা অপচয় হচ্ছে, যার আর্থিক মূল্য প্রতিদিন ২৫ কোটি টাকা|
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রকল্পের ভোগড়া থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার অংশ আংশিক খুলে দেওয়া হয়েছে| মীরের বাজারের এক পাশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে| উলুখোলা, মীরের বাজার ও ভোগড়া এলাকায় এখনো অনেক কাজের বাকী রয়েছে| আর রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল থেকে মদনপুর পর্যন্ত পুরো সড়করের কাজ শেষ করতে এখনো অনেক বাকী| মদনপুর এলাকায় কথা চা বিক্রেতা রহিম মিয়ার সঙ্গে| তিনি বলেন, বাজান, এই সড়ক মানুষের জান শেষ কইরা পালাইছে| চইলা শান্তি নাই| ধুলা আর মেঘ অইলে কাঁদা| বেচাকেনা নাই| সব শেষ|
এশিয়ান হাইওয়েকে ঘিরে এই অঞ্চলের মানুষের যে ¯^প্ন ছিলো তা এখন ধুলার স্তরে চাপা পড়েছে| সড়কের কচ্ছপ গতির কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের তিল তিল করে গড়া ¯^প্ন আজ ধুলোয় মিশছে, আর বড় শিল্পোদ্যোক্তরা দেউলিয়া হওয়ার প্রহর গুনছেন| উন্নয়নের নামে এমন দীর্ঘসূত্রতা আর প্রশাসনের এই অনড় নীরবতা কেবল প্রকল্পের খরচই কাড়াচ্ছে না, বরং একটি সমৃদ্ধ জনপদকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে| এখন প্রশ্ন হলো- ঠিকাদারের এই ¯ে^চ্ছাচারিতার অবসান ঘটবে কবে? আর কতো লোকসান গুনলে টনক নড়বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ?
এদিকে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর ইন্টারসেকশন থেকে ছনপাড়া বাসষ্ট্যান্ড পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার জয়েন্ট ভেঞ্চারে কাজ করছে এলআরবিসি-এমআইএল| এর চুক্তিমূল্য ৮৮৬ কোটি টাকা| এর অগ্রগতি হয়েছে ২২ দশমিক ৬০ শতাংশ| এ মহাসড়টিতেও এখন ভোগান্তির শেষ নেই| প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকে|
নারায়ণগঞ্জ সড়ক অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, এমন একটা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে| পরিকল্পনা কি, কবে শেষ হবে এসব আমাদের জানা নেই| আমরা এর দায়িত্বে নেই| প্রকল্পের সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট তাদের সাথে যোগাযোগ করেন|
প্রকল্পের পরিচালক বলেন,
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবীর বলেন, আসলে এসব ক্ষেত্রে সরকারী কাজগুলো তাদের প্যার্টানে চলে| আমরা সাধারণত ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও যানজটের বিষয়টা দেখি| এবার ঈদে কিন্তু এশিয়ান হাইওয়ে কিংবা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট ছিলো না| আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি| সড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে একটু জটিলতা রয়েছে| জমির দাম নিয়ে আটকে আছে| তবে আমি ঠিক বলতে পারছি না কোন এলাকাটা| আশা করছি শীঘ্রই সমাধান হবে| যেহেতু এটা বড় একটা হাইওয়ে| সেহেতু দ্রুত যেনো কাজ হয় সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো| ###

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ©2024 -2026-ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Desing & Developed BY ThemeNeed.com